উলিপুরে আজ ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ, ভোগান্তির শঙ্কা

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১১ বার
উলিপুরে আজ ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ, ভোগান্তির শঙ্কা

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ এবং লাইনের আশপাশের গাছপালা কাটার কাজের জন্য আজ মঙ্গলবার সাত ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত উলিপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিসের আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার কথা রয়েছে। বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থার নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে এই রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সোমবার, ১২ অক্টোবর, কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উলিপুর জোনাল অফিসের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ এবং লাইনের আশপাশে থাকা গাছপালা কর্তনের কাজ সম্পন্ন করার জন্য নির্ধারিত সময়জুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হবে। তবে কাজ নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হলে বিকেল ৩টার আগেও বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হতে পারে।

উলিপুর জোনাল অফিসের ভারপ্রাপ্ত উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম, অতিরিক্ত দায়িত্ব) চিরেন্দ্র নাথ রায় জানিয়েছেন, জরুরি রক্ষণাবেক্ষণকাজের কারণে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এ সময় গ্রাহকদের যে অসুবিধার মুখে পড়তে হবে, তার জন্য কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।

বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যুতের লাইন, খুঁটি, সংযোগব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে বিভিন্ন ধরনের ত্রুটি বা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সময়মতো এসব ত্রুটি শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় মেরামত করা না হলে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ লাইন থেকে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে।

উলিপুরে ৩৩ কেভি লাইনের রক্ষণাবেক্ষণ এবং আশপাশের গাছপালা কাটার উদ্যোগকে বিদ্যুৎ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি প্রয়োজনীয় কাজ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিদ্যুতের তারের কাছাকাছি গাছের ডালপালা বেড়ে উঠলে ঝড়, বৃষ্টি কিংবা প্রবল বাতাসের সময় সেগুলো লাইনের সংস্পর্শে আসতে পারে। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়া, লাইনে ত্রুটি দেখা দেওয়া কিংবা দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই বিদ্যুৎ লাইনের আশপাশের গাছপালা প্রয়োজন অনুযায়ী ছাঁটাই করা বিতরণব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তবে এ ধরনের কাজ নিরাপদভাবে সম্পন্ন করার জন্য নির্ধারিত কারিগরি পদ্ধতি অনুসরণ করা প্রয়োজন। বিদ্যুৎ লাইন বন্ধ রাখা, কাজের স্থান নিরাপদ করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে সাময়িক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা গ্রাহকদের জন্য অসুবিধার কারণ হলেও নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখার স্বার্থে এ ধরনের কাজ প্রয়োজন হতে পারে।

সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকলে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের দৈনন্দিন কাজে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে। বিশেষ করে দিনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিদ্যুৎ না থাকায় রান্না, পানি তোলা, ঘরের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার এবং বিভিন্ন ব্যক্তিগত কাজের ক্ষেত্রে অসুবিধা দেখা দিতে পারে। যেসব পরিবার বৈদ্যুতিক পাম্পের মাধ্যমে পানি সংগ্রহ করে, তাদের আগেভাগে প্রয়োজনীয় পানি সংরক্ষণ করে রাখা সুবিধাজনক হতে পারে।

এ ছাড়া বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল ছোট ব্যবসা, দোকানপাট, সেলুন, ওয়ার্কশপ এবং বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের কাজও সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফটোকপি মেশিন কিংবা অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করে যেসব প্রতিষ্ঠান সেবা দেয়, তাদের কাজের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনতে হতে পারে। কোনো কোনো ব্যবসার ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ না থাকায় কাজের গতি কমে যাওয়া বা গ্রাহকসেবা সীমিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

শিক্ষার্থীদের জন্যও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার সময়টি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অনলাইনে ক্লাস করা, ইন্টারনেট ব্যবহার, কম্পিউটারে পড়াশোনা কিংবা মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিভাইস চার্জ দেওয়ার প্রয়োজন থাকলে আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া উপকারী। একইভাবে বাসা থেকে অনলাইনে কাজ করেন এমন ব্যক্তি এবং বিদ্যুৎনির্ভর পেশায় যুক্ত মানুষেরও বিকল্প পরিকল্পনা রাখার প্রয়োজন হতে পারে।

তবে উলিপুরের কোন কোন গ্রাম, মহল্লা বা নির্দিষ্ট এলাকায় এই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যে বিস্তারিত তালিকা দেওয়া হয়নি। তাই উলিপুর জোনাল অফিসের আওতাধীন নির্দিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের নিজ নিজ বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কার্যালয়ের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত। এতে ভুল তথ্যের ভিত্তিতে অযথা উদ্বেগ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা কমবে।

নির্ধারিত সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার কারণে সম্ভাব্য ভোগান্তি কমাতে গ্রাহকেরা আগেই কিছু প্রস্তুতি নিতে পারেন। মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ এবং প্রয়োজনীয় চার্জযোগ্য যন্ত্রপাতি চার্জ দিয়ে রাখা যেতে পারে। বিদ্যুৎনির্ভর কাজগুলো সম্ভব হলে সকাল ৮টার আগেই শেষ করা কিংবা বিকেল ৩টার পরের জন্য নির্ধারণ করা সুবিধাজনক হতে পারে। পানি তোলার বৈদ্যুতিক পাম্পের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোও প্রয়োজন অনুযায়ী আগে পানি সংরক্ষণ করতে পারে।

যেসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ ছাড়া কাজ পরিচালনা করা কঠিন, তারা গ্রাহকদের আগেই সময়সূচির পরিবর্তনের কথা জানাতে পারে। জরুরি কাজে কম্পিউটার বা অন্যান্য যন্ত্র ব্যবহার করতে হলে প্রয়োজনীয় ফাইল সংরক্ষণ এবং যন্ত্রপাতি নিরাপদে বন্ধ রাখার বিষয়েও সতর্ক থাকা দরকার। বিদ্যুৎ ফিরে আসার সময় সংবেদনশীল বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি সুরক্ষিত রাখতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়াও ভালো।

তবে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার সময় জেনারেটর বা বিকল্প বিদ্যুৎব্যবস্থা ব্যবহার করলে নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে জেনারেটর এমন স্থানে চালানো উচিত নয়, যেখানে ধোঁয়া ঘরে প্রবেশ করতে পারে। বিদ্যুতের লাইন বা খুঁটির আশপাশে নিজ উদ্যোগে কোনো কাজ করা থেকেও বিরত থাকা প্রয়োজন। বিদ্যুৎ লাইনের রক্ষণাবেক্ষণ কেবল সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষিত কর্মীদের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়াই নিরাপদ।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণকাজ নির্ধারিত সময়ের আগে শেষ হলে আগেই বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হতে পারে। ফলে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বন্ধ থাকার ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তবে কাজের অগ্রগতির ওপর সরবরাহ পুনরায় চালুর সময় নির্ভর করবে। তবে কাজ দ্রুত শেষ হবে—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। তাই গ্রাহকদের বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার সম্ভাবনা মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নেওয়া যুক্তিযুক্ত।

রক্ষণাবেক্ষণকাজ চলাকালে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ ফিরে না এলে গ্রাহকদের সংশ্লিষ্ট জোনাল অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে হালনাগাদ তথ্য জেনে নেওয়া উচিত। একইভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু হওয়ার পর কোনো এলাকায় সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো প্রয়োজন। এতে ত্রুটি শনাক্ত ও সমাধানের ক্ষেত্রে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।

উলিপুরে এই সাময়িক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার মূল উদ্দেশ্য ৩৩ কেভি লাইনের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ এবং আশপাশের গাছপালা কর্তনের কাজ সম্পন্ন করা। কাজটি শেষ হলে বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থার নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে আশা করা যায়। তবে রক্ষণাবেক্ষণের তাৎক্ষণিক সুফল নিশ্চিত করতে কাজের মান, নিরাপত্তাবিধি অনুসরণ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যক্রম শেষ করার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত উলিপুর জোনাল অফিসের আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার কথা রয়েছে। সাময়িক এই অসুবিধার জন্য কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং কাজ আগে শেষ হলে আগেই বিদ্যুৎ চালুর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রাহকদের তাই আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জোনাল অফিসের তথ্য অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com