ইতিহাস গড়ে দেশে ফিরেছে অনূর্ধ্ব ২০ নারী ফুটবল দল: এএফসি এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের প্রথম প্রবেশ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১২ আগস্ট, ২০২৫
  • ৪৪ বার

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের নারী ফুটবলের জন্য এটি এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। প্রথমবারের মতো এএফসি অনূর্ধ্ব ২০ নারী এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়ে দেশে ফিরেছে আফঈদা খন্দকারের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল। লাওসে অনুষ্ঠিত বাছাইপর্বে অসাধারণ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তারা শুধু নিজেদের দক্ষতার প্রমাণই রাখেনি, বরং দেশের ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ও যুক্ত করেছে।

সোমবার (১১ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে দলকে বহনকারী বিমানটি। লাওস থেকে ব্যাংকক হয়ে ঢাকায় ফিরেছে পিটার বাটলারের শিষ্যরা। বিমানবন্দরে তাদের স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কয়েকজন কর্মকর্তা। তবে বিস্ময়করভাবে দেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আনুষ্ঠানিক কোনো সংবর্ধনার আয়োজন করেনি। ইতিহাস গড়া এই অর্জনের জন্য আফঈদা, তৃষ্ণা, শান্তি ও সাগরিকাদের কোনো প্রকার সম্মাননা বা পুরস্কারের বিষয়েও বাফুফের পক্ষ থেকে এখনও কোনো ঘোষণা আসেনি।

এই টুর্নামেন্টের বাছাইপর্বে বাংলাদেশ দল লড়াই করেছে আত্মবিশ্বাস ও কৌশলগত দৃঢ়তার সঙ্গে। মাঠে খেলোয়াড়দের চেষ্টায় প্রতিফলিত হয়েছে শৃঙ্খলা, মনোবল এবং টেকনিক্যাল উৎকর্ষ। নারী ফুটবলের অগ্রগতিতে এই সাফল্য নিঃসন্দেহে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। বাংলাদেশের নারী ফুটবল কাঠামোর জন্য এটি কেবল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিই নয়, বরং খেলোয়াড়দের মানসিক প্রেরণা জোগাবে ভবিষ্যতের আরও বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই ধরণের অর্জন কেবল ক্রীড়াক্ষেত্রে গর্বই নয়, বরং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়ন ও দৃশ্যমান উপস্থিতির প্রতীক। বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল এর আগেও দক্ষিণ এশীয় পর্যায়ে বেশ কয়েকটি শিরোপা জিতেছে, তবে এশিয়ান কাপে মূল পর্বে প্রবেশ তাদের আন্তর্জাতিক মানচিত্রে অবস্থানকে আরও দৃঢ় করবে।

বাফুফের আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে ক্রীড়া মহলে। অনেকেই মনে করছেন, দেশের জন্য এমন বিরল সাফল্যের পর খেলোয়াড়দের সম্মানিত করা জরুরি ছিল, যা ভবিষ্যতের তরুণ ক্রীড়াবিদদেরও অনুপ্রাণিত করত। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এবং পরে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই সাফল্যের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নারী ফুটবল নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এখন সকলের দৃষ্টি মূল পর্বের আসরে, যেখানে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে লাল-সবুজের এই বীরঙ্গনারা। ফুটবলপ্রেমীরা আশা করছেন, দেশের ইতিহাসে যুক্ত হওয়া এই নতুন অধ্যায় কেবল একটি সূচনা—যা ভবিষ্যতের আরও বড় অর্জনের পথ খুলে দেবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত