প্রাথমিক শিক্ষকদের যোগদান ১ অক্টোবর নির্ধারণ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫৭ বার

প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসানে যোগদানের নতুন তারিখ ঘোষণা করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ নিজ নিজ জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করবেন। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যোগদানের পর পর্যায়ক্রমে তাদের বিদ্যালয়ে পদায়ন সম্পন্ন করা হবে এবং পরে পেশাগত প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।

রোববার (২ আগস্ট) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-২ শাখা থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। উপসচিব রাজীব কুমার সরকারের স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিয়োগযোগ্য শূন্য পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের যথাসময়ে নিয়োগপত্র পাঠানো হবে। নির্ধারিত তারিখে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদানের পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে তাদের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হবে।

এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে গত কয়েক মাস ধরে চলমান অনিশ্চয়তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে নতুন অগ্রগতি এলেও নির্বাচিত অনেক প্রার্থীর মধ্যে এখনো মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কারণ এর আগেও কয়েক দফা সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে আলোচনা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বারবার পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে অনেক প্রার্থী দ্রুত যোগদানের প্রত্যাশা করলেও শেষ পর্যন্ত ১ অক্টোবর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে শনিবার (১ আগস্ট) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি ভার্চ্যুয়াল সভায় সম্ভাব্য যোগদানের তারিখ হিসেবে ২৯ অক্টোবর বিবেচনা করা হয়েছিল। বৈঠক শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, তদন্ত এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক ও প্রক্রিয়াগত দীর্ঘসূত্রতার কারণে নিয়োগ কার্যক্রম বিলম্বিত হয়েছে। তবে সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচিত শিক্ষকদের যোগদান ও পদায়নের ব্যবস্থা করতে চায়।

তবে মাত্র একদিনের ব্যবধানে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করে সেই সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সম্ভাব্য ২৯ অক্টোবরের পরিবর্তে প্রায় এক মাস আগেই, অর্থাৎ ১ অক্টোবর যোগদানের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি নির্বাচিত প্রার্থীদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর হলেও অনেকেই আরও আগে, বিশেষ করে আগস্ট মাসের মধ্যেই যোগদানের সুযোগ চেয়েছিলেন।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ১ অক্টোবর যোগদানের পর ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষককে পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হবে। পদায়ন শেষে তাদের জন্য বাধ্যতামূলক পেশাগত প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে, যাতে নতুন শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে দায়িত্ব পালনের আগে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারেন।

দীর্ঘ সময় ধরে নিয়োগ কার্যক্রম ঝুলে থাকায় নির্বাচিত প্রার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। চলতি বছরের এপ্রিল মাসের শেষ দিকে রাজধানীতে আন্দোলনও করেন তারা। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ ছিল, লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা এবং চূড়ান্ত ফল প্রকাশসহ সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও তারা দীর্ঘদিন ধরে যোগদান করতে পারছেন না। এতে অনেকে আর্থিক সংকট, মানসিক চাপ এবং পেশাগত অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

পরবর্তীতে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আশ্বস্ত করেছিলেন যে, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হলেই নির্বাচিতদের যোগদান করানো হবে। তিনি জানিয়েছিলেন, যোগদানের পর দ্রুত পদায়ন এবং পরবর্তী সময়ে পেশাগত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সর্বশেষ ঘোষিত সময়সূচি সেই প্রতিশ্রুতিরই বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক শিক্ষককে নিয়োগ ও পদায়নের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক প্রস্তুতি, শূন্যপদের সমন্বয়, জেলা পর্যায়ের কাগজপত্র যাচাই এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হয়েছে। এসব কাজ শেষ করেই নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী যোগদান কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত (এমসিকিউ) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়ে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। পরে ৮ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে সহকারী শিক্ষক পদে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করে।

শিক্ষাবিদদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকসংকট একটি বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন শিক্ষকরা দ্রুত দায়িত্ব গ্রহণ করলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদান কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নির্বাচিত প্রার্থীদের কর্মজীবনও আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।

তবে নির্বাচিত প্রার্থীদের একটি অংশ এখনো আগস্ট মাসের মধ্যেই যোগদানের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের দাবি, নিয়োগের সব ধাপ শেষ হওয়ার পরও আরও কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হওয়া অযৌক্তিক। অন্যদিকে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ১ অক্টোবর থেকেই যোগদান কার্যক্রম শুরু হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com