প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেলেও আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকছেন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের শিক্ষা কার্যক্রম চালু থাকা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশকে ক্যাম্পাসের আবাসিক হলের বাইরে থেকে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। মেস, ভাড়া বাসা, সাবলেট কিংবা ক্যাম্পাসসংলগ্ন বিভিন্ন আবাসনে থেকে শিক্ষাজীবন চালিয়ে নিতে গিয়ে তাদের বহন করতে হচ্ছে বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ। একই সঙ্গে দীর্ঘ যাতায়াত, অনুপযুক্ত আবাসন পরিবেশ, নিরাপত্তা ও পড়াশোনার সময় কমে যাওয়ার মতো সমস্যাও তৈরি হচ্ছে।
ইউজিসির ৫০তম বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অধিভুক্ত কলেজ বাদ দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনাকারী ৫৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৫১ লাখ ৮০ হাজার। তবে এই সংখ্যার মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীদের হিসাব আলাদা কাঠামোয় বিবেচনা করা হয়েছে। মূল আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর বিপরীতে আবাসিক হল ও ডরমিটরির আসন রয়েছে তুলনামূলকভাবে খুবই কম।
তথ্য অনুযায়ী, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ২৩২টি আবাসিক হল ও ডরমিটরিতে মোট আসন রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৭৮৭টি। বিপুল শিক্ষার্থীসংখ্যার তুলনায় এই আসন অত্যন্ত অপ্রতুল। ফলে মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৭৯ দশমিক ৮১ শতাংশই বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক সুবিধার বাইরে থেকে পড়াশোনা করছেন বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অর্থাৎ প্রতি পাঁচজন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় চারজনকেই নিজের থাকার ব্যবস্থা নিজেকেই করতে হচ্ছে।
এই সংকটের সবচেয়ে বড় চাপ পড়ে দেশের বিভিন্ন জেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে আসা শিক্ষার্থীদের ওপর। পরিবার ছেড়ে নতুন শহরে এসে তাদের অনেককেই পড়াশোনার পাশাপাশি থাকার জায়গা খুঁজতে হয়। আবাসিক হলে জায়গা না পেয়ে মেস বা ভাড়া বাসায় থাকতে হলে বাড়তি ভাড়া, খাবার, বিদ্যুৎ, পানি, ইন্টারনেট ও যাতায়াত ব্যয় যুক্ত হয়। মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য এসব ব্যয় অনেক সময় উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর একজন শিক্ষার্থীর প্রধান লক্ষ্য থাকে পড়াশোনা, গবেষণা, লাইব্রেরি ব্যবহার এবং ক্যাম্পাসের একাডেমিক পরিবেশে নিজেকে গড়ে তোলা। কিন্তু আবাসন সুবিধা না থাকায় অনেক শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ক্যাম্পাসে আসতে হয়। রাজধানী ও বড় শহরের যানজটের কারণে যাতায়াতের সময় আরও বেড়ে যায়। ফলে ক্লাস শেষ হওয়ার পর লাইব্রেরিতে বসে পড়াশোনা, শিক্ষক বা সহপাঠীদের সঙ্গে একাডেমিক আলোচনা এবং বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ে।
রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আবাসন সংকটের একটি বড় উদাহরণ। প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয়টির আবাসিক সুবিধা দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত সীমিত। একটি ছাত্রী হলের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা হয়েছে। ফলে বিপুলসংখ্যক ছাত্র ও ছাত্রীকে পুরান ঢাকা ও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মেস কিংবা ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির আবাসন সংকট নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও নতুন আবাসন তৈরির উদ্যোগও বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে।
ঢাকার বাইরে থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য এই পরিস্থিতি বিশেষভাবে কঠিন। পরিবারের সঙ্গে থাকা সম্ভব না হওয়ায় তাদের মাসিক বাজেটের বড় অংশ চলে যায় বাসা বা মেস ভাড়ায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় খাবার ও যাতায়াতের খরচ। অনেক শিক্ষার্থীকে আবার একাধিক সহপাঠীর সঙ্গে ছোট কক্ষে থাকতে হয়। এতে ব্যক্তিগত পড়াশোনার পরিবেশ যেমন বাধাগ্রস্ত হয়, তেমনি মানসিক চাপও বাড়ে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সমস্যা সমাধানে নতুন আবাসিক ভবন ও দ্বিতীয় ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন আবাসন অবকাঠামো তৈরির কাজ এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ থাকলেও দীর্ঘদিনের ঘাটতি পূরণে আরও সময় প্রয়োজন হচ্ছে। ফলে বর্তমান শিক্ষার্থীদের বড় অংশকে এখনো ক্যাম্পাসের বাইরেই থাকার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও আবাসন সংকটের চিত্র পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর তুলনায় হলের আসন সীমিত হওয়ায় বিশেষ করে ছাত্রীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ক্যাম্পাসের বাইরে থাকেন। দীর্ঘদিনের পুরোনো হলগুলোর ধারণক্ষমতা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং শিক্ষার্থীসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে আবাসনের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে। নতুন আবাসিক ভবন নির্মাণ ও পুরোনো অবকাঠামো সংস্কারের মাধ্যমে পরিস্থিতি উন্নয়নের চেষ্টা থাকলেও চাহিদার তুলনায় তা এখনো পর্যাপ্ত নয়।
ক্যাম্পাসের বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের অনেকেই প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন। কারও ক্ষেত্রে একাধিক যানবাহন পরিবর্তন করতে হয়। এতে অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি সময়ও নষ্ট হয়। ঢাকার মতো ব্যস্ত নগরীতে যানজটের কারণে অনেক শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে ক্লাসে পৌঁছাতে পারেন না। দিনের একটি বড় অংশ যাতায়াতে ব্যয় হওয়ায় বিশ্রাম ও ব্যক্তিগত পড়াশোনার সময়ও কমে যায়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকটও দীর্ঘদিনের। বড় ও বিস্তৃত ক্যাম্পাস হওয়া সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট শিক্ষার্থীর তুলনায় আবাসিক আসন কম। বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, সেখানে মোট শিক্ষার্থীর প্রায় এক-পঞ্চমাংশের মতো আবাসিক সুবিধা পেয়ে থাকেন। ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের আশপাশের কটেজ, মেস কিংবা ভাড়া বাসায় থাকতে হয়। আবাসনের পাশাপাশি তাদের যাতায়াত, খাবার এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের জন্য বাড়তি ব্যয় করতে হয়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে শিক্ষার্থীদের জন্য গড়ে ওঠা কটেজ ও মেসগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করে আসছে। তবে সেখানে থাকার পরিবেশ সব সময় শিক্ষাবান্ধব হয় না। ছোট কক্ষ, একাধিক শিক্ষার্থীর একসঙ্গে থাকা, সীমিত রান্না ও পড়াশোনার জায়গা এবং কখনো কখনো অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ তৈরি হয়। অনেকের ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত ব্যয় পরিবারের জন্যও বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।
নতুন প্রতিষ্ঠিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষেত্রেও আবাসন সংকট বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক কার্যক্রম দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও আবাসিক অবকাঠামো একই হারে গড়ে ওঠেনি। কোথাও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে, নতুন বিভাগ ও ইনস্টিটিউট চালু হচ্ছে, কিন্তু আবাসিক হল নির্মাণের কাজ সেই গতিতে এগোচ্ছে না। ফলে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরাও শুরু থেকেই মেস বা ভাড়া বাসার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন।
কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে আবার নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাসের অভাবই বড় সমস্যা। স্থায়ী ক্যাম্পাস ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো পুরোপুরি তৈরি না হওয়ায় সেখানে আবাসিক হল নির্মাণও পিছিয়ে থাকে। ফলে শিক্ষার্থীসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আবাসন সংকট আরও তীব্র হয়। একটি বিশ্ববিদ্যালয় যখন পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, গবেষণাগার ও আবাসিক সুবিধা ছাড়াই শিক্ষার্থী ভর্তি বাড়ায়, তখন শিক্ষার সামগ্রিক পরিবেশেও তার প্রভাব পড়ে।
তবে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিস্থিতি এক নয়। কৃষি ও কৃষিশিক্ষাকেন্দ্রিক কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক সুবিধা তুলনামূলকভাবে বেশি। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে আবাসিক সুবিধার পরিধি অন্যান্য অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় বিস্তৃত। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও তুলনামূলকভাবে বড় অংশের শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা পান। এসব প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা দেখায়, পরিকল্পিত আবাসিক অবকাঠামো ও শিক্ষার্থীসংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আসন পরিকল্পনা থাকলে সংকট অনেকটাই কমানো সম্ভব।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আবাসন সংকটের পেছনে শিক্ষার্থীসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিকল্পনার ঘাটতিকেও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে নতুন বিভাগ ও আসন চালু হয়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় আবাসিক অবকাঠামো তৈরি হয়নি। ফলে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সক্ষমতা বাড়লেও শিক্ষার্থীদের জীবনযাপনের মৌলিক সুবিধা সেই অনুপাতে বাড়েনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আবাসনকে শুধু থাকার জায়গা হিসেবে দেখলে সমস্যার পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে না। একজন শিক্ষার্থীর একাডেমিক সাফল্যের সঙ্গে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর আবাসন পরিবেশের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। পর্যাপ্ত ঘুম, নিরিবিলি পড়াশোনার পরিবেশ, ইন্টারনেট সুবিধা, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং ক্যাম্পাসে সহজে যাতায়াত—সবকিছুই শিক্ষার্থীর শিক্ষা ও মানসিক সুস্থতার সঙ্গে সম্পর্কিত।
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আবাসন সুবিধা কম থাকলে আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক ভালো বাসা বা মেস বেছে নিতে পারেন। কিন্তু সীমিত আয়ের পরিবারের সন্তানদের অনেক সময় কম খরচের অনুপযুক্ত পরিবেশে থাকতে হয়। এতে উচ্চশিক্ষায় সুযোগ পাওয়ার পরও সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের প্রভাব তাদের শিক্ষাজীবনে থেকে যায়।
শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক হল নির্মাণ তাই কেবল অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয় নয়; এটি উচ্চশিক্ষার মান, সমান সুযোগ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ জীবনযাপনের সঙ্গেও জড়িত। নতুন হল নির্মাণের পাশাপাশি পুরোনো হল সংস্কার, আসনসংখ্যা যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ, নিরাপদ আবাসন ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীসংখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দীর্ঘমেয়াদি আবাসন পরিকল্পনা প্রয়োজন।
দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে লাখ লাখ তরুণ-তরুণী ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে পড়াশোনা করছেন। তাঁদের অনেকেই পরিবার থেকে দূরে এসে একটি ভালো শিক্ষাজীবনের প্রত্যাশায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন। কিন্তু আবাসিক হলের দরজা সবার জন্য খোলা না থাকায় সেই স্বপ্নের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বাড়তি খরচ, দীর্ঘ যাতায়াত ও অনিশ্চিত জীবনযাপনের বাস্তবতা। উচ্চশিক্ষাকে সত্যিকার অর্থে সবার জন্য সহজলভ্য করতে হলে শ্রেণিকক্ষের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের থাকার নিরাপদ ও সাশ্রয়ী ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও এখন জরুরি হয়ে উঠেছে।