দুর্গাপূজার প্রস্তুতি তুঙ্গে, মণ্ডপে মণ্ডপে উৎসবের আমেজ

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৮ বার
দুর্গাপূজার প্রস্তুতি তুঙ্গে, মণ্ডপে মণ্ডপে উৎসবের আমেজ

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে উৎসবের প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে। মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে প্রতিমা নির্মাণ, মাটির প্রলেপ দেওয়া, রং করা, প্যান্ডেল তৈরি, আলোকসজ্জা এবং মন্দির প্রাঙ্গণ সাজানোর কাজ। কোথাও শিল্পীদের তুলির শেষ আঁচড়ে প্রাণ পাচ্ছে দেবী দুর্গার প্রতিমা, কোথাও আবার বাঁশ, কাঠ ও কাপড়ের সমন্বয়ে গড়ে উঠছে বর্ণিল পূজামণ্ডপ। আয়োজক, প্রতিমাশিল্পী ও স্বেচ্ছাসেবকদের ব্যস্ততায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে শারদীয় উৎসবের আবহ।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বাঙালির ঐতিহ্য, শিল্প-সংস্কৃতি, সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক আনন্দ ভাগাভাগিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। পূজার কয়েকটি দিনকে সামনে রেখে মন্দির ও মণ্ডপকেন্দ্রিক আয়োজনের পাশাপাশি আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা, নতুন পোশাক পরা, প্রতিমা দর্শন এবং উৎসবের পরিবেশ উপভোগের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন অনেকে।

রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমা নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বাঁশ ও খড়ের কাঠামোর ওপর মাটির প্রলেপ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ ও অসুরের অবয়ব। এখন কোথাও চলছে রং করার কাজ, কোথাও প্রতিমার অলংকার ও পোশাক পরানোর প্রস্তুতি। পাশাপাশি মণ্ডপের মঞ্চ তৈরি, প্রবেশপথ সাজানো, বিদ্যুতের সংযোগ স্থাপন এবং দর্শনার্থীদের চলাচলের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার কাজও এগিয়ে চলছে।

আয়োজকদের ব্যস্ততা শুধু প্রতিমা ও মণ্ডপ সাজানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পূজার সময় বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম হতে পারে বলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। অনেক মন্দিরে পূজার পাশাপাশি মেলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ফলে প্রতিমাশিল্পী থেকে শুরু করে মণ্ডপ নির্মাণের শ্রমিক, আলোকসজ্জাকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক—সবার মধ্যেই এখন বাড়তি ব্যস্ততা।

চলতি বছরের পূজার সূচি অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রধান পূজার আনুষ্ঠানিকতা চলার কথা। মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হয়েছে। ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় মহাপঞ্চমীতে দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতার সূচনা হবে। ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীতে দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল পূজা। এরপর মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী, কুমারী পূজা ও মহানবমীর ধর্মীয় আচার পালনের পর ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

এবার তিথির বিন্যাসের কারণে প্রচলিত পাঁচ দিনের পরিবর্তে পূজার আয়োজন ছয় দিন ধরে চলবে বলে জানানো হয়েছে। পূজার প্রতিটি দিনের রয়েছে নিজস্ব ধর্মীয় তাৎপর্য ও আচার। মহাষষ্ঠীতে দেবীর আগমনকে কেন্দ্র করে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলেও মহাসপ্তমী থেকে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি আরও বাড়বে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা। মহাষ্টমীর অঞ্জলি ও কুমারী পূজা অনেক ভক্তের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। আর বিজয়া দশমীর বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবীকে বিদায় জানানোর সময় আনন্দের পাশাপাশি আবেগঘন পরিবেশেরও সৃষ্টি হয়।

সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস ও পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘোড়ায় এবং গমন নৌকায়। ধর্মীয় ব্যাখ্যায় দেবীর আগমন ও গমনের বাহনকে ঘিরে বিভিন্ন প্রতীকী ফলের উল্লেখ রয়েছে। তবে এসব ব্যাখ্যা ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের অংশ হিসেবেই বিবেচিত।

রাজধানীর কেন্দ্রীয় পূজার অন্যতম প্রধান আয়োজন ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। মন্দির মিলনায়তনের বারান্দায় খোলা শেডের নিচে নির্মিত হচ্ছে প্রতিমা। পাশাপাশি মন্দির প্রাঙ্গণ প্রস্তুত করা, প্যান্ডেল নির্মাণ এবং দর্শনার্থীদের জন্য পরিবেশ সাজিয়ে তোলার পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের দুর্গোৎসব প্রতিবছর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। ফলে এখানে প্রতিমা নির্মাণের পাশাপাশি সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

এ মন্দিরের প্রতিমা নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছেন প্রতিমাশিল্পী সুকুমার পাল। রাষ্ট্রপতি পদকপ্রাপ্ত এই শিল্পী ১৯৮৯ সাল থেকে মাঝখানে চার বছরের বিরতি ছাড়া ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের প্রতিমা নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি ও তাঁর সহযোগীরা দেবীর প্রতিমাকে নান্দনিকভাবে ফুটিয়ে তুলতে কাজ করছেন। প্রতিমা নির্মাণের প্রতিটি ধাপে প্রয়োজন হয় ধৈর্য, দক্ষতা ও সূক্ষ্ম কারুকাজের। কাঠামো তৈরি থেকে শুরু করে মাটির প্রলেপ, শুকানো, রং করা এবং অলংকরণ—সব কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে হয়। সামান্য ভুলও প্রতিমার সৌন্দর্য ও গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।

রাজধানীর রমনা কালীমন্দির ও শ্রীমা আনন্দময়ী আশ্রমেও প্রতিমা নির্মাণ এবং সাজসজ্জার কাজ চলছে। মূল পূজামণ্ডপ সাজানোর পাশাপাশি মন্দির প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসংলগ্ন এলাকায় আলোকসজ্জা এবং অন্যান্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। মন্দিরের পাশের পুকুর সাজানো এবং প্রধান প্রবেশগেট নতুন করে নির্মাণের কাজও চলছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য পূজার পরিবেশকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা এবং দর্শনার্থীদের জন্য সুন্দর ও সুশৃঙ্খল আয়োজন নিশ্চিত করা।

রমনা কালীমন্দিরে প্রতিমা নির্মাণ করছেন গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার শিল্পী রতন পাল ও তাঁর ভাই বিবেকানন্দ পাল। তাঁদের তত্ত্বাবধানে মন্দির প্রাঙ্গণে রমনার প্রতিমার পাশাপাশি রাজধানীর আরও পাঁচটি পূজামণ্ডপের প্রতিমা তৈরি করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে মহাষষ্ঠীর আগেই সংশ্লিষ্ট মণ্ডপগুলোতে প্রতিমা পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন তাঁরা।

দীর্ঘ ১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে রমনা কালীমন্দিরের প্রতিমা নির্মাণের অভিজ্ঞতা রয়েছে রতন পালের। তবে এবার প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। খড়, রং, বাঁশ, কাঠ, মাটি ও কাপড়সহ বিভিন্ন উপকরণ আগের তুলনায় অনেক বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এই শিল্পী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকটি উপকরণের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ফলে একই মান বজায় রেখে প্রতিমা নির্মাণ করতে গিয়ে শিল্পী ও আয়োজকদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে।

প্রতিমা নির্মাণের ব্যয় বৃদ্ধি পূজার সামগ্রিক বাজেটেও প্রভাব ফেলছে। প্রতিমা তৈরি ছাড়াও প্যান্ডেল নির্মাণ, বিদ্যুৎ, আলোকসজ্জা, মঞ্চ, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য ব্যবস্থাপনায় অর্থ ব্যয় করতে হয়। জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবও আয়োজকদের বাজেটে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে অনেক মন্দির ও পূজা কমিটি ব্যয় কমিয়ে আয়োজন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, সূত্রাপুর, শ্যামবাজার, কোতোয়ালী রোড, ঋষিপাড়া দুর্গামন্দির, প্যারীদাস রোড, কলতাবাজার, মুরগিটোলা, মদনমোহন দাস লেন, বাংলাবাজার গোয়ারনগর, জমিদারবাড়ি ও গেন্ডারিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি চলছে। এসব এলাকার অনেক মন্দির ও মণ্ডপের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে। পূজার সময় পরিচিতজনদের সঙ্গে দেখা করা, মণ্ডপ পরিদর্শন এবং উৎসবের পরিবেশ উপভোগ করা স্থানীয় জীবনের একটি পরিচিত চিত্র।

তবে উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়েও সতর্ক রয়েছেন আয়োজকেরা। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথ জানিয়েছেন, এবার পূজার প্রস্তুতি ভালোভাবে এগোলেও মূল্যবৃদ্ধির কারণে অধিকাংশ মন্দির ও মণ্ডপকে গত বছরের তুলনায় অন্তত ১০ শতাংশ ব্যয় কমাতে হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, আগের দুই বছরের তুলনায় এবার প্রতিমা ভাঙচুর ও হামলার ঘটনা অনেক কমেছে বলে তাঁদের পর্যবেক্ষণ। কোনো ঘটনা ঘটলে সরকার ও প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেছেন।

তবে বিচ্ছিন্ন ঘটনার আশঙ্কা এবং জনমনে তৈরি হওয়া উদ্বেগ পুরোপুরি দূর করতে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন পূজা আয়োজকেরা। গোপাল চন্দ্র দেবনাথের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরীর ৩৪টি ঝুঁকিপূর্ণ পূজামণ্ডপের তালিকা পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছে। এসব মণ্ডপে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা চাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের নীতিনির্ধারক, পুলিশ প্রশাসন, সংসদ সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা সম্পন্ন করার জন্য সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আয়োজক, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। মণ্ডপে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ সচল রাখা, ভিড় ব্যবস্থাপনা, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা এবং সন্দেহজনক পরিস্থিতি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে জানানো—এসব বিষয় উৎসবকে নির্বিঘ্ন রাখতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে সবার প্রতি সম্মান, সহনশীলতা ও সহযোগিতার মনোভাব বজায় রাখাও জরুরি।

দুর্গাপূজার প্রস্তুতির এই ব্যস্ত সময়ে প্রতিমাশিল্পীদের শ্রম, আয়োজকদের পরিকল্পনা এবং অসংখ্য মানুষের স্বেচ্ছাসেবামূলক অংশগ্রহণ মিলেই গড়ে উঠছে উৎসবের পরিবেশ। প্রতিটি প্রতিমার পেছনে রয়েছে শিল্পীর দক্ষতা ও পরিশ্রম, আর প্রতিটি মণ্ডপের সাজসজ্জার পেছনে রয়েছে বহু মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ। মূল্যবৃদ্ধির চাপ ও নিরাপত্তার উদ্বেগের মধ্যেও আয়োজন সম্পন্ন করার চেষ্টা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল বার্তা অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠা। সেই চেতনা ধারণ করে উৎসবটি যেন ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি সম্প্রীতি, মানবিকতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার বন্ধন আরও দৃঢ় করে—এমন প্রত্যাশা সবার। যথাযথ প্রস্তুতি, দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা এবং সম্মিলিত সহযোগিতার মধ্য দিয়ে রাজধানীসহ সারাদেশে শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর দুর্গোৎসব উদ্‌যাপিত হবে, এমনটাই আশা আয়োজক ও ভক্তদের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com