গণতন্ত্রে উত্তরণের একমাত্র পথ নির্বাচন: মির্জা ফখরুলের প্রত্যয়

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৬ আগস্ট, ২০২৫
  • ৬০ বার

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক ।একটি বাংলাদেশ অনলাইন

দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ঘোষণাপত্র নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দৃঢ়ভাবে ঘোষণা দিয়েছেন যে, বিএনপি নির্বাচন ব্যতীত অন্য কোনো রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় বিশ্বাস করে না। তিনি বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়া। গোটা জাতি এখন বিশ্বাস করে, একটি দ্রুত এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনই হচ্ছে বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ।”

বুধবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে দলটির পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস কর্তৃক ঘোষিত জুলাই ঘোষণাপত্র সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই মির্জা ফখরুল বলেন, “এই ঘোষণাপত্র বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়।” তিনি জানান, বিএনপি এই ঘোষণাকে ইতিবাচকভাবে দেখছে এবং এটিকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য একটি কার্যকর রোডম্যাপ হিসেবে বিবেচনা করছে।

তিনি আরও বলেন, “যারা হতাশ হয়েছেন, তারা সারাজীবন হতাশ থাকে। কিন্তু আমরা আশাবাদী। আমরা আশা করি, দেশের সব রাজনৈতিক শক্তি একটি পজিটিভ মনোভাব নিয়ে এই গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথকে পরিষ্কার করবে এবং জনগণের প্রত্যাশার প্রতি সাড়া দেবে।” এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, “ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর অতীত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে, তিনি কখনো এমন কিছু করবেন না যা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। বরং তিনি বিশ্বাসযোগ্যতা এবং নিরপেক্ষতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।”

বিগত বছরগুলোর রাজনৈতিক নিপীড়ন, দমন-পীড়ন এবং গণতন্ত্রহীনতার প্রেক্ষাপটে দেশের ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষের আন্দোলন ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে এক ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়, যার ফলে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে বাধ্য হন তৎকালীন শাসক শেখ হাসিনা। এই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মানুষের মাঝে এক নতুন আশার সঞ্চার ঘটে। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয় প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে, যিনি সকল রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক শক্তির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এক নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো বিনির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

এই ধারাবাহিকতায় ঘোষিত হয় বহুল আলোচিত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’, যেখানে আগামী নির্বাচনের রূপরেখা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিতকরণ, বিচার বিভাগীয় সংস্কার, মিডিয়ার স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক সহাবস্থানের অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিএনপি এই ঘোষণাপত্রকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানায় এবং মনে করে, এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি একটি নতুন যুগে প্রবেশ করবে।

বিএনপির মতে, এই রূপরেখা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হবে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার, যেখানে প্রতিষ্ঠিত হবে একটি সাম্যভিত্তিক, মানবিক ও ন্যায়বিচারপূর্ণ সমাজব্যবস্থা। তারা প্রত্যাশা করছে, এই গণতান্ত্রিক রূপান্তর শুধু নির্বাচনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা হবে একটি প্রগতিশীল রাষ্ট্রের রূপায়নের সূচনা।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “এই মুহূর্তে দেশকে যেভাবে একত্রিত করা প্রয়োজন, তার জন্য নেতৃত্ব, দূরদৃষ্টি ও রাজনৈতিক উদারতা আবশ্যক। বিএনপি এই রূপান্তরে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।” তার এই বক্তব্যকে পর্যবেক্ষকরা দেখছেন একটি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের বার্তা হিসেবে, যা আগামীর গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় একটি ইতিবাচক সঙ্কেত।

বাংলাদেশ যে এক জটিল সংকটকাল পেরিয়ে গণতন্ত্রের নতুন প্রভাতের দিকে এগোচ্ছে, মির্জা ফখরুলের এই ঘোষণাপত্রকে কেন্দ্র করে তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। নির্বাচনের প্রতি বিএনপির এই অবিচল আস্থা এবং ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রস্তাবিত রোডম্যাপ নতুন এক রাজনৈতিক বাস্তবতার সূচনা করেছে, যা দেশবাসীর প্রত্যাশা পূরণে কতটা সফল হবে—তা সময়ই বলে দেবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত