আজ ৩ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের যেসব এলাকায়

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩ বার
আজ ৩ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের যেসব এলাকায়

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানী ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের কয়েকটি এলাকায় আজ বুধবার তিন ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। ডেমরা ডিআরএসের আউটলেট ভালভ প্রতিস্থাপন কাজের কারণে দুপুরের পর নির্ধারিত সময় পর্যন্ত সব শ্রেণির গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি। ফলে ওই সময় আবাসিক, বাণিজ্যিকসহ বিভিন্ন ধরনের গ্রাহককে গ্যাসের সংকট মোকাবিলা করতে হবে।

তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডেমরা ডিআরএসের আউটলেট ভালভ প্রতিস্থাপনের কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য এই সাময়িক সরবরাহ বন্ধ রাখা প্রয়োজন হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কারিগরি কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হবে। কাজ শেষ হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে সংশ্লিষ্ট এলাকায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার কথা রয়েছে।

কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আজ বুধবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এই তিন ঘণ্টা সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রায় সব শ্রেণির গ্রাহক গ্যাসের আওতাবহির্ভূত থাকবেন। ফলে দুপুরের খাবার রান্না, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম এবং গ্যাসনির্ভর বিভিন্ন কাজে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে।

যেসব এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে বেঙ্গল গ্লাস, শুকরশী, শিমরাইল এবং শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিমাংশের সান্দিরা বালুঘাট থেকে কাঁচপুর সেতুর পশ্চিম পাশ পর্যন্ত এলাকা। এসব এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত সময়ের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে হবে।

গ্যাস সরবরাহ বন্ধের বিষয়টি আগে থেকেই জানানো হলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য তিন ঘণ্টার এই বিরতি কিছুটা ভোগান্তির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে দুপুরের সময় গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ থাকায় যেসব পরিবার প্রতিদিনের রান্নার কাজে সরাসরি গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল, তাদের বিকল্প ব্যবস্থা করতে হতে পারে। একইভাবে হোটেল-রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকান ও অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকেও সাময়িকভাবে তাদের কার্যক্রম সমন্বয় করতে হবে।

তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডেমরা ডিআরএসের আউটলেট ভালভ প্রতিস্থাপন একটি কারিগরি কাজ। গ্যাস বিতরণব্যবস্থার বিভিন্ন অংশে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যন্ত্রপাতি পরিবর্তন, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হয়। এ ধরনের কাজের সময় নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট পাইপলাইন বা বিতরণব্যবস্থার অংশবিশেষে গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। কাজ শেষ হওয়ার পর পুনরায় সরবরাহ চালুর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

গ্যাসের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবার সাময়িক বিঘ্ন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ নগর ও শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হলে শুধু বাসাবাড়ির রান্না নয়, ছোট-বড় বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও সমস্যায় পড়ে। নারায়ণগঞ্জের সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম থাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধের সময়টি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

তবে নির্ধারিত তিন ঘণ্টার মধ্যে কাজ শেষ হলে দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকার নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও কোনো কোনো এলাকায় স্বাভাবিক চাপ ফিরে আসতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। কারিগরি কাজ শেষ করে পর্যায়ক্রমে লাইনে গ্যাস সরবরাহ চালু করার সময় এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময়টি মাথায় রেখে দৈনন্দিন প্রয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া। বিশেষ করে দুপুরের রান্না, শিশু ও বয়স্ক সদস্যদের খাবার এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাজ আগেভাগে সম্পন্ন করা গেলে সাময়িক ভোগান্তি কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে। বাণিজ্যিক গ্রাহকদেরও কাজের সময়সূচি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সমন্বয় করতে হবে।

তিতাস কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে। গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তটি গ্রাহকদের ভোগান্তি তৈরি করলেও বিতরণব্যবস্থার কারিগরি রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করাই এর মূল উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

রাজধানী ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে গ্যাস সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা অনেক। প্রতিদিনের রান্না থেকে শুরু করে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও শিল্প কার্যক্রমে প্রাকৃতিক গ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে কোনো এলাকায় সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার আগে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের জানানো জরুরি। তিতাসের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সময় ও এলাকার তথ্য প্রকাশ করায় গ্রাহকরা অন্তত আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

গ্যাস সরবরাহ বন্ধের সময়কে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় আতঙ্কের কারণ নেই। এটি নির্ধারিত কারিগরি কাজের অংশ হিসেবে সাময়িক ব্যবস্থা। তবে গ্যাসের চাপ কম বা সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে দেরি হলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের ধৈর্য ধরতে হবে। কাজ শেষ হওয়ার পর বিতরণব্যবস্থা পরীক্ষা করে ধাপে ধাপে সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে।

এদিকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধের কারণে কোনো এলাকায় নির্ধারিত সময়ের তুলনায় বেশি সময় সমস্যা হলে গ্রাহকদের তিতাস গ্যাসের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানোর সুযোগ রয়েছে। কারিগরি কাজের অগ্রগতি এবং সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনার ওপর নির্ভর করবে।

আজ বুধবারের এই তিন ঘণ্টার সাময়িক গ্যাস সংকট তাই সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বেঙ্গল গ্লাস, শুকরশী, শিমরাইল এবং শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিমাংশের সান্দিরা বালুঘাট থেকে কাঁচপুর সেতুর পশ্চিম পাশের এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। তিতাসের কারিগরি কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হলে বিকেল ৫টার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কথা। তবে বাস্তবে সরবরাহ ও গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হতে পারে।

সাময়িক এই বিঘ্নের মধ্যেও গ্রাহকদের জন্য মূল বার্তা হলো নির্ধারিত সময়টি আগে থেকেই জেনে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা। অন্যদিকে তিতাস কর্তৃপক্ষের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করে দ্রুত ও নিরাপদভাবে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা। কারণ কয়েক ঘণ্টার এই কারিগরি কাজ শেষ পর্যন্ত যেন দীর্ঘস্থায়ী ভোগান্তিতে রূপ না নেয়, সেটিই এখন সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের প্রধান প্রত্যাশা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com