দাউদকান্দিতে বাস উল্টে আহত ২৫ যাত্রী

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৩ বার
দাউদকান্দিতে বাস উল্টে আহত ২৫ যাত্রী

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর যাত্রীবাহী একটি বাস উল্টে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার ভেকিনগর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর বাসের ভেতরে আটকে পড়েন বেশ কয়েকজন যাত্রী। পরে স্থানীয় বাসিন্দা, হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে তাঁদের উদ্ধার করেন।

দুর্ঘটনায় আহত ২৫ জনকে চিকিৎসার জন্য দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গৌরীপুর হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অন্য আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরের দিকে রয়েল পরিবহনের একটি বাস ঢাকা অভিমুখে যাচ্ছিল। বাসটিতে প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিলেন। ভেকিনগর এলাকায় পৌঁছানোর পর বাসটির সামনে দ্রুতগতিতে একটি রিকশা চলে আসে। রিকশাটিকে রক্ষা করতে বাসচালক হঠাৎ ব্রেক করলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি মহাসড়কের মাঝখানে উল্টে যায় বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ।

বাসটি উল্টে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভেতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে বাসের ভেতরে আটকা পড়েন। দুর্ঘটনার পর তাঁদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে উদ্ধারকাজ শুরু করার পাশাপাশি হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন।

খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও দাউদকান্দি ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। বাসটি সড়কের মাঝখানে উল্টে থাকায় উদ্ধারকাজে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে একে একে বাসের ভেতরে আটকে থাকা যাত্রীদের বের করে আনেন। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

উদ্ধারের পর আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। গুরুতর আহত তিনজনের অবস্থা বিবেচনায় তাঁদের ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। অন্য আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

দুর্ঘটনার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওই অংশে যান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। উল্টে যাওয়া বাসটি মহাসড়কের মাঝখানে অবস্থান করায় দুই দিকের যানবাহন চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। একপর্যায়ে চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া থেকে দাউদকান্দির রায়পুর পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।

সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মহাসড়কে যানবাহনের চাপও বাড়তে থাকে। ফলে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি দ্রুত সরিয়ে নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে। হাইওয়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্টরা উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে বাসটি মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নিলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকা যাত্রী ও পরিবহনচালকদের ভোগান্তি পোহাতে হয়।

দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রেমদাস রায় জানান, বাসটি মহাসড়কের মাঝখানে উল্টে গেলেও যাত্রীদের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। দুর্ঘটনায় আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।

ওসি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর বাসটি উদ্ধার করে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর ফলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং বাসটির গতিবেগসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোও পুলিশ বিবেচনায় নিচ্ছে।

দুর্ঘটনাটি ঘটেছে এমন একটি সময়ে, যখন মহাসড়কে ভোরের যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহনের চলাচল শুরু হয়। মহাসড়কের মাঝখানে বাস উল্টে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে যান চলাচলের ওপর বড় প্রভাব পড়ে। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত তৎপরতায় আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার এবং বাসটি সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে আসায় উদ্ধারকাজে গতি আসে। অনেক ক্ষেত্রে সড়ক দুর্ঘটনার পর আহত ব্যক্তিদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব না হলে শারীরিক জটিলতা বাড়তে পারে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক সহযোগিতা এবং উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর তৎপরতায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।

তবে মহাসড়কে দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় জরুরি সেবা ও সাধারণ যাত্রীদের চলাচলেও সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়কপথ হওয়ায় এর কোনো অংশে দুর্ঘটনা ঘটলে অল্প সময়ের মধ্যেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হতে পারে। ভেকিনগরের দুর্ঘটনাতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে সামনে আসা রিকশাটিকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা এবং আকস্মিক ব্রেক করার বিষয়টি পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেলেও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ তদন্তের বিষয়। বাসের গতি, চালকের নিয়ন্ত্রণ, সড়কের পরিস্থিতি এবং দুর্ঘটনার সময় রিকশাটির অবস্থানসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করা হলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে।

দুর্ঘটনার পর আহতদের স্বজনদের অনেকেই হাসপাতালে ছুটে যান। ভোররাতে হঠাৎ এমন দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে আহতদের চিকিৎসার খবর পাওয়ার পর তাঁদের অনেকেই স্বস্তি পেলেও গুরুতর আহত তিনজনকে ঢাকায় পাঠানোর ঘটনায় পরিবারগুলোর মধ্যে নতুন করে উৎকণ্ঠা দেখা দেয়।

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চালকদের সতর্কতা, নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা এবং মহাসড়কে হঠাৎ কোনো যানবাহন সামনে এলে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাও দুর্ঘটনা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

দাউদকান্দির এ ঘটনায় ২৫ জন আহত হলেও বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটেনি। দ্রুত উদ্ধার তৎপরতার কারণে বাসের ভেতরে আটকে থাকা যাত্রীরা বেরিয়ে আসতে পেরেছেন। তবে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাঁদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে পরবর্তী সময়ে আরও তথ্য জানা যেতে পারে।

এদিকে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সরিয়ে নেওয়ার পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে প্রয়োজনীয় তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ ও দায় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে মহাসড়কে যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত