রোনালদোর মতো ৪১ বছর পর্যন্ত খেলা অসম্ভব: এমবাপ্পে

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১২ বার
রোনালদোর মতো ৪১ বছর পর্যন্ত খেলা অসম্ভব: এমবাপ্পে

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ফুটবল মাঠে বয়সকে যেন থামার কারণ হিসেবে মানতে রাজি নন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ৪১ বছর বয়সেও পর্তুগালের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সক্রিয় রয়েছেন তিনি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে একের পর এক রেকর্ড গড়া এই তারকার শারীরিক সক্ষমতা, পেশাদারিত্ব এবং মাঠে টিকে থাকার ক্ষমতা দীর্ঘদিন ধরেই ফুটবলবিশ্বে আলোচনার বিষয়। নিজের শৈশবের আদর্শ রোনালদোর এমন দীর্ঘ ক্যারিয়ার অবশ্য নিজের ক্ষেত্রে সম্ভব বলে মনে করছেন না ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে।

জার্মান সংবাদমাধ্যম বিল্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমবাপ্পেকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, রোনালদোর মতো ৪১ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি ফ্রান্সের হয়ে খেলতে পারবেন কি না। জবাবে রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড স্পষ্ট করে বলেন, ফ্রান্সের জাতীয় দলের হয়ে তাঁর ক্ষেত্রে এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

এমবাপ্পের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি যে দেশের জাতীয় দলের হয়ে খেলেন, সেই বাস্তবতা বিবেচনা করলে ৪১ বছর বয়স পর্যন্ত ফ্রান্সের জার্সিতে খেলা সম্ভব হবে না। নিজের বক্তব্যে তিনি হাস্যরসের সুরও রাখেন। একই সঙ্গে রোনালদোর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের প্রশংসা করে বলেন, শারীরিক ও মানসিকভাবে ফিট থাকলে একজন ফুটবলার দীর্ঘ সময় সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলে যেতে পারেন—রোনালদো সেটিই প্রমাণ করেছেন।

রোনালদোর সঙ্গে এমবাপ্পের সম্পর্কটি কেবল একজন তারকার প্রতি ভক্তির জায়গায় সীমাবদ্ধ নয়। তরুণ বয়স থেকেই পর্তুগিজ ফরোয়ার্ডকে নিজের আদর্শ হিসেবে দেখেছেন ফরাসি তারকা। রোনালদোর খেলার ধরন, গোল করার ধারাবাহিকতা এবং পেশাদার জীবনযাপন এমবাপ্পের ফুটবল-চিন্তায় প্রভাব ফেলেছে বলে বিভিন্ন সময় তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে।

তবে একই সঙ্গে এমবাপ্পে মনে করেন, প্রতিটি ফুটবলারের ক্যারিয়ারের পথ আলাদা। বয়স, জাতীয় দলের চাহিদা, শারীরিক সক্ষমতা, ম্যাচের সংখ্যা এবং সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া প্রতিযোগিতার ধরন—সবকিছুই একজন খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ার কতটা দীর্ঘ হবে, তা নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। ফলে রোনালদোর অসাধারণ দীর্ঘ ক্যারিয়ারকে নিজের ভবিষ্যতের জন্য সরাসরি মাপকাঠি হিসেবে দেখছেন না তিনি।

বর্তমানে ২৭ বছর বয়সী এমবাপ্পে নিজেই ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছেন। ক্লাব ফুটবলে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর তাঁর ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশংসা থাকলেও দলীয়ভাবে বড় শিরোপা জয়ের প্রত্যাশা এখনো আলোচনায় রয়েছে। নতুন মৌসুমের শুরুতেও সেই প্রত্যাশা তাঁর ওপর রয়েছে।

রিয়াল মাদ্রিদে এমবাপ্পের দায়িত্ব কেবল গোল করা নয়; দলের আক্রমণভাগে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি বড় ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার প্রত্যাশাও তাঁর ওপর রয়েছে। আন্তর্জাতিক ফুটবলেও একই ধরনের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ফ্রান্সের অধিনায়ক হিসেবে দলের তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা এবং মাঠে নেতৃত্ব দেওয়া তাঁর দায়িত্বের অংশ হয়ে উঠেছে।

ফ্রান্সের জাতীয় দলের দায়িত্বেও এবার এসেছে পরিবর্তন। দীর্ঘ সময় দলটির কোচের দায়িত্ব পালন করা দিদিয়ের দেশমের পর জিনেদিন জিদান দায়িত্ব নিয়েছেন। ফ্রান্সের ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম সদস্য জিদানের অধীনে জাতীয় দলের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। এমবাপ্পে এই নতুন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে রয়েছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে এমবাপ্পে জিদানের নেতৃত্ব নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। নতুন কোচ সম্পর্কে তিনি বলেন, জিদান অত্যন্ত বুদ্ধিমান এবং দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বড় সাফল্য অর্জনের পেছনে তাঁর এই গুণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। খেলোয়াড়দের কাছাকাছি থাকা এবং তাঁদের কাছ থেকে সেরাটা বের করে আনার ক্ষমতাও জিদানের রয়েছে বলে মনে করেন ফ্রান্সের অধিনায়ক।

এমবাপ্পের মতে, একজন কোচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গুণ হলো খেলোয়াড়দের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা এবং দলের সদস্যদের প্রতি সত্যিকারের আগ্রহ দেখানো। জিদানের মধ্যে তিনি সেই বৈশিষ্ট্য দেখতে পাচ্ছেন। তাঁর নেতৃত্বে ফ্রান্স নিজেদের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগোতে পারবে বলে দলটির ভেতরে প্রত্যাশা রয়েছে।

তবে নতুন কোচের অধীনে শুরুটা পুরোপুরি সহজ হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক বিরতির আগে এমবাপ্পে অসুস্থতার কারণে ফ্রান্সের একটি অনুশীলন সেশনে অংশ নিতে পারেননি। ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছিল, ফ্লু-জাতীয় উপসর্গের কারণে তিনি দলের সঙ্গে নির্ধারিত অনুশীলনে ছিলেন না। এ নিয়ে তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচের আগে তাঁর ফিটনেস নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

জিদানের অধীনে ফ্রান্সের প্রথম ম্যাচ তুরস্কের বিপক্ষে। এরপর দলটির সামনে রয়েছে বেলজিয়াম ও ইতালির মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ম্যাচ। নতুন কোচের প্রথম আন্তর্জাতিক পর্ব তাই দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অন্যদিকে, রোনালদোও ৪১ বছর বয়সে পর্তুগাল জাতীয় দলের সঙ্গে নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার চালিয়ে যাচ্ছেন। নতুন কোচ জর্জ জেসুসের ঘোষিত পর্তুগাল দলেও তাঁর নাম রয়েছে। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপকে নিজের শেষ বিশ্বকাপ হিসেবে উল্লেখ করার পর রোনালদোর ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটেই এমবাপ্পের মন্তব্যটি বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে। একদিকে রোনালদো বয়সের সীমাকে দীর্ঘদিন ধরে চ্যালেঞ্জ করে চলেছেন, অন্যদিকে তাঁরই আদর্শ হিসেবে বেড়ে ওঠা এমবাপ্পে নিজের ক্যারিয়ারকে ভিন্ন বাস্তবতায় দেখছেন। এতে দুজনের ফুটবল-দর্শনের একটি পার্থক্যও ফুটে ওঠে।

তবে এমবাপ্পে রোনালদোর দীর্ঘ ক্যারিয়ার নিয়ে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য করেননি। বরং তাঁর বক্তব্যে ছিল প্রশংসাই। তিনি স্বীকার করেছেন, শারীরিক ও মানসিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত রাখতে পারলে একজন ফুটবলার দীর্ঘ সময় সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারেন। রোনালদোর ক্যারিয়ার সেই সম্ভাবনার বাস্তব উদাহরণ বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

এমবাপ্পে নিজেও বয়সকে একেবারে সীমা হিসেবে দেখেন না। সম্প্রতি দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, প্রয়োজন হলে অনেক দীর্ঘ সময় খেলার কথা তিনি কল্পনা করতে পারেন, যদিও একই সঙ্গে একজন খেলোয়াড় কখন নিজের সেরা অবস্থায় নেই সেটিও বুঝতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন। অর্থাৎ দীর্ঘ ক্যারিয়ারের আকাঙ্ক্ষা থাকলেও নিজের শারীরিক ও পারফরম্যান্সের বাস্তবতাকে তিনি গুরুত্ব দিতে চান।

রোনালদোর ক্যারিয়ারের সঙ্গে তুলনা করা হলেও এমবাপ্পের সামনে এখনো দীর্ঘ পথ বাকি। ২৭ বছর বয়সে তিনি জাতীয় দল ও ক্লাব—দুই জায়গাতেই নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করছেন। ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে এবং সামনে জিদানের অধীনে নতুন করে দল গড়ার প্রক্রিয়ায়ও তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

ফুটবলে একজন খেলোয়াড় কত বছর সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলবেন, তার কোনো নির্দিষ্ট সূত্র নেই। কারও ক্যারিয়ার দ্রুত শেষ হয়, আবার কেউ বয়স বাড়ার সঙ্গে নিজের খেলার ধরন বদলে দীর্ঘ সময় টিকে থাকেন। রোনালদোর ক্ষেত্রে দ্বিতীয় চিত্রটি দেখা গেছে। এমবাপ্পে নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অবশ্য এখনই দীর্ঘমেয়াদি কোনো প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন না।

তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় তাই রোনালদোর বয়সের রেকর্ডকে অস্বীকার করা নয়, বরং নিজের ক্যারিয়ারকে আলাদা বাস্তবতায় দেখা। ফ্রান্সের জার্সিতে তিনি কত বছর খেলবেন, তা নির্ধারণ করবে সময়, ফিটনেস, পারফরম্যান্স এবং জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। আপাতত তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নতুন কোচ জিদানের অধীনে ফ্রান্সকে সফলভাবে এগিয়ে নেওয়া এবং নিজের ক্লাব ও জাতীয় দলের প্রত্যাশা পূরণ করা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত