মিরপুরে গ্রেপ্তার সাভারের স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪ বার
মিরপুরে গ্রেপ্তার সাভারের স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানীর মিরপুরের পাইকপাড়া এলাকা থেকে সাভার পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির আহমেদ লিটনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সাভার মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে ঢাকার ধানমণ্ডি থানায় করা জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলায় সাজা এবং সাভারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে একাধিক হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার নাসির আহমেদ লিটনের বয়স ৫০ বছর। তিনি সাভার পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হোসেন আলীর ছেলে এবং সাভার পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মিরপুরের পাইকপাড়ায় তার অবস্থানের তথ্য পাওয়ার পর স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া আমিনবাজার পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. জাকির আল আহসান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে নাসির আহমেদ লিটনকে গ্রেপ্তারে তৎপরতা চলছিল। পরে তার অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পর বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, নাসির আহমেদ লিটনের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাজধানীর ধানমণ্ডি থানায় জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলা করা হয়। ওই মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৫ সালে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। একই সঙ্গে তিন হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

আদালতের ওই রায়ের পর তিনি নিয়মিতভাবে আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এরপর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পুলিশের দাবি, দীর্ঘ সময় তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।

সাভার মডেল থানা পুলিশ আরও জানিয়েছে, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সাভারে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় নাসির আহমেদ লিটনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। ওই সময়কার বিভিন্ন ঘটনার পর সাভার মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব মামলার মধ্যে অন্তত ১০টি হত্যা মামলা রয়েছে।

তবে এসব মামলায় তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি হয়েছে কি না, তা আলাদাভাবে বিবেচ্য। মামলা থাকা এবং আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার বিষয় এক নয়। ফলে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত মামলাগুলোতে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হবে।

পুলিশের দাবি, রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর নাসির আহমেদ লিটন দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে ছিলেন। সম্প্রতি তিনি আবারও সাভার এলাকায় যাতায়াত শুরু করেছিলেন বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তথ্য ছিল। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর কারণে তাকে গ্রেপ্তারে নজরদারি চালানো হচ্ছিল। পরে মিরপুরে তার অবস্থানের তথ্য পাওয়া গেলে সেখানে অভিযান চালানো হয়।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানিয়েছেন, নাসির আহমেদ লিটনের বিরুদ্ধে সাভারে সংঘটিত ছাত্র হত্যা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার অভিযোগ রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাভার মডেল থানায় দায়ের হওয়া ১০টি হত্যা মামলার পাশাপাশি রাজধানীর ধানমণ্ডি থানার মামলায় তিনি সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর নাসির আহমেদ লিটনকে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নেওয়া হবে।

নাসির আহমেদ লিটনের গ্রেপ্তারকে ঘিরে সাভারের রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সাভারে সংঘটিত সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় রয়েছে। এসব মামলায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম আসায় তদন্তের অগ্রগতি এবং অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সাভার ও আশপাশের এলাকায় ওই সময়ের সহিংসতার ঘটনায় একাধিক মামলা হয়েছে। এসব মামলায় কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তার ভূমিকা যাচাই করার কথা বলছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একই সঙ্গে আদালতের মাধ্যমে অভিযোগের বিচারিক মূল্যায়ন হওয়ার বিষয়টিও আইনগত প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

নাসির আহমেদ লিটনের ক্ষেত্রে পুরোনো প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলায় আদালতের দেওয়া সাজা এবং পরবর্তী সময়ে সাভারে দায়ের হওয়া হত্যা মামলাগুলো আলাদা আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়। একটি মামলায় সাজা হওয়া এবং অন্য মামলাগুলোতে অভিযোগ থাকা—দুই বিষয়কে পৃথকভাবে বিবেচনা করতে হবে। পুলিশ বলছে, তাকে গ্রেপ্তারের পর সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর আইনগত প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে নেওয়া হবে।

মিরপুরের পাইকপাড়া থেকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা নাসির আহমেদ লিটনের অবস্থান প্রকাশ্যে আসে। এখন তার বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন মামলার তদন্ত, আদালতের কার্যক্রম এবং পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের ওপরই নির্ভর করবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত পরিণতি। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতে আদালতের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে আইনগত নিরপেক্ষতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত