প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী এলাকায় বরগুনা-বাকেরগঞ্জ মহাসড়কের অনির্ধারিত বিভিন্ন স্থানে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানোর কারণে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। নির্দিষ্ট কোনো বাসস্ট্যান্ড না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের ওপরই যাত্রী ওঠানো-নামানোর কাজ চলছে। ব্যস্ত সময়ে একই স্থানে একাধিক বাস ও অন্যান্য যানবাহন থামায় সড়কে তৈরি হচ্ছে ধীরগতি, আর ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারী ও অন্যান্য যানবাহনের চালকদের।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সুবিদখালী সরকারি ডিগ্রি কলেজসংলগ্ন মহাসড়কের একটি অংশে নিয়মিত বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো হয়। কোনো কোনো বাস যাত্রী ওঠানোর পর দ্রুত চলে গেলেও কিছু বাস সেখানে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে। এর সঙ্গে টেম্পো, ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশাও সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে যাত্রী সংগ্রহ করে। ফলে সড়কের একটি অংশ কার্যত অস্থায়ী বাসস্ট্যান্ড ও যাত্রী ওঠানামার জায়গায় পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে সংশ্লিষ্ট এলাকায় দেখা যায়, নির্ধারিত বাসস্ট্যান্ড না থাকলেও মহাসড়কের ওপর বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো হচ্ছে। বাস ঘোরানো কিংবা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার কারণে সড়কের একটি অংশে যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একই সময়ে বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহনগুলোকে পাশ কাটিয়ে চলতে হচ্ছে। এতে ব্যস্ত সময়ে সড়কে যানজটের পাশাপাশি সংঘর্ষের আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।
বিশেষ করে দুটি বা তার বেশি বাস একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। বাসের ফাঁক দিয়ে পথচারীদের সড়ক পার হতে হয়। অনেক সময় যাত্রীরা বাস ধরতে তাড়াহুড়ো করে মহাসড়কের মাঝামাঝি চলে আসেন। এর ফলে পথচারী, যাত্রী ও চলন্ত যানবাহনের মধ্যে দূরত্ব কমে গিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। শিক্ষার্থী ও বয়স্ক মানুষদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
সুবিদখালী এলাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন। উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ এই মহাসড়কের ওপর নির্ভরশীল। ফলে যাত্রীদের নিয়মিত ওঠানামার জন্য একটি নিরাপদ ও নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় ভোগান্তি শুধু স্থানীয়দের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; মহাসড়ক ব্যবহারকারী অন্যান্য মানুষকেও এর প্রভাব বহন করতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহীন ফরাজি বলেন, সড়কের ওপর বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানোর কারণেই ওই এলাকায় নিয়মিত যানজট সৃষ্টি হয়। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ মহাসড়কটি ব্যবহার করেন। তাই সেখানে একটি নির্দিষ্ট বাসস্ট্যান্ড থাকা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
যাত্রীদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট বাসস্ট্যান্ড ও যাত্রীছাউনি না থাকায় তাদের দীর্ঘ সময় খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। তীব্র রোদ কিংবা বৃষ্টির সময় এই অপেক্ষা আরও কষ্টকর হয়ে ওঠে। বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও অসুস্থ যাত্রীদের জন্য দীর্ঘ সময় মহাসড়কের পাশে অপেক্ষা করা অস্বস্তিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। যাত্রীদের সঙ্গে থাকা ব্যাগ ও অন্যান্য মালামাল নিরাপদে রাখারও পর্যাপ্ত সুযোগ নেই।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. নাসির হাওলাদার বলেন, প্রধান সড়কের ওপর বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো হলে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে। বাসের হর্ন ও যানবাহনের অতিরিক্ত শব্দে আশপাশের ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদেরও সমস্যায় পড়তে হয়। নির্দিষ্ট স্থানে বাস থামানোর ব্যবস্থা করা গেলে একই সঙ্গে যানজট ও জনদুর্ভোগ কমানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
স্থানীয়দের মতে, একটি মহাসড়কে যাত্রী ওঠানামার জন্য নির্ধারিত স্থান থাকলে যানবাহনের চলাচল অনেক বেশি সুশৃঙ্খল রাখা সম্ভব। নির্দিষ্ট বাসস্ট্যান্ডে বাস থামানোর ব্যবস্থা থাকলে চালকদেরও ইচ্ছামতো সড়কের যেকোনো স্থানে গাড়ি থামানোর প্রয়োজন হবে না। একই সঙ্গে যাত্রীদের জন্য অপেক্ষার জায়গা, ছাউনি এবং নিরাপদে সড়কে ওঠানামার ব্যবস্থা করা গেলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও কমবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সুবিদখালী এলাকায় মহাসড়কের পাশে যত্রতত্র যানবাহন দাঁড়ানোর প্রবণতা শুধু যানজটের সমস্যা তৈরি করছে না, এটি সড়ক নিরাপত্তার বিষয়েও উদ্বেগ তৈরি করছে। একটি বাস থামার পর পেছনে অন্য যানবাহন আটকে গেলে অনেক চালক পাশ দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে কখনো কখনো বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। পথচারীরাও তখন নিরাপদ জায়গা না পেয়ে ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পার হন।
এ পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সুবিদখালী এলাকায় একটি নির্দিষ্ট ও নিরাপদ বাসস্ট্যান্ডের ব্যবস্থা করুক। বাসস্ট্যান্ডের সঙ্গে যাত্রীদের জন্য ছাউনি, বসার জায়গা এবং নিরাপদ ওঠানামার ব্যবস্থা থাকলে মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি মহাসড়কের ওপর অনির্ধারিত স্থানে বাস ও অন্যান্য যানবাহন দাঁড় করানো বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. রাসেল বলেন, নির্দিষ্ট বাসস্ট্যান্ড না থাকায় মহাসড়কে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে। জনদুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
সুবিদখালীতে বাসস্ট্যান্ডের অভাবের বিষয়টি দীর্ঘদিনের জনভোগান্তির সঙ্গে যুক্ত হলেও এর সঙ্গে সড়ক নিরাপত্তার প্রশ্নও জড়িত। মহাসড়কের ওপর অনির্ধারিত স্থানে বাস দাঁড়ানোর কারণে একদিকে যেমন যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে ঝুঁকি বাড়ছে পথচারী ও যাত্রীদের। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা নিয়ে একটি নিরাপদ ও নির্দিষ্ট বাসস্ট্যান্ড স্থাপনের উদ্যোগ নেবে। এতে যাত্রীদের অপেক্ষার ভোগান্তি কমার পাশাপাশি মহাসড়কে যান চলাচল আরও সুশৃঙ্খল হবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমানো সম্ভব হবে।