সরাইল থানায় এমপি রুমিন ফারহানা ও ওসির তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৯ বার
সরাইল থানায় এমপি রুমিন ফারহানা ও ওসির তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা

প্রকাশ:২৩ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এবং সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়ার মধ্যে এক চরম উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সরাইল থানার ওসির নিজস্ব কার্যালয়ে সংসদ সদস্য ও তাঁর শতাধিক দলীয় নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। ঘটনার সময় ধারণ করা একাধিক ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে, যা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, ওসির কক্ষে তাঁর ঠিক বিপরীত পাশে বসা সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা এবং চারপাশ থেকে তাঁকে ঘিরে রেখেছেন সংসদ সদস্যের সমর্থক ও স্থানীয় নেতাবৃন্দ। সংসদ সদস্য, তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) জাকির হোসেন এবং সঙ্গীয় নেতারা একযোগে থানার ওসিকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করতে থাকেন। রুমিন ফারহানার অভিযোগ, সরাইল থান এলাকায় তিনি বারবার নিরাপত্তা চাইলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকি তাঁর পিএস নিরাপত্তা সংক্রান্ত জরুরি প্রয়োজনে ওসিকে টানা ১২ বার ফোন করলেও তিনি কল রিসিভ করার সৌজন্য দেখাননি। একপর্যায়ে উত্তপ্ত আলোচনার মধ্যে ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া জেলা পুলিশ সুপারকে (এসপি) ফোন দিয়ে থানায় ‘মব’ বা অনাকাঙ্ক্ষিত ভিড় সৃষ্টির অভিযোগ আনেন এবং ভিডিও কলে কক্ষে উপস্থিত ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের দৃশ্য তুলে ধরেন। তখন রুমিন ফারহানা এসপির সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও ওসি তাতে সাড়া দেননি।

ভিডিওর একপর্যায়ে দুর্নীতি ও নিরাপত্তা দেওয়া না-দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের যুক্তি-তর্কের পারদ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। রুমিন ফারহানা সরাইল থানার ওসির বিরুদ্ধে এলাকায় অবৈধ ইটভাটা, বেআইনি মাটি কাটা এবং নদী থেকে বালু উত্তোলন কার্যক্রম থেকে অসৎ উদ্দেশ্যে নিয়মিত অর্থ নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ তোলেন। নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ওসিকে প্রশ্ন করা হলে ওসি মন্তব্য করেন, জনপ্রতিনিধিদের নিজস্ব নিরাপত্তার ব্যবস্থা তাঁদের লোকজনেরই করা উচিত। ওসির এমন মন্তব্যের জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, আপনি তো প্রচ্ছন্নভাবে বড় আওয়ামী লীগ সমর্থক ছিলেন এবং আপনার সব অতীতের ইতিহাস আমার জানা আছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা জানান, সরাইল থানার ওসির বিরুদ্ধে নিয়মিত চাঁদাবাজি, অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়া ও স্থানীয় নানা অনিয়মের দুই পৃষ্ঠার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের একটি তালিকা নিয়ে তিনি প্রশাসনিক আলোচনার উদ্দেশ্যে থানায় গিয়েছিলেন। তবে ওসি সেসব অভিযোগের কোনো সন্তোষজনক বা সদুত্তর দিতে পারেননি। ‘মব’ বা আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অভিযোগ পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ক্ষোভের সঙ্গে জানান, দুর্গাপূজার উৎসব চলাকালীন আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর থানা পুলিশ তাঁকে প্রটোকল ও পূর্ণ নিরাপত্তা প্রদান করলেও সরাইল থানার ওসি সম্পূর্ণ উদাসীন ছিলেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মব সাধারণত থানায় আসামি ছিনতাই করতে যায়, কিন্তু তিনি কি কোনো আসামি ছিনতাই করতে গেছেন কিংবা নিজের স্বার্থে কোনো অবৈধ অর্থ দাবি করেছেন? যেহেতু ওসি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে নিরাপত্তা নিজেকেই গুছিয়ে নিতে হবে, তাই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এখন থেকে যেখানেই যাবেন, ১০ হাজার সাধারণ সমর্থক সঙ্গে নিয়েই চলাফেরা করবেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া পৃথক তিনটি ভিডিওর ফুটেজ বিশদ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, একটি ভিডিওর দৈর্ঘ্য ৭ মিনিট ৮ সেকেন্ড, অন্যটির ৫৭ সেকেন্ড এবং তৃতীয়টির দৈর্ঘ্য ২ মিনিট ২৩ সেকেন্ড। ভিডিওগুলোতে সরাইল থানার ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়াকে তাঁর দাপ্তরিক চেয়ারে বসে থাকতে দেখা যায়। ওসির ঠিক পাশের চেয়ারেই গম্ভীর মুখে উপবিষ্ট ছিলেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তবে ওসির দাপ্তরিক টেবিলের চারপাশ ঘিরে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন সংসদ সদস্যের সঙ্গে আসা বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও স্থানীয় সমর্থক। সেখানে থাকা সংসদ সদস্য, তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) জাকির হোসেন এবং সঙ্গীয় নেতারা একযোগে থানার বিভিন্ন প্রশাসনিক গাফিলতি ও অনিয়ম নিয়ে ওসিকে বিভিন্ন প্রশ্নে জর্জরিত করতে থাকেন।

সংসদ সদস্য ও তাঁর অনুসারীদের মূল ক্ষোভের বিষয় ছিল—বিগত কিছুদিন ধরে সরাইল থানা এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংসদ সদস্য নিজে ও তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী বারবার টেলিফোন করলেও ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া তা রিসিভ করার ন্যূনতম সৌজন্য দেখাননি। এমন গুরুতর অভিযোগের সময় থানার ভেতরে হঠাৎ পরিবেশ আশঙ্কাজনক ও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া উপস্থিত নেতা-কর্মীদের তোপের মুখে তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল ফোনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা পুলিশ সুপারকে (এসপি) ডায়াল করেন। ফোনে এসপিকে পুরো বিষয়টি অবহিত করার সময় ওসি অভিযোগ করেন যে, এমপি তাঁর কার্যালয়ে লোকবল নিয়ে এসে অস্থিতিশীল ‘মব’ বা অনাকাঙ্ক্ষিত জনতার চাপ সৃষ্টি করেছেন। এ সময় ওসি তাঁর মোবাইলের ভিডিও কলের ক্যামেরা ঘুরিয়ে ওসির কক্ষে উপস্থিত ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের দৃশ্য সরাসরি পুলিশ সুপারকে দেখাতে থাকেন। তখন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা নিজে স্পিকার ফোনে এসপির সঙ্গে কথা বলতে চাইলে ওসি কোনো ইতিবাচক সাড়া না দিয়ে ফোন কেটে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

কথোপকথনের একপর্যায়ে স্থানীয় পুলিশি অনিয়ম, দুর্নীতি ও নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চরম বাকযুদ্ধের সৃষ্টি হয়। তীব্র বাদানুবাদের মধ্যে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা প্রকাশ্যে সরাইল থানার ওসির বিরুদ্ধে এলাকায় অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনা, অনিয়ন্ত্রিতভাবে ফসলি জমির মাটি কাটা এবং নদী থেকে বেআইনি বালু উত্তোলন সিন্ডিকেটের কাছ থেকে নিয়মিত বিপুল অঙ্কের অনৈতিক সুবিধা বা চাঁদা গ্রহণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তোলেন। এ বিষয়ে এমপি নিরাপত্তা না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে ওসির মুখ থেকে ভেসে আসে এক বিস্ফোরক মন্তব্য। ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া জবাব দেন, যেকোনো জনপ্রতিনিধি বা ব্যক্তির নিরাপত্তার সার্বিক ব্যবস্থা তাঁর নিজের লোকজনেরই করা উচিত, পুলিশি পাহারা সার্বক্ষণিক দেওয়া সম্ভব নয়। ওসির এ মন্তব্যের তীব্র পিঠটান দিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, “আপনি যখন বলতেছেন ওনার নিরাপত্তা ওনার লোকজন দিবেন, তার মানে আমি দিব না।” এর জবাবে ওসি বলেন, “এটাই তো স্বাভাবিক। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেভাবে রাস্তাঘাটে হাঁটি বেড়ায়…।” ওসির এই বক্তব্য শোনামাত্রই রুমিন ফারহানা কড়া ভাষায় জবাব দিয়ে বলেন, “আপনি তো বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন। জি স্যার, আপনার হিস্ট্রি তো আমি জানি।”

ঘটনার বিস্তারিত প্রেক্ষাপট ও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা পরবর্তীতে গণমাধ্যমকে জানান, সরাইল থানার ওসির বিরুদ্ধে নিয়মিত চাঁদাবাজি, অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়া ও স্থানীয় বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার বিষয়ে দু-দুই পৃষ্ঠার একটি সুনির্দিষ্ট ও তারিখসহ প্রস্তুতকৃত অভিযোগের তালিকা নিয়ে তিনি প্রশাসনিক আলোচনা করতে থানায় গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি কোনো ধরনের মারমুখী পরিবেশ চাননি, বরং প্রতিটি অপরাধের তারিখ ধরে ওসির কাছে জবাবদিহিতা চেয়েছিলেন। কিন্তু ওসি সেগুলোর কোনো সদুত্তর দিতে ব্যর্থ হন।

ওসির আনা ‘মব তৈরি’র অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও হাস্যকর আখ্যা দিয়ে ক্ষুব্ধ রুমিন ফারহানা বলেন, “মব সাধারণত যায় থানায় কোনো চিহ্নিত আসামি ছিনিয়ে আনতে। আমি কি কোনো আসামি ছিনিয়ে আনতে গেছি? দুই, আমি কি ওনার কাছে কোনো অবৈধ টাকা দাবি করেছি? তিন, আমি কি বলেছি আমাকে বিশেষ সুবিধা দিতে হবে? আমি তো এই তিনটার একটাও বলিনি, তবে কিসের মব?” নিরাপত্তা ঘাটতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি আরও জানান, শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর থানা পুলিশ তাঁকে সর্বোচ্চ সরকারি প্রটোকল ও পূর্ণ নিরাপত্তা প্রদান করলেও সরাইল থানার ওসি সম্পূর্ণ উদাসীন ছিলেন। তাঁর পিএস ১২ বার কল করলেও ওসি ফোন ধরেননি। পরিশেষে রুমিন ফারহানা বলেন, যেহেতু ওসি নিজেই স্পষ্ট করে বলেছেন যে আমার নিরাপত্তা আমাকেই গুছিয়ে নিতে হবে, সেহেতু আমি আমার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে নিয়েছি। এখন থেকে আমি সরাইলের রাজপথে যেকোনো কর্মসূচিতে ১০ হাজার অনুসারী ও সাধারণ মানুষ সঙ্গে নিয়েই চলাচল করব।

অন্যদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব আর্থিক অনিয়ম ও চাঁদাবাজির অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া পাল্টা অভিযোগ আনেন। তিনি জানান, সংসদ সদস্য মহোদয় সরকারি নিয়ম-কানুন ও থানার দাপ্তরিক মর্যাদা উপেক্ষা করে শত শত অনাহূত লোক সঙ্গে নিয়ে থানার প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন এবং হইচই করে চরম বিশৃঙ্খলা ও ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন। এতে পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়াসহ এক বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি হয়।

ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়ে সরাইল থানার ওসির সাফাই, পূজা উপলক্ষে পুরো উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যস্ত ছিল। ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পুলিশের গানম্যান পাওয়ার আবেদন করার বিধান রয়েছে, যা সাধারণ ডিউটি থেকে ভিন্ন। পূজার চরম ব্যস্ততার সময় একটা পুলিশি দল সার্বক্ষণিক তাঁর সঙ্গে প্রটোকলে রাখা থানার পক্ষে কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না। ওসির আরও গুরুতর পাল্টা দাবি, সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা মূলত আওয়ামী লীগের তালিকাভুক্ত আসামি ও বিতর্কিত লোকজনকে পুলিশি গ্রেপ্তার থেকে রক্ষা করতে এবং থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে সব সময় তাঁর ওপর অনৈতিক প্রভাব ও মানসিক চাপ প্রয়োগ করে আসছিলেন। তিনি জানান, এমপির এসব অনৈতিক সুপারিশের বিষয়গুলো তিনি লিখিতভাবে নোট ডাউন করে রেখেছেন। সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে ও রুদ্রমূর্তি ধারণ করে থানায় এসে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হয়েছে বলে দাবি করেন এই কর্মকর্তা। সরাইল থানার ভেতরে ঘটে যাওয়া এই প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব ও পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ঘটনায় পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়া জুড়ে এখন চরম উত্তেজনা ও তুমুল মুখরোচক আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে

অপরদিকে, সব অভিযোগ অস্বীকার করে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া জানান, সংসদ সদস্য মহোদয় শত শত উত্তেজিত লোক সঙ্গে নিয়ে থানার প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন, যা কোনো সুস্থ পরিবেশের লক্ষণ নয়। দুর্গাপূজার নিরাপত্তার বিষয়ে ওসি দাবি করেন, পূজা উপলক্ষে পুরো উপজেলায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ ব্যস্ত ছিল। কোনো ব্যক্তিবর্গের আলাদা সিকিউরিটির জন্য গানম্যানের আবেদন আলাদা বিষয়, পুলিশ বাহিনী কোনো ব্যক্তিগত পাহারাদার দল হিসেবে কাজ করতে পারে না। একই সঙ্গে ওসির পাল্টা দাবি, সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা মূলত আওয়ামী লীগের গ্রেপ্তারকৃত বা অভিযুক্ত লোকজনকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য তাঁর ওপর অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছিলেন এবং তিনি সব ঘটনার তথ্য লিখিতভাবে সংরক্ষণ করে রেখেছেন। বর্তমানে থানা প্রাঙ্গণে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতি ও সুশীল সমাজে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com