চুয়েটে শাটডাউন, উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে গণস্বাক্ষর

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২ বার
চুয়েটে শাটডাউন, উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে গণস্বাক্ষর

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দ্বিতীয় দিনেও অব্যাহত রয়েছে। বুধবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক বন্ধ রেখে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচিও চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

সকাল ১১টা ২০ মিনিটের দিকে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি শুরু হয়। এতে শিক্ষার্থীদের সারিবদ্ধভাবে অংশ নিতে দেখা যায়। আন্দোলনকারীরা জানান, কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা নিজেদের পরিচয়পত্রের নম্বর উল্লেখ করে স্বাক্ষর দিচ্ছেন। সংগৃহীত এসব স্বাক্ষর পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবির পক্ষে শিক্ষার্থীদের অবস্থান তুলে ধরতেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে জানান তারা।

গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া যন্ত্রকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফারহান হাসনাত আদিব বলেন, গত ২১ সেপ্টেম্বর বিনা নোটিশে অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাতেই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তারা কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন। বুধবার আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের দাবি, অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে। আন্দোলনকারীরা বলছেন, গণস্বাক্ষরের মাধ্যমে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমর্থনও তুলে ধরতে চান। ইতোমধ্যে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকেও স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।

বুধবার সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। সেখানে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায় তাদের। মূল ফটক বন্ধ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক প্রবেশ ও চলাচল কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়ায় ক্যাম্পাসের নিয়মিত কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়েছে।

চুয়েটের বর্তমান পরিস্থিতির সূত্রপাত হয় ২১ সেপ্টেম্বর রাতে। ওই রাতে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। একই সময়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

উপাচার্য পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ওই রাতেই তারা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। বিক্ষোভ শেষে উপাচার্য ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।

এর পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে তাদের দাবি আদায়ের পক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। বুধবারও একই কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।

আন্দোলনকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের প্রধান দাবি একটিই—অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য পদে পুনর্বহাল করা। এই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবারের গণস্বাক্ষর কর্মসূচিকেও তারা সেই ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে দেখছেন।

শিক্ষার্থীদের এই কর্মসূচিতে গণস্বাক্ষর সংগ্রহের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সাধারণত কোনো দাবির পক্ষে অংশগ্রহণকারীদের সমর্থন দৃশ্যমান করতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। চুয়েটের আন্দোলনকারীরাও সংগৃহীত স্বাক্ষর কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে তাদের দাবির পক্ষে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পক্ষের অবস্থান তুলে ধরতে চাইছেন। এতে শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণও আন্দোলনের পরিসরকে দৃশ্যমান করছে বলে তারা মনে করছেন।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। প্রকৌশল শিক্ষার মতো নিয়মিত ক্লাস, ল্যাব, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমনির্ভর একটি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ সময় কার্যক্রম বন্ধ থাকলে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ক্যালেন্ডারে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী সেমিস্টার, পরীক্ষা বা নির্ধারিত একাডেমিক কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছেন, তাদের জন্য পরিস্থিতিটি বাড়তি অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা বলছেন, তাদের দাবি উপেক্ষা করা হলে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া ছাড়া তাদের সামনে বিকল্প নেই। তারা আপাতত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দাবি জানাচ্ছেন এবং গণস্বাক্ষরের মতো কার্যক্রমের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের কাছে নিজেদের অবস্থান পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

চুয়েটের মতো একটি বিশেষায়িত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের এমন আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টিকেও সামনে এনেছে। উপাচার্য নিয়োগ ও পরিবর্তনের মতো সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে যোগাযোগ, সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা এবং প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হলে তা দ্রুত ক্যাম্পাসে প্রতিক্রিয়ার কারণ হতে পারে। বর্তমান আন্দোলন সেই পরিস্থিতিরই একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদের কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তারা বলছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে। তবে আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবস্থানের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ তৈরি হলে একাডেমিক কার্যক্রম পুনরায় চালু করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এবং শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে স্বাক্ষর সংগ্রহের উদ্যোগ থেকে বোঝা যাচ্ছে, আন্দোলনকারীরা তাদের দাবির পক্ষে প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থনের একটি নথিভুক্ত চিত্র তৈরি করতে চাইছেন। সংগৃহীত স্বাক্ষর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর কথা জানিয়েছেন তারা। এরপর কর্তৃপক্ষ কীভাবে বিষয়টি বিবেচনা করে, সেটিই হবে আন্দোলনের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বর্তমানে চুয়েট ক্যাম্পাসে একদিকে উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছে, অন্যদিকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। মূল ফটকে অবস্থান এবং গণস্বাক্ষর কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি সামনে রাখছেন। আগামী দিনগুলোতে আন্দোলনের কর্মসূচি কতটা দীর্ঘ হয় এবং কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তার ওপর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরার বিষয়টি অনেকটাই নির্ভর করছে।

চুয়েটের শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, তাদের দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করা হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম যাতে দীর্ঘস্থায়ীভাবে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে বিবেচনায় রাখতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হলে শিক্ষার্থীদের দাবি উপস্থাপনের সুযোগ যেমন থাকবে, তেমনি চুয়েটের স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশও দ্রুত ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত