প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলির (বিআইটি) আদলে একটি স্বতন্ত্র কমিশন গঠনের দাবি নিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশন ৪৮ ঘণ্টা অতিক্রান্ত হয়েছে। এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকি শিক্ষার্থীরা চিকিৎসা নিয়ে পুনরায় অনশনস্থলে ফিরে এসেছেন। অনশনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে সংহতি জানিয়েছে শিক্ষার্থী সংগঠন ‘জুলাই ঐক্য’।
চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীরা হলেন লুৎফর রহমান, আহসান হাবিব ও আয়নান চৌধুরী, যারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর বাইরে তিন শিক্ষার্থী স্যালাইন নিয়ে এবং চার শিক্ষার্থী চিকিৎসা সেবা গ্রহণের পর অনশনস্থলে ফিরে এসেছেন।
অনশনরত শিক্ষার্থী আমানউল্লাহ খান জানান, ‘আমাদের ৪৮ ঘণ্টার অনশন কাটিয়ে গেলেও সরকার এখনো আমাদের দাবির প্রতি কোনো সাড়া দেয়নি, এমনকি খোঁজখবরও নেয়নি।’
গত রোববার দুপুর ১টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করছেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে পেশাগত ও একাডেমিক সমস্যায় ভুগছেন, কিন্তু কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেন।
শিক্ষক সংকট, আধুনিক ল্যাব সুবিধার অভাব এবং একাডেমিক মানের ঘাটতির মতো সমস্যা নিয়ে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তুষ্ট। তাদের দাবি, এসব সমস্যা অবিলম্বে সমাধান না হলে আন্দোলন চলবে এবং প্রয়োজনে তা আরও বিস্তৃত হবে।
সোমবার সকালেই ‘জুলাই ঐক্য’ সংগঠনের সংগঠক এবি জোবায়ের জাতীয় প্রেসক্লাবে এসে শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি সরকারের প্রতি দাবি মেনে নিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলনকে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি হিসেবে চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে, যদি তাদের দাবি শিগগির পূরণ না হয়। এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন শিক্ষাজীবনের মান উন্নয়নে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবাদের রূপ নিতে পারে বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সরকারের কাছে শিক্ষার্থীদের দাবি, পেশাগত ও একাডেমিক পরিবেশ উন্নয়নে এখনই কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন, যা দেশের প্রযুক্তি শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি করবে এবং ভবিষ্যতে দেশকে উন্নয়নের পথে নিয়ে যাবে।