শাহজালাল বিমানবন্দরে ৮১ লিটার বিদেশি মদ জব্দ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১১ বার
শাহজালাল বিমানবন্দরে ৮১ লিটার বিদেশি মদ জব্দ

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) পৃথক অভিযানে দুই যাত্রীর কাছ থেকে শুল্কমুক্ত সীমার অতিরিক্ত বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ জব্দ করা হয়েছে। বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দুই ঘটনায় অনুমোদিত পরিমাণ বাদ দেওয়ার পর মোট ৮১ দশমিক ৫০ লিটার বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি মদ আটক করা হয়। জব্দ করা মদের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত সার্কেল, এয়ারপোর্টের এ-শিফটের কর্মকর্তারা বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেন। এ সময় আন্তর্জাতিক আগমন এলাকায় যাত্রীদের ব্যাগেজের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় দুবাই থেকে আসা একটি ফ্লাইটের এক যাত্রীর ব্যাগেজে সন্দেহজনক পণ্য থাকার বিষয়টি শনাক্ত হলে সেটি স্ক্যান করা হয়। পরবর্তী সময়ে ব্যাগেজ তল্লাশি করে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি মদ পাওয়া যায়।

এনবিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দুবাই থেকে আসা যাত্রী রোমান মিকাইলভ গ্রিন চ্যানেল অতিক্রমের সময় তাঁর সব ব্যাগেজ স্ক্যান করা হয়। স্ক্যানিংয়ে সন্দেহজনক কিছু ধরা পড়ার পর ব্যাগেজ তল্লাশি করা হলে সেখানে ৭৮ দশমিক ৫০ লিটার বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি মদ পাওয়া যায়। এরপর কাস্টমস কর্মকর্তারা মদগুলো আটক করেন।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই যাত্রী বিদেশি পাসপোর্টধারী হওয়ায় প্রযোজ্য ব্যাগেজ বিধিমালা অনুযায়ী তাঁকে এক লিটার মদ শুল্কমুক্তভাবে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়। অনুমোদিত এক লিটার বাদ দেওয়ার পর তাঁর কাছ থেকে ৭৭ দশমিক ৫০ লিটার বিদেশি মদ আটক করা হয়। এ ঘটনায় ব্যাগেজের ভেতরে থাকা পণ্যের পরিমাণ এবং বিধিমালায় অনুমোদিত সীমার মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

একই সময়ে বিমানবন্দরে পৃথক আরেকটি ঘটনায় আরও বিদেশি মদ জব্দ করা হয়েছে। এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে অন্য একটি ফ্লাইটে দেশে আসেন সামিউল ইসলাম। গ্রিন চ্যানেল দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর ব্যাগেজও কাস্টমস কর্মকর্তাদের নজরদারির আওতায় আসে। ব্যাগেজ স্ক্যান করার পর সেখানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আরও চার লিটার বিদেশি মদ পাওয়া যায়। পরে সেগুলো আটক করা হয়।

দুটি ঘটনায় জব্দ করা মদের পরিমাণ যোগ করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনুমোদিত এক লিটার বাদ দিয়ে মোট ৮১ দশমিক ৫০ লিটার বিদেশি মদ আটক করা হয়েছে। এসব মদের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা। বিমানবন্দরে শুল্ক ও ব্যাগেজ বিধিমালা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কাস্টমস গোয়েন্দারা এসব পণ্য জব্দ করেছেন বলে জানানো হয়েছে।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার হওয়ায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী বিভিন্ন দেশ থেকে দেশে ফেরেন। তাঁদের সঙ্গে আনা পণ্য ও ব্যাগেজ নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা করে থাকে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে শুল্কযোগ্য বা বিধিনিষেধযুক্ত পণ্য বহনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন ও ব্যাগেজ বিধিমালা অনুসরণ করা হয়। গ্রিন চ্যানেল ব্যবহারকারী যাত্রীদের ক্ষেত্রেও প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাগেজ স্ক্যান ও তল্লাশি করা হয়ে থাকে।

বিমানবন্দরে কাস্টমসের এই ধরনের তৎপরতার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো যাত্রীদের বহন করা পণ্যের বিষয়ে নির্ধারিত বিধিমালা কার্যকর রাখা। যাত্রীদের জন্য শুল্কমুক্তভাবে নির্দিষ্ট কিছু পণ্য আনার সুযোগ থাকলেও সেই সুযোগের পরিমাণ ও শর্ত বিধিমালার মাধ্যমে নির্ধারিত থাকে। অনুমোদিত সীমার অতিরিক্ত পণ্য থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আসে।

সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনা ও পণ্য শনাক্তকরণে প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ছে। যাত্রীদের ব্যাগেজ স্ক্যানারের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয় এবং প্রয়োজন হলে সন্দেহজনক ব্যাগেজ আলাদাভাবে তল্লাশি করা হয়। এর ফলে নিষিদ্ধ বা অতিরিক্ত পণ্য শনাক্ত করার পাশাপাশি শুল্কসংক্রান্ত অনিয়ম চিহ্নিত করাও সহজ হচ্ছে। শাহজালাল বিমানবন্দরের এই দুই ঘটনাতেও স্ক্যানিংয়ের পর ব্যাগেজ তল্লাশির মাধ্যমে মদ শনাক্ত করা হয়েছে।

বিদেশ থেকে দেশে ফেরার সময় অনেক যাত্রী ব্যক্তিগত ব্যবহারের বিভিন্ন পণ্য সঙ্গে নিয়ে আসেন। এসব পণ্য আনার ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধিমালা সম্পর্কে যাত্রীদের সচেতন থাকা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নির্ধারিত সীমার বাইরে কোনো পণ্য বহন করলে তা কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে ঘোষণা করা, প্রযোজ্য শুল্ক পরিশোধ করা কিংবা সংশ্লিষ্ট নিয়ম মেনে চলার প্রয়োজন হতে পারে। বিধিমালা না মানলে পণ্য আটকসহ পরবর্তী প্রশাসনিক বা আইনগত প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ থাকে।

এ ক্ষেত্রে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম যাত্রীর ব্যাগেজে পাওয়া মদের পরিমাণ ছিল অনুমোদিত সীমার তুলনায় অনেক বেশি। তাঁর ক্ষেত্রে এক লিটার শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রযোজ্য হওয়ায় অবশিষ্ট ৭৭ দশমিক ৫০ লিটার আটক করা হয়। দ্বিতীয় ঘটনায় চার লিটার বিদেশি মদ পাওয়া যায় এবং সেটিও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আটক করে। দুই ঘটনায় বিপুল পরিমাণ পণ্য জব্দ হওয়ায় বিমানবন্দরের নজরদারি ব্যবস্থার বিষয়টিও সামনে এসেছে।

তবে জব্দ করা পণ্য উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে কী ধরনের আইনগত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। ফলে কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিশ্চিতভাবে জানানো তথ্যের বাইরে কোনো অতিরিক্ত অভিযোগ বা আইনি সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

এনবিআরের বিজ্ঞপ্তিতে জব্দ করা মদের বাজারমূল্য আনুমানিক ১৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিপুল পরিমাণ পণ্যের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাজারদর, ব্র্যান্ড এবং সংশ্লিষ্ট পণ্যের ধরন বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। তবে জব্দ হওয়া পণ্যের চূড়ান্ত মূল্য বা পরবর্তী নিষ্পত্তি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত সিদ্ধান্ত আলাদাভাবে জানা যেতে পারে।

বিমানবন্দরে কাস্টমসের নিয়মিত নজরদারি এবং গোয়েন্দা কার্যক্রমের ফলে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের বহন করা বিভিন্ন পণ্য সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য পৌঁছায়। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে একদিকে যেমন রাজস্বসংক্রান্ত বিধিমালা বাস্তবায়ন করা হয়, অন্যদিকে দেশের প্রচলিত আমদানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও কার্যকর রাখা হয়।

শাহজালাল বিমানবন্দরে একই সময়ে দুই যাত্রীর ব্যাগেজ থেকে শুল্কমুক্ত সীমার অতিরিক্ত বিদেশি মদ আটকের ঘটনাটি তাই কাস্টমস নজরদারির সাম্প্রতিক একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুই ঘটনায় মোট ৮১ দশমিক ৫০ লিটার মদ জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এখন এসব পণ্যের বিষয়ে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী প্রক্রিয়া কী হয়, সেটিই সংশ্লিষ্টদের নজরে রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত