প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, কেরানীগঞ্জ থেকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া দুই বন্দীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে পৃথক সময়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদের মৃত্যু হয়। মৃত দুই বন্দী হলেন তোফাজ্জল ওরফে পলাশ (৩৮) এবং ইফতেখার মাহমুদ (৩৬)।
কারা সূত্র ও হাসপাতালসংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই বন্দীই অসুস্থ হয়ে পড়ার পর কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা নিতে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদের মৃত্যু ঘটে। তবে ঠিক কী ধরনের অসুস্থতায় তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ কী, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ বিষয়ে ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
কারা সূত্র জানায়, বুধবার রাতে বন্দী তোফাজ্জল ওরফে পলাশকে অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, কেরানীগঞ্জ থেকে কয়েকজন কারারক্ষী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
তোফাজ্জল ওরফে পলাশের বয়স ছিল ৩৮ বছর। তিনি রাজধানীর দারুস সালাম থানার বাগবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর বাবার নাম আলী হোসেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে, আরেক বন্দী ইফতেখার মাহমুদও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গত ১৯ সেপ্টেম্বর তাঁকে অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কয়েক দিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে আটটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
ইফতেখার মাহমুদের বয়স ছিল ৩৬ বছর। তিনি রাজধানীর মিরপুরের দক্ষিণ পীরেরবাগ এলাকায় বসবাস করতেন। তাঁর বাবার নাম মাহবুব আলম। অসুস্থ হওয়ার পর তাঁকে কারাগার থেকে হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং সেখানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছিল। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর অবস্থার অবনতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যু হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক মো. সেলিম হোসেন দুই বন্দীর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তাঁদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
দুই বন্দীর মৃত্যুর ঘটনায় তাঁদের স্বজনদের মধ্যে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কারাগারে থাকা অবস্থায় কোনো বন্দীর অসুস্থতা গুরুতর হলে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় কারাবন্দী থাকা ব্যক্তিদের শারীরিক অবস্থার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, প্রয়োজন অনুযায়ী হাসপাতালে পাঠানো এবং যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়টি কারা ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তবে এই দুই বন্দীর ক্ষেত্রে তাঁদের মৃত্যুর পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণ ছিল কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক নথি, চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন থেকে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে। ফলে ময়নাতদন্তের ফলাফল না আসা পর্যন্ত তাঁদের মৃত্যুর কারণ নিয়ে কোনো ধরনের অনুমান করা সমীচীন নয়।
এদিকে, তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি তোফাজ্জল ওরফে পলাশ এবং ইফতেখার মাহমুদ কোন কোন মামলায় কারাগারে বন্দী ছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে থাকা মামলার বিবরণ, তাঁরা বিচারাধীন বন্দী ছিলেন কি না কিংবা কোনো মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ছিলেন কি না, সে তথ্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই এবং কারা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, কেরানীগঞ্জ দেশের গুরুত্বপূর্ণ কারাগারগুলোর একটি। এখানে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার ও বিচারাধীন ব্যক্তিদের পাশাপাশি বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত বন্দীরাও থাকেন। কারাগারে থাকা ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য কারাগারের নিজস্ব ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে তাঁদের সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়। গুরুতর অসুস্থতা দেখা দিলে বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মতো প্রতিষ্ঠানে নেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।
বন্দীদের চিকিৎসা নিয়ে বরাবরই নিয়মিত স্বাস্থ্যপর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। কারণ কারাগারে থাকা অবস্থায় কোনো ব্যক্তির অসুস্থতার দ্রুত শনাক্তকরণ এবং যথাসময়ে চিকিৎসা দেওয়ার ওপর অনেক সময় তাঁর জীবন রক্ষা নির্ভর করতে পারে। একই সঙ্গে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসার ধারাবাহিকতা এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার যথাযথ নথিভুক্তিও গুরুত্বপূর্ণ।
তোফাজ্জল ওরফে পলাশকে বুধবার রাতে হাসপাতালে নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে ইফতেখার মাহমুদ কয়েক দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দুই মৃত্যুর সময়ের ব্যবধান এবং তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় আলাদা হলেও উভয় ক্ষেত্রেই অসুস্থতার পর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল বলে কারা সূত্রের তথ্য থেকে জানা যায়।
মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে এখন ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্বাভাবিক মৃত্যু, কোনো শারীরিক জটিলতা কিংবা অন্য কোনো কারণ—কোনটি তাঁদের মৃত্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল, তা চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরীক্ষার মাধ্যমেই নিশ্চিত করা সম্ভব। তাই মরদেহ মর্গে রাখার পর সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার অপেক্ষা করা হচ্ছে।
দুই বন্দীর মৃত্যুর ঘটনায় তাঁদের পরিবার ও স্বজনদের কাছে বিষয়টি নিঃসন্দেহে বেদনাদায়ক। কারাগারের বাইরে থাকা পরিবারের সদস্যদের কাছে প্রিয়জনের অসুস্থতার খবর যেমন উদ্বেগের, তেমনি মৃত্যুসংবাদ আরও গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে কারাবন্দী অবস্থায় কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে পরিবারের সদস্যদের কাছে মৃত্যুর কারণ ও চিকিৎসার বিষয়ে পরিষ্কার তথ্য পাওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষের পক্ষ থেকে মৃত্যুর বিষয়ে অভিযোগ বা সন্দেহের নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের পক্ষ থেকেও ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাখার কথা জানানো হয়েছে। ফলে তদন্ত বা ময়নাতদন্তের আনুষ্ঠানিক ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে দুই বন্দীর অসুস্থতার ধরন, তাঁদের চিকিৎসার নথি, কারাগারে তাঁদের অবস্থানকাল এবং মামলাসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেলে পুরো বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। আপাতত জানা তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের দুই বন্দী অসুস্থ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তাঁদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে এবং পরবর্তী প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।