বছরে ১০ লাখ ইউনিট রক্তের চাহিদা, স্বেচ্ছাদাতা মাত্র ৩০%

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৪ বার
বছরে ১০ লাখ ইউনিট রক্তের চাহিদা, স্বেচ্ছাদাতা মাত্র ৩০%

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ ইউনিট রক্তের প্রয়োজন হলেও সংগৃহীত রক্তের মাত্র ৩০ শতাংশ আসে স্বেচ্ছায় ও বিনা পারিশ্রমিকে রক্তদানকারীদের কাছ থেকে। বাকি রক্তের বড় অংশ সংগ্রহ করতে হয় রোগীর স্বজন, পরিচিতজন কিংবা বিকল্প দাতাদের মাধ্যমে। ফলে দুর্ঘটনা, জটিল অস্ত্রোপচার, প্রসবকালীন অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং থ্যালাসেমিয়ার মতো রোগের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় রক্ত জোগাড় করতে গিয়ে অসংখ্য রোগী ও পরিবারকে পড়তে হয় অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপের মধ্যে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে রক্তদানের উপযুক্ত মানুষের সংখ্যা বিপুল হলেও নিয়মিত স্বেচ্ছা রক্তদানের সংস্কৃতি গড়ে না ওঠা, সমন্বিত ব্যবস্থাপনার অভাব এবং রক্তকেন্দ্রের সেবার মান নিয়ে উদ্বেগ সংকটকে দীর্ঘস্থায়ী করছে।

রক্ত সঞ্চালন খাতের বিশেষজ্ঞদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রচলিত বয়সসীমা ও জনসংখ্যার কাঠামো বিবেচনায় বাংলাদেশে প্রায় ১২ কোটি মানুষ রক্তদানের সক্ষম বয়সের মধ্যে রয়েছেন। তাঁদের সামান্য একটি অংশও যদি নিয়মিত রক্তদানে যুক্ত হন, তাহলে জাতীয় চাহিদার বড় অংশ পূরণ করা সম্ভব। কিন্তু বাস্তবে প্রয়োজনের মুহূর্তে দাতা খুঁজতে রোগীর পরিবারের সদস্যদের হাসপাতাল থেকে বিভিন্ন সংগঠন, পরিচিতজন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছুটতে হয়। জরুরি চিকিৎসার পাশাপাশি রক্ত সংগ্রহের এই চাপ অনেক পরিবারের জন্য বাড়তি দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশবিষয়ক মূল্যায়নে ২০২২ সালে দেশে মোট ৯ লাখ ৬০ হাজার ৯৮১ ইউনিট রক্ত সংগ্রহের তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যে স্বেচ্ছায় রক্তদানকারীদের অবদান ছিল ২৪ দশমিক ২৬ শতাংশ। বাকি ৭৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ রক্ত এসেছিল আত্মীয়স্বজন ও বিকল্প দাতাদের কাছ থেকে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রক্ত সংগ্রহের পরিমাণ বাড়লেও স্বেচ্ছা রক্তদানের অংশ এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। প্রায় এক দশক আগেও স্বেচ্ছা রক্তদানের হার ৩০ শতাংশের কাছাকাছি ছিল। অর্থাৎ রক্ত সংগ্রহের সক্ষমতা বাড়লেও নিয়মিত স্বেচ্ছা দাতা তৈরির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি প্রয়োজন।

রিদম ব্লাড ব্যাংকের পরিচালক ডা. আবদুল্লাহ আল মামুনের মতে, দেশে রক্তদাতার একেবারে অভাব নেই; বরং বিপুলসংখ্যক সক্ষম মানুষকে নিয়মিত রক্তদানের সঙ্গে যুক্ত করা যাচ্ছে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ মানুষ নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্ত দিলে রক্তের সংকট অনেকটাই কমানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দাতাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ, রক্তদানের উপযুক্ত সময় সম্পর্কে তথ্য দেওয়া এবং সহজে রক্তদান করার সুযোগ তৈরি করা জরুরি।

রক্তদান সম্পর্কে সমাজে প্রচলিত ভয় ও ভুল ধারণাও সংকটের অন্যতম কারণ। অনেকেই মনে করেন, রক্ত দিলে শরীর দুর্বল হয়ে যায়, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকতে হয় কিংবা স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয়। আবার কারও কারও রয়েছে সূচের ভয়, রক্তদানের প্রক্রিয়া সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং উপযুক্ত কেন্দ্র খুঁজে না পাওয়ার সমস্যা। জামালপুরের ৫১২ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের ওপর পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের ৯২ শতাংশ কখনো রক্ত দেননি। তবে ৪২ শতাংশের বেশি নিয়মিত রক্তদাতা হতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। রক্তদানে অনভিজ্ঞতার পাশাপাশি সুযোগের অভাব, স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে ভুল ধারণা এবং সূচভীতিও তাঁদের অনাগ্রহের কারণ হিসেবে উঠে আসে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে পরিচালিত গবেষণাতেও সচেতনতা ও সংগঠিত উদ্যোগের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়েছে। ২০২২ সালের একটি গবেষণায় দেখা যায়, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীদের রক্তদানের সম্ভাবনা অন্যদের তুলনায় বেশি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রক্তদানবিষয়ক প্রচার ও কর্মসূচির তথ্য পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যেও রক্তদানের প্রবণতা তুলনামূলক বেশি ছিল। এসব ফলাফল ইঙ্গিত দেয়, শুধু রক্তদানের আহ্বান জানালেই হবে না; আগ্রহী মানুষকে বাস্তবে দাতা হিসেবে যুক্ত করার জন্য কার্যকর যোগাযোগ ও সহজলভ্য ব্যবস্থা প্রয়োজন।

রক্তদানের আগে দাতার স্বাস্থ্য যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত রক্ত সংগ্রহের আগে রক্তচাপ, নাড়ির গতি, হিমোগ্লোবিনের মাত্রা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততা পরীক্ষা করা হয়। সংগৃহীত রক্তে এইচআইভি, হেপাটাইটিস বি ও সি, সিফিলিসসহ নির্দিষ্ট সংক্রমণের পরীক্ষা করাও নিরাপদ রক্ত সঞ্চালনের অপরিহার্য অংশ। তবে রক্তদানকে সব রোগ শনাক্ত করার পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরীক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। রক্তদানের উপযুক্ততা নির্ধারণ এবং দাতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর নির্দেশনা অনুসরণ করতে হয়। বয়স, ওজন, হিমোগ্লোবিনের মাত্রা, সাম্প্রতিক অসুস্থতা ও অন্যান্য শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে কে কখন রক্ত দিতে পারবেন, তা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

এক ব্যাগ রক্তের যথাযথ ব্যবহারও চিকিৎসাব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সংগৃহীত পূর্ণ রক্তকে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন উপাদানে পৃথক করা যায়। লোহিত রক্তকণিকা, প্লাটিলেট ও প্লাজমা আলাদাভাবে ব্যবহার করলে একেক ধরনের চিকিৎসার জন্য উপযুক্ত উপাদান সরবরাহ করা সম্ভব হয়। দুর্ঘটনা বা অস্ত্রোপচারে লোহিত রক্তকণিকা প্রয়োজন হতে পারে, ডেঙ্গুসহ নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্লাটিলেটের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে, আবার প্রসবজনিত রক্তক্ষরণ ও রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যায় প্লাজমা প্রয়োজন হতে পারে। ফলে শুধু রক্ত সংগ্রহের পরিমাণ বাড়ানো নয়, রক্তের উপাদান পৃথকীকরণ, সংরক্ষণ এবং চাহিদা অনুযায়ী বণ্টনের সক্ষমতা বাড়ানোও জরুরি।

বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে বিভিন্ন রক্তকেন্দ্রে রক্তের উপাদান পৃথকীকরণের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অবকাঠামো, প্রশিক্ষিত জনবল, পরীক্ষাগার এবং সংরক্ষণব্যবস্থার সক্ষমতা সমান নয়। কোথাও প্রয়োজনীয় সুবিধা থাকলেও অন্য এলাকায় জরুরি রক্ত সংগ্রহ ও পরীক্ষা করতে সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে হয়। জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত তথ্যব্যবস্থার অভাব থাকায় কোন এলাকায় কোন গ্রুপের রক্তের চাহিদা বেশি, কোথায় কত ইউনিট রক্ত মজুত রয়েছে এবং কতজন সক্রিয় দাতা আছেন—এসব তথ্য দ্রুত পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

এই সংকট সবচেয়ে গভীরভাবে অনুভব করেন থ্যালাসেমিয়া রোগী ও তাঁদের পরিবার। থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত অনেক রোগীকে নিয়মিত বিরতিতে রক্ত নিতে হয়। বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, তাদের হাসপাতালে প্রায় সাত হাজার ৮০০ রোগী নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন। এসব রোগীর অনেকের প্রতি মাসে এক থেকে দুই ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়। চিকিৎসাধীন রোগীদের জন্য প্রতিদিন প্রায় ১০০ থেকে ১২০ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হতে পারে বলে ফাউন্ডেশনের তথ্য উল্লেখ করে। ফলে প্রতিবার রক্তের প্রয়োজন হলে নতুন করে দাতা খোঁজার পরিস্থিতি রোগী ও তাঁদের স্বজনদের জন্য দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগ তৈরি করে।

থ্যালাসেমিয়া রোগীদের ক্ষেত্রে নিয়মিত দাতার তালিকা তৈরি, রোগী ও রক্তকেন্দ্রের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো এবং নির্দিষ্ট সময় পর দাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার ব্যবস্থা গড়ে তোলা বিশেষভাবে কার্যকর হতে পারে। বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দা মাসুমা রহমানের মতে, এসব রোগীর জন্য নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন রক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত স্বেচ্ছা রক্তদাতা তৈরি করা গেলে রোগী ও তাঁদের পরিবারের ওপর রক্ত সংগ্রহের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

রক্তের প্রাপ্যতার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় প্রতিটি সংগৃহীত রক্ত নির্ধারিত মান অনুযায়ী পরীক্ষা করা, রক্তের গ্রুপ ও সামঞ্জস্য যাচাই এবং যথাযথ তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। পরীক্ষাগারের সক্ষমতা, মানসম্মত কিট, প্রশিক্ষিত কর্মী এবং ফলাফল সংরক্ষণের নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা ছাড়া নিরাপদ রক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা যায় না। একই সঙ্গে রক্ত সংগ্রহ থেকে রোগীর শরীরে প্রয়োগ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের তথ্য সংরক্ষণ এবং বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে তা শনাক্ত করার কার্যকর ব্যবস্থা থাকা জরুরি।

রক্তদানের ক্ষেত্রে দাতাদের অভিজ্ঞতাও উপেক্ষা করা যায় না। গবেষণায় রক্তদানকেন্দ্রের কর্মীদের অসহযোগিতামূলক আচরণ, ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ এবং স্বেচ্ছায় দেওয়া রক্তের ব্যবহার সম্পর্কে সন্দেহকে দাতাদের অনাগ্রহের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাই রক্তদাতাদের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ, তাঁদের তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং সংগৃহীত রক্ত কোথায় ও কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, সে বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখা প্রয়োজন। দাতারা নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ অভিজ্ঞতা পেলে পুনরায় রক্তদানে আগ্রহী হওয়ার সুযোগ বাড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের রক্তের সংকট মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত রক্ত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা প্রয়োজন। সরকারি হাসপাতাল, বেসরকারি রক্তকেন্দ্র, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং রক্তদাতাদের একটি সমন্বিত তথ্যব্যবস্থার আওতায় আনা গেলে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে সমন্বয় সহজ হবে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে বছরজুড়ে রক্তদান কর্মসূচি চালানো, তরুণদের প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে যুক্ত করা এবং নির্দিষ্ট বিরতির পর উপযুক্ত দাতাদের পুনরায় রক্তদানে উৎসাহিত করা দরকার।

বাংলাদেশে রক্তদানের উপযুক্ত মানুষের সংখ্যা বিপুল। তবু প্রয়োজনের সময় একজন রোগীকে রক্তের জন্য অপেক্ষা করতে হওয়া জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতা। এই পরিস্থিতি বদলাতে বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে ধারাবাহিক সচেতনতা, নিরাপদ রক্ত সংগ্রহ, দক্ষ সংরক্ষণ ও বণ্টন এবং নিয়মিত স্বেচ্ছা রক্তদাতার একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা জরুরি। রক্তদানকে কেবল জরুরি মুহূর্তের মানবিক উদ্যোগ হিসেবে নয়, বরং সামাজিক দায়িত্ব ও নিয়মিত স্বেচ্ছাসেবার সংস্কৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা গেলে অসংখ্য রোগীর চিকিৎসা সহজ হবে। সবচেয়ে বড় কথা, রক্তের অভাবে কোনো পরিবারকে যেন প্রিয়জনের জীবন নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকতে না হয়, সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যেতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com