চালের ডিলারের কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১১ বার
চালের ডিলারের কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চালের এক ডিলারের কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ডিলার থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া, চাল বিক্রির নগদ ৫৫ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার এবং প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তি তৈয়বুর রহমান মাতাব্বর। তিনি উপজেলার পক্ষিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক। অভিযোগকারী মো. আব্দুর রহিম ওরফে হাসান ফারাজী খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির একজন ডিলার। রোববার সন্ধ্যায় তিনি বোরহানউদ্দিন থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগপত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, পক্ষিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নিচতলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় সরকারের নির্ধারিত মূল্যে চাল বিতরণ কার্যক্রম চলছিল। ওই সময় তৈয়বুর রহমান মাতাব্বর সেখানে গিয়ে ডিলার আব্দুর রহিমের কাছে ৩ লাখ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগকারীর দাবি।

আব্দুর রহিমের অভিযোগ, টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর চাল বিক্রির টাকা রাখার ক্যাশবাক্স থেকে ৫৫ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে বলে দাবি করেন তিনি।

অভিযোগকারী আরও জানান, তৈয়বুর রহমান এর আগেও একাধিকবার তাঁর কাছে একই পরিমাণ টাকা দাবি করেছেন বলে তিনি দাবি করছেন। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়ে অভিযুক্তকে সতর্ক করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি। তবে তাতে সমস্যার সমাধান হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ।

আব্দুর রহিমের দাবি, ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন মানুষ এগিয়ে এলে অভিযুক্ত তাঁকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে নিজের নিরাপত্তা এবং ঘটনার আইনগত প্রতিকার চেয়ে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৈয়বুর রহমান মাতাব্বর। তাঁর দাবি, তিনি কোনো চাঁদার টাকা নেননি। বরং সংশ্লিষ্ট ব্যবসার অংশীদার হিসেবে নিজের পাওনা বা লভ্যাংশের টাকা নিয়েছেন। অর্থাৎ অভিযোগকারী যে ঘটনাকে চাঁদা দাবি ও টাকা নিয়ে যাওয়ার ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি সেটিকে ব্যবসায়িক পাওনা আদায়ের বিষয় হিসেবে দাবি করছেন।

ফলে ঘটনাটি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। এক পক্ষের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব ব্যবহার করে টাকা দাবি ও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। অন্য পক্ষ বলছে, এটি চাঁদাবাজির ঘটনা নয়, বরং ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব থেকে পাওনা অর্থ নেওয়ার বিষয়। প্রকৃত ঘটনা কী, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশ্রাব আলী জানান, ঘটনার বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে এমন অভিযোগ স্থানীয় পর্যায়ে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কারণ এ ধরনের কর্মসূচির সঙ্গে নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা সরাসরি জড়িত। সরকারি নির্ধারিত মূল্যে চাল পাওয়ার ওপর অনেক পরিবার নির্ভরশীল। ফলে চাল বিতরণ কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম, বাধা, ভয়ভীতি বা অর্থনৈতিক চাপের অভিযোগ উঠলে তা সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগীদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি বা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠলেই সেটিকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা যাচাই, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, আর্থিক লেনদেনের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য পর্যালোচনা করেই আইনগত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে। এ ক্ষেত্রে পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরবে বলে জানিয়েছে।

স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক পরিচয় ও ব্যবসায়িক সম্পর্ককে ঘিরে কোনো বিরোধ তৈরি হলে তা দ্রুত সামাজিক ও আইনগত জটিলতায় রূপ নিতে পারে। তাই সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিরোধ থাকলে আইন নিজের হাতে না নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সরকারি খাদ্য কর্মসূচির কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

অভিযোগকারী ডিলার জানিয়েছেন, তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চান। অন্যদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে নিজের দাবিকে ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। ফলে এখন তদন্তের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছে সংশ্লিষ্টরা।

ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো পক্ষকে দোষী সাব্যস্ত করার আগে তদন্ত শেষ হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগকারী যেন নিরাপদে সরকারি খাদ্য কর্মসূচির দায়িত্ব পালন করতে পারেন এবং প্রকৃত ঘটনা নিরপেক্ষভাবে উদঘাটিত হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত না হলে সেটিও স্পষ্ট হওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে তদন্তের মাধ্যমে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ, অর্থ লেনদেনের বিষয় এবং অভিযোগে উল্লেখ করা হামলা বা হুমকির সত্যতা নির্ধারিত হবে।

বোরহানউদ্দিনের এই ঘটনায় একদিকে একজন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলারের নিরাপত্তা ও সরকারি খাদ্য বিতরণ কার্যক্রমের স্বচ্ছতার প্রশ্ন সামনে এসেছে, অন্যদিকে অভিযুক্তের পাল্টা বক্তব্যে এটি ব্যবসায়িক পাওনা নিয়ে বিরোধ কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে। এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্তই নির্ধারণ করবে ঘটনার প্রকৃত চিত্র। ততক্ষণ পর্যন্ত উভয় পক্ষের বক্তব্য ও অভিযোগকে যথাযথ প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করাই হবে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মূল বিষয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত