প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেনের রাজনৈতিক পরিপক্বতা, বয়স ও অভিজ্ঞতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য এবং বিএনপির সহ-সম্পাদক নিলোফার চৌধুরী মনি। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, ইশরাক হোসেন মূলত বাবার উত্তরসূরি হিসেবে ‘পোষ্য কোটায়’ রাজনীতিতে উঠে এসেছেন এবং তার মধ্যে গুরুতর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে। সম্প্রতি পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়া এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ইশরাক হোসেনের নাটকীয় ও ফিল্মী স্টাইলের মাদকবিরোধী অভিযানকে একটি অপরিণামদর্শী, খামখেয়ালি ও অভিজ্ঞতাহীন সিদ্ধান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।
একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের আলোচিত টক শোতে যুক্ত হয়ে নিলোফার চৌধুরী মনি এসব চাঞ্চল্যকর বক্তব্য দেন। গেন্ডারিয়ায় প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে অভিযানের ঘটনা নিয়ে তিনি বলেন, আত্মরক্ষার স্বার্থে লাইসেন্সকৃত অস্ত্র নিজের সঙ্গে রাখা আইনগতভাবে বৈধ বা সঠিক হলেও, একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্য কিংবা সাবেক প্রতিমন্ত্রীর পদে থেকে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে এমন তাণ্ডব চালানো কোনোভাবেই সমীচীন কিংবা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে না। জনসমক্ষে এভাবে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে সাধারণ মানুষ ও এলাকাকে ভীত-সন্ত্রস্ত করা কোনো দায়িত্বশীল রাজনেতার কাজ হতে পারে না। ইশরাকের বয়স ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা দুটোই অত্যন্ত কম। অবিভক্ত ঢাকার সফল মেয়র সাদেক হোসেন খোকার সন্তান হওয়ায় তিনি যে পারিবারিক ও পোষ্য কোটায় সহজে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, তা তার এই ধরনের অপরিণামদর্শী আচরণেই স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।
মনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ইশরাক হোসেন নিশ্চয়ই কোনো অশুভ কুচক্রী মহল বা অপকৌশলী ‘বুদ্ধিদাতাদের’ প্ররোচনা ও উসকানিতে প্ররোচিত হয়ে এ ধরনের অসচেতন ও নাটকীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। মাদকাসক্তদের পেছনে প্রকাশ্যে পিস্তল উঁচিয়ে দৌড়াদৌড়ি করে মূল্যবান সময় ও সম্মান নষ্ট করার কোনো প্রয়োজন ছিল না। এর বদলে মাদকের আসল মাফিয়া, মূল গডফাদার ও সরবরাহকারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। তবে টক শোতে আলোচনা প্রসঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এমপি-মন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনাকে একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি বলে অভিহিত করেন মনি। তিনি দাবি করেন, বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসে এই পদত্যাগের সিদ্ধান্তগুলো দেশের রাজনীতিতে একটি প্রশংসনীয় নজির ও দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও অন্তর্ঘাতের ইঙ্গিত দিয়ে নিলোফার চৌধুরী মনি আরও বলেন, ঢাকা শহরের রাজনীতিতে সাদেক হোসেন খোকার পরিবার ও তার ছেলে হিসেবে ইশরাক অত্যন্ত সুপরিচিত ও গুরুত্বপূর্ণ একটি নাম। আগামী দিনে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনই ছিল তার রাজনীতির মূল লক্ষ্য। এই ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহানুভূতিশীল অবস্থানকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে তিনি এটিকে ‘মাছের মায়ের পুত্রশোক’ বলে অভিহিত করেন। মনি দাবি করেন, মূলত প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপিকে কোণঠাসা ও ব্যাকফুটে ঠেলে দিতে এবং আসন্ন নির্বাচনে অন্যায্য সুবিধা হাসিল করতেই ইশরাককে একটি বিশেষ চক্র উসকানি দিয়ে এই বিতর্কের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
একটি জনপ্রিয় বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে যুক্ত হয়ে সরাসরি আলোচনায় নিলোফার চৌধুরী মনি এই বিস্ফোরক বক্তব্য দেন। গেন্ডারিয়ায় ইশরাকের অস্ত্র হাতে মহড়া দেওয়ার ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করে মনি বলেন, নিজের নিরাপত্তার খাতিরে লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র সাথে রাখা আইনগতভাবে বৈধ হলেও, একজন জনপ্রতিনিধি, নির্বাচিত সংসদ সদস্য কিংবা সাবেক প্রতিমন্ত্রীর পদে থেকে প্রকাশ্যে জনসম্মুখে এভাবে পিস্তল উঁচিয়ে মহড়া দেওয়া কোনোভাবেই সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি বা শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না। জনপদের মানুষের সামনে নিজের প্রভাব বা অস্ত্র প্রদর্শন করে সাধারণ মানুষকে ভীত-সন্ত্রস্ত করা কোনো দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাজ হতে পারে না। তিনি খোলামেলাভাবে বলেন, ইশরাক হোসেনের বয়স যেমন কম, তেমনি রাজনীতির কৌশলগত মারপ্যাঁচ ও বাস্তব অভিজ্ঞতার অভাবও স্পষ্ট। ঢাকার অভিভাবক হিসেবে পরিচিত সাদেক হোসেন খোকার সন্তান হওয়ার সুবাদে তিনি যেভাবে খুব সহজে রাজনীতিতে নেতৃত্বের আসনে চলে এসেছেন, তারই মাশুল দিতে হচ্ছে এমন সব অপরিপক্ক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে।
ইশরাকের এই হুটকারী সিদ্ধান্তের পেছনে গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে মনি বলেন, ইশরাক হোসেন নিশ্চয়ই কোনো বিষাক্ত চক্রান্তকারী মহল বা ভুল দিকনির্দেশনা দেওয়া ‘বুদ্ধিদাতাদের’ প্ররোচনা ও উসকানিতে পড়ে এ ধরনের নাটকীয় পথ বেছে নিয়েছেন। পাড়া-মহল্লার চুনোপুঁটি মাদকসেবীদের পেছনে হাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করে নিজের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং মূল্যবান সময় নষ্ট করার কোনো যৌক্তিকতা ছিল না। এই ধরনের লোকদেখানো অভিযানের বদলে মূল মাদক মাফিয়া, আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেট এবং মাদকের প্রধান সরবরাহকারীদের চিহ্নিত করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সাথে নিয়ে সমন্বিত আইনি ব্যবস্থা নেওয়াই ছিল একজন পরিপক্ক রাজনীতিকের করণীয়। তবে আলোচনার একপর্যায়ে রাজনৈতিক নীতি-নৈতিকতার প্রসঙ্গ টেনে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এমপি-মন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনাকে স্বাগত জানান মনি। তিনি বলেন, বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসে স্বচ্ছতা ও পদত্যাগের এই দৃষ্টান্ত দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক নতুন ইতিবাচক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।
রাজনীতির ভেতরের গভীর চক্রান্তের আভাস দিয়ে সংরক্ষিত আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, ঢাকা শহরের রাজনীতিতে সাদেক হোসেন খোকার পরিবার একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী নাম এবং সেই ঐতিহ্য বহন করার কারণে ইশরাক হোসেনের মূল লক্ষ্য ছিল ঢাকা উত্তর বা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নগরপিতা হওয়া। এই ঘটনার পর নতুন উদীয়মান রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ইশরাকের প্রতি সহানুভূতিশীল অবস্থানকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে মনি এটিকে ‘মাছের মায়ের পুত্রশোক’ হিসেবে বর্ণনা করেন। মনি স্পষ্ট অভিযোগ তোলেন, মূলত প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা ও ব্যাকফুটে ঠেলে দেওয়া এবং আসন্ন নির্বাচনে অনুচিত ফায়দা হাসিল করতেই একটি মহল পরিকল্পিতভাবে ইশরাককে উসকানি দিয়ে এমন আত্মঘাতী ও বিতর্কিত পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।
দেশের ভয়াবহ মাদক পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক স্থবিরতা নিয়ে নিজের গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে নিলোফার চৌধুরী মনি বলেন, এই মুহূর্তে বাংলাদেশে ক্রাইম ও সামাজিক অপরাধের এক নম্বর মূল কারণ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে মাদক। তৃণমূলের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে রাজধানীর অভিজাতপাড়া—সর্বত্র মাদকের বিষাক্ত থাবা ছড়িয়ে পড়েছে এবং তরুণ সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। কিন্তু প্রশাসনের অভ্যন্তরে থাকা কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা, দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ সদস্য ও প্রভাবশালী আমলাদের নেপথ্য মদদ ও অনৈতিক আর্থিক সুযোগ সুবিধার কারণে সরকার কিংবা রাষ্ট্র চাইলেও মাদকের এই কালো সিন্ডিকেট পুরোপুরি নির্মূল করতে পারছে না। ফলে এর মাসুল গুনতে হচ্ছে সাধারণ পরিবার ও পুরো জাতিকে।
দেশের বিদ্যমান মাদক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে সংরক্ষিত আসনের এই নারী সংসদ সদস্য বলেন, মাদক এখন পুরো বাংলাদেশের এক নম্বর জাতীয় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। শহরের অভিজাত এলাকা থেকে শুরু করে একদম গ্রামগঞ্জের তৃণমূল পর্যন্ত মাদকের নীল ধ্বংসাত্মক জাল বিস্তৃত হয়েছে। কিন্তু প্রশাসন ও আমলাতন্ত্রের ভেতরের কতিপয় দুর্নীতিগ্রস্ত ও অসাধু কর্মকর্তার নেপথ্য মদদ এবং অশুভ সহযোগিতার কারণে রাষ্ট্র চাইলেও এই প্রাণঘাতী মাদকের স্থায়ী ও কার্যকর সমাধান করতে পারছে না, যা পুরো জাতির ভবিষ্যতের জন্য চরম হুমকি স্বরূপ।
স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত