সর্বশেষ :
রায়গঞ্জে মার্কেটে ভয়াবহ আগুন: পুড়ল ৭৫ লাখ টাকার মালামাল মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশির তথ্য তলব: বিস্তারিত জানায়নি রিয়াদ নেত্রকোনার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে যুক্ত শেরপুর: ব্যয় বাড়ছে প্রায় ১২০০ কোটি টাকা হরমুজ প্রণালিতে এক রাতে ৭টি জাহাজে ইরানের হামলা সরাইল থানায় এমপি রুমিন ফারহানা ও ওসির তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা আওয়ামী লীগের শীর্ষ ৭ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র প্রস্তুত চাঁদপুরে সহস্রাধিক একর কৃষিজমি মুক্ত করতে প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযান প্রাথমিকে বই ছাপায় গতি বাড়লেও মাধ্যমিকে কিছুটা ধীরগতি অপ্রতিম হত্যায় ৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট: দুজন কিশোর চকরিয়ায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষে প্রাণ গেল দুই তরুণের

আওয়ামী লীগের শীর্ষ ৭ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র প্রস্তুত

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৪ বার
আওয়ামী লীগের শীর্ষ ৭ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র প্রস্তুত

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও শীর্ষ নীতিনির্ধারক পর্যায়ের সাত প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) প্রস্তুত করেছে তদন্ত সংস্থা। দীর্ঘ নিবিড় তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করার পর এই প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রসিকিউশন টিম নথিপত্রসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আইনি পর্যালোচনা করছে। আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করে খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগপত্র ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

অভিযোগপত্রে নাম থাকা হেভিওয়েট সাত অভিযুক্ত হলেন— আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও ১৪ দলীয় জোটের সাবেক সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু, সাবেক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ফারুক খান, সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী ও প্রভাবশালী শ্রমিক নেতা শাজাহান খান, সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। প্রসিকিউশন সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, আসামিদের মধ্যে আমির হোসেন আমু, শাজাহান খান, কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ফারুক খান ও মির্জা আজমের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কোনো মামলায় এটিই প্রথম পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন ও অভিযোগপত্র।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম এই বিষয়ে গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন। তিনি জানান, এই মামলায় নাম থাকা সাত আসামির প্রত্যেকেই তৎকালীন ক্ষমতাসীন সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। রাষ্ট্র পরিচালনা ও দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁরা অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করতেন। গণআন্দোলন দমনকালে তাঁদের প্রদত্ত নির্দেশ, সিদ্ধান্ত ও পরোক্ষ ভূমিকার বিষয়টি তদন্তে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ (উর্ধ্বতন কমান্ডের দায়িত্বশীলতা) নীতির আওতায় সুনির্দিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

প্রসিকিউটর তামীম আন্তর্জাতিক রিপোর্টের প্রসঙ্গ টেনে আরও উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্বিচার গুলিবর্ষণ ও হামলায় অগণিত সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (OHCHR) থেকে প্রকাশিত তথ্যানুসন্ধানী (ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং) প্রতিবেদনেও ওই সময়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন ছাত্র-জনতা নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। শীর্ষ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পদে থেকে এই ব্যাপক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড রোধে পদক্ষেপ না নেওয়া কিংবা উসকানি ও নির্দেশ দেওয়ার কারণে সকল আসামির বিরুদ্ধে উর্ধ্বতন কমান্ডের সুনির্দিষ্ট দায় আনা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রভাবশালী এই সাত অভিযুক্ত হলেন— আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের প্রবীণ সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও ১৪ দলীয় জোটের সাবেক প্রধান সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু, সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ফারুক খান, সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের প্রভাবশালী নেতা শাজাহান খান, সাবেক কৃষিমন্ত্রী ও দলটির সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এবং ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। প্রসিকিউশনের দায়িত্বশীল সূত্র থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, আসামিদের তালিকায় থাকা আমির হোসেন আমু, শাজাহান খান, কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ফারুক খান এবং মির্জা আজমের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কোনো মামলায় এটিই প্রথম পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন ও চার্জশিট প্রস্তুতের ঘটনা।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম সার্বিক বিষয়ে গণমাধ্যমের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তৎকালীন ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে সরকারি বাহিনীর পাশাপাশি রাজনৈতিক ক্যাডারদের উন্মুক্ত ব্যবহার করা হয়েছিল। এই মামলায় অভিযুক্ত সাত আসামির প্রত্যেকেই তৎকালীন ক্ষমতাসীন সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পদে আসীন ছিলেন। রাষ্ট্র পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সিদ্ধান্ত প্রদান এবং দলীয় কৌশলগত নীতিনির্ধারণে তাঁদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত সক্রিয় ও প্রভাবশালী। গণআন্দোলন কঠোর হাতে দমনে তাঁদের প্রদত্ত প্রশাসনিক নির্দেশ, উসকানিমূলক রাজনৈতিক বক্তব্য এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকার বিষয়টি তদন্তে অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে উঠে এসেছে। ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন অনুযায়ী ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ বা উর্ধ্বতন কমান্ডের সার্বিক দায়িত্বশীলতার নীতিতে সুনির্দিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রসিকিউটর তামীম বিশ্বমঞ্চের আন্তর্জাতিক রিপোর্টের উদ্বৃতি দিয়ে আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে আন্দোলনের সময় তৎকালীন সরকার ও সামরিক-অর্ধসামরিক ও পুলিশ বাহিনীর অমানবিক অপারেশনে সারা দেশে যে অভূতপূর্ব ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রাণহানি ঘটেছে, তা আন্তর্জাতিক অপরাধের স্পষ্ট পরিসংখ্যান। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (OHCHR) থেকে প্রকাশিত নিবিড় অনুসন্ধানী (ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং) প্রতিবেদনেও ওই আন্দোলন চলাকালে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিরপরাধ ছাত্র-জনতাকে নির্মমভাবে হত্যার তথ্য বিশ্ব দরবারে উন্মোচিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক উচ্চপদে থেকে এই নির্বিচার হত্যাকাণ্ড বন্ধে পদক্ষেপ না নেওয়া, বরঞ্চ তা উসকে দেওয়া এবং নীতিগত সম্মতি প্রদান করার কারণেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এই কঠিন প্রশাসনিক ও আইনি সুপিরিয়র কমান্ডের দায় নির্ধারণ করা হয়েছে।

মামলার বিস্তারিত আইনি নথিপত্র ও চার্জশিটের ধারা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অন্যতম প্রধান আসামি সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান মাদারীপুর-২ আসনের টানা বহুবারের সংসদ সদস্য ছিলেন এবং দীর্ঘদিন যাবত পরিবহন খাতের শক্তিশালী সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি হিসেবে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আন্দোলন চলাকালীন মাদারীপুর অঞ্চলে রাজপথে সংঘটিত একাধিক নৃশংস হত্যাযজ্ঞ, হামলা ও উর্ধ্বতন কমান্ডের দায়িত্বশীলতাজনিত মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত থাকার বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে দুটি পৃথক ও সুনির্দিষ্ট চার্জ গঠন করা হয়েছে। অন্যদিকে, বাকি ছয় শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলন চলাকালে রাজধানী ঢাকার উত্তরা, মিরপুর, ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন পয়েন্টে নিরীহ আন্দোলনকারীদের ওপর সংগঠিত হামলা ও হত্যাকাণ্ডে মদদ দান ও নির্দেশের বিষয়ে অভিযোগপত্র তৈরি করা হয়েছে। ৭ জন আসামির প্রত্যেকেই বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আটক রয়েছেন। ট্রাইব্যুনালে দাখিলের পর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় এই মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কাজ শুরু হবে।

মামলার বিস্তারিত নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অন্যতম আসামি সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান মাদারীপুর-২ আসনের টানা একাধিকবারের সংসদ সদস্য ছিলেন এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় মাদারীপুর অঞ্চলে সংঘটিত নৃশংস হত্যাযজ্ঞ, হামলা ও উর্ধ্বতন কমান্ডের দায়িত্বশীলতাজনিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে দুটি পৃথক অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অপরদিকে, অন্য ছয় শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর উত্তরা ও মিরপুরসহ বিভিন্ন পয়েন্টে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে মদদ দেওয়ার বিষয়ে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। ৭ জন আসামিই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। প্রসিকিউশন থেকে আনুষ্ঠানিক সবুজ সংকেত পেলেই ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রমের শুভ সূচনা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com