সর্বশেষ :
প্রথমবার মার্কিন সফরে চরমোনাই পীর: লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে নানা আলোচনা তিব্বতে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ১৬, তাইওয়ানে টাইফুনের আঘাত কালীগঞ্জে পুলিশ টহল দলকে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কা: এসআই ও পথচারী নিহত কুতুবদিয়ায় জেলেপল্লীতে ভয়াবহ আগুন: পুড়ে ছাই ৩৩ বসতঘর জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের অনুষ্ঠান নিয়ে বিরোধী দল ধোঁকাবাজি করেছে: মীর শাহে আলম সৌদির কারাগারে সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি: শামা ওবায়েদ বাংলাদেশে ৬৩৬ কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ করবে জাপান সমাজে অশান্তি সৃষ্টিকারী লংমার্চ জনগণ মেনে নেবে না: এ্যানি সার ডিলার নিয়োগের তালিকা প্রকাশে বিলম্ব: হতাশ বগুড়ার ব্যবসায়ীরা রায়গঞ্জে মার্কেটে ভয়াবহ আগুন: পুড়ল ৭৫ লাখ টাকার মালামাল

প্রথমবার মার্কিন সফরে চরমোনাই পীর: লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে নানা আলোচনা

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৫ বার
প্রথমবার মার্কিন সফরে চরমোনাই পীর: লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে নানা আলোচনা

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম তাঁর রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক জীবনের প্রথম ঐতিহাসিক পদক্ষেপে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর থেকেই সেখানে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশি ও মুসলিম কমিউনিটির মধ্যে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য ও আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দলের মতাদর্শগত অবস্থান সুদৃঢ় করা, সুফি দর্শনের প্রচার এবং প্রবাসীদের মাঝে দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা এই সফরের মূল উদ্দেশ্য বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এই সফরকে কেন্দ্র করে কয়েক মাস আগে দলের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের দেওয়া একটি রাজনৈতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

দলীয় সূত্র ও বার্তা থেকে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত আন নূর ফাউন্ডেশনের বিশেষ আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে ১৪ দিনের এই দীর্ঘ দাওয়াতি সফরে চরমোনাই পীর গত ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। পরের দিন ১৪ অক্টোবর নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় অভার্য্থনা জানান দারুল উলুম নিউইয়র্কের প্রেসিডেন্ট সরদার বরকাতুল্লাহ, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ফকিহ মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ এবং বায়তুল আমান জামে মসজিদের প্রধান ইমাম মাওলানা আজির উদ্দিনসহ বিশিষ্ট প্রবাসী আলেমগণ। সফরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটি, মসজিদ কমিটি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার ইসলামিক ব্যক্তিত্বদের সাথে ধারাবাহিক মতবিনিময় ও আধ্যাত্মিক বয়ানে অংশ নিচ্ছেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের মতে, এই কূটনৈতিক ও আধ্যাত্মিক দূরদর্শিতাপূর্ণ সফরের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দলটির পরিচিতি ও ভাবমূর্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশের বাইরে, বিশেষ করে পশ্চিমা গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে ধর্মভিত্তিক দল হিসেবে এতদিন জামায়াতে ইসলামী বেশি পরিচিত লাভ করলেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কিছুটা আড়ালে ছিল। নেতাদের ধারণা, এই প্রাতিষ্ঠানিক সফরের মাধ্যমে সেই আন্তর্জাতিক ঘাটতি দূর হবে এবং বৈশ্বিক অঙ্গনে সুফিবাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত সুফিভিত্তিক সুন্নী মতাদর্শের ইতিবাচক দিকগুলো বিশ্ব দরবারে সঠিকভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে। তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে রেজাউল করীমের চেয়ে চরমোনাই পীর হিসেবে তাঁর আধ্যাত্মিক পরিচিতিই প্রবাসীদের মাঝে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক ইসলামিক ফোরামগুলোতে সুফি দর্শনের যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় হচ্ছে।

তবে পীর সাহেবের এই যুক্তরাষ্ট্র সফরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষুরধার সমালোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে দলের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির ফয়জুল করীমের একটি অতীত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। গত ২২ জুলাই বরিশালের গৌরনদীতে এক সম্মেলনে ফয়জুল করীম এক রাজনৈতিক জোটে অন্যান্য দলের গতিপথ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছিলেন, তাঁদের কাফেলা মদিনার দিকে চলার কথা থাকলেও অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে সেই কাফেলা আমেরিকার দিকে মোড় নিয়েছে এবং মদিনাওয়ালারা কখনো আমেরিকামুখী হতে পারে না। পীর সাহেবের সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র সফরের পর সমালোচকরা সেই বক্তব্য মনে করিয়ে দিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। যদিও এসব সমালোচনাকে একেবারেই ভিত্তিহীন ও অবান্তর বলে উড়িয়ে দিয়েছেন দলের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে প্রবাসীদের দ্বীনি দাওয়াত দেওয়া বা ইসলামিক সম্মেলনে অংশ নেওয়ার অর্থ এই নয় যে দল যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক নীতি গ্রহণ করেছে। সেখানে কোনো রাজনৈতিক বার্তা না দিয়ে কেবল নৈতিক ও ধর্মীয় সংস্কারের কথাই বলা হচ্ছে।

দলীয় বিশ্বস্ত সূত্র ও পররাষ্ট্র ডেস্কের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক সুপরিচিত ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক সংস্থা ‘আন নূর ফাউন্ডেশন’-এর বিশেষ দাপ্তরিক ও প্রাতিষ্ঠানিক আমন্ত্রণে দীর্ঘ ১৪ দিনের এক ঠাসা সূচির দাওয়াতি সফর বাস্তবায়নে গত ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন চরমোনাই পীর। তিনি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স এমিরেটস-এর একটি নিয়মিত ফ্লাইটে আটলান্টিক পাড়ি দেন। পরের দিন ১৪ অক্টোবর সকালে নিউইয়র্কের বিশ্বখ্যাত জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরন করলে তাঁকে প্রবাসী বাংলাদেশি আলেম সমাজ ও ইসলামী আন্দোলনের যুক্তরাষ্ট্র শাখার পক্ষ থেকে অভূতপূর্ব রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অভ্যর্থনা জানানো হয়। বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে তাঁকে উষ্ণ অভিবাদন জানান দারুল উলুম নিউইয়র্কের সম্মানীয় প্রেসিডেন্ট সরদার বরকাতুল্লাহ, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ফকিহ প্রখ্যাত আলেম মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ এবং ঐতিহ্যবাহী বায়তুল আমান জামে মসজিদের প্রধান ইমাম মাওলানা আজির উদ্দিনসহ উত্তর আমেরিকার বিশিষ্ট প্রবাসী ব্যক্তিত্বরা। এই টানা দুই সপ্তাহের সফরে চরমোনাই পীর নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, মিশিগান ও বাফেলোসহ যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক প্রধান প্রধান অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী, বিভিন্ন মসজিদ কমিটির দায়িত্বশীল, ব্যবসায়ী সংগঠন ও আন্তর্জাতিক মুসলিম সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধিদের সাথে একের পর এক মতবিনিময় ও বিশেষ ইসলামিক কনফারেন্সে অংশ নিচ্ছেন।

ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের এই কূটনৈতিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্বসম্পন্ন মার্কিন সফর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলায় এক মাইলফলক তৈরি করবে। কারণ, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের বাইরে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত পশ্চিমা দেশগুলোতে ধর্মভিত্তিক বা ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল হিসেবে কেবল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বা খেলাফত মজলিসই আন্তর্জাতিক প্রাতিষ্ঠানিক পরিচিতি ও লবিং বজায় রাখতে পেরেছিল। সেই তুলনায় বাংলাদেশে বিশাল ভোটব্যাংক ও শক্তিশালী তৃণমূল ভিত্তি থাকা সত্ত্বেও ইসলামী আন্দোলন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজেদের পরিচিতি সেভাবে তুলে ধরতে পারেনি। দলটি দীর্ঘদিন ধরে সুফি ও দেওবন্দি চিন্তাধারার মেলবন্ধনে সুন্নী মতাদর্শের রাজনীতি করলেও পশ্চিমা নীতিনির্ধারক ও আন্তর্জাতিক মুসলিম সংস্থার কাছে তাঁদের সেই ভাবমূর্তি অস্পষ্ট ছিল। চরমোনাই পীরের সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র সফরের মধ্য দিয়ে সেই বহুল আলোচিত প্রাতিষ্ঠানিক শূন্যতা দূর হবে বলে আশা করছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে তিনি রাজনৈতিক দলীয় প্রধানের পরিচয়ের চেয়ে আধ্যাত্মিক সুফি সাধক বা ‘চরমোনাই পীর’ হিসেবে বেশি গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছেন, যা বৈশ্বিক সুফি আন্দোলনের সাথে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী চরমোনাই ধারার গভীর সংযোগ তৈরি করছে।

তবে পীর সাহেবের মার্কিন মাটিতে এই অভূতপূর্ব উপস্থিতি হঠাৎ করেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে দলের শীর্ষ পর্যায়ের অপর এক নেতার অতীতের তীক্ষ্ণ মন্তব্যের কারণে। গত ২২ জুলাই বরিশালের গৌরনদীতে অনুষ্ঠিত ইসলামী যুব আন্দোলনের জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বিরোধী রাজনৈতিক জোট ও জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ইঙ্গিত করে এক তীব্র খোঁচা দিয়েছিলেন। সেদিন তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন যে, প্রপ্রকৃত মদিনা সনদ ও ইসলামের মূলনীতির ভিত্তিতে দেশ পরিচালনার লক্ষ্যে একটি জাতীয় মোর্চা বা বাক্স তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যার নেতৃত্বে ছিলেন স্বয়ং চরমোনাই পীর। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে আন্দোলনের স্টিয়ারিং বা রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা মাঝপথে ছিনতাই বা ডাকাতি হয়ে গেছে। তাঁরা সুনির্দিষ্টভাবে পবিত্র মদিনার আদর্শের দিকে চলছিলেন, কিন্তু হঠাৎ দেখা গেল একটি বিশেষ কাফেলা রাতারাতি আমেরিকার দিকে ধাবিত হচ্ছে; অথচ খাঁটি মদিনাওয়ালা প্রেমিকরা কখনো নীতি বিক্রি করে আমেরিকার দিকে ঝুঁকতে পারে না। পীর সাহেবের সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে যাত্রার পর সেই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ভাইরালে পরিণত হয় এবং প্রতিপক্ষ দলগুলো চরমোনাই পীরের দিকেই উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে দিতে শুরু করে। এমনকি বাংলাদেশ মাজলিসুল মোফাসসিরিনের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা ফখরুদ্দিন আহমদসহ বহু প্রখ্যাত বক্তা সোশ্যাল মিডিয়ায় পীর সাহেবের সফরের সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন।

তীব্র এই বিতর্কের মুখে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যাপক গাজী আতাউর রহমান রাজনৈতিক অপপ্রচারের কড়া জবাব দিয়ে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কোনো ধর্মীয় নেতা বা চরমোনাই পীর প্রবাসীদের ধর্মীয় দাওয়াত দিতে বা আন্তর্জাতিক ইসলামিক সিম্পোজিয়ামে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া মানেই যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী নীতি বা তাদের রাজনৈতিক দর্শন মেনে নেওয়া নয়। চরমোনাই পীর কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মার্কিন সরকারের দ্বারে যাননি কিংবা দেশটির শাসকগোষ্ঠীর কোনো রাজনৈতিক প্রেসক্রিপশন গ্রহণ করতে সেখানে যাননি। তিনি একজন খাঁটি সুফি সাধক ও ধর্মীয় সংস্কারক হিসেবে প্রবাসী মুসলমানদের দ্বীনি শিক্ষা দিতে, প্রবাসীদের মধ্যে সৎ জীবনযাপনের তাগিদ দিতে এবং ইসলামী মূল্যবোধ জাগ্রত করতে মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টারে দাওয়াতি খুতবা দিচ্ছেন। ফলে এটিকে আগের রাজনৈতিক মন্তব্যের সাথে জড়িয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কোনো যুক্তিযুক্ত সুযোগ নেই।

সফরসূচির বিশদ বিবরণীতে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে পা রাখার পর থেকেই চরমোনাই পীর এক টানা ও ব্যস্ত দ্বীনি কর্মসূচি পালন করছেন। তিনি ইতোমধ্যে আমেরিকান মুসলিম সেন্টারের মহাসমাবেশ, পোর্ট ওয়াশিংটন মসজিদের বিশেষ ‘ইসলাহি বয়ান’, নিউ জার্সির ঐতিহ্যবাহী জালালাবাদ জামে মসজিদে জুম্মার বিশাল জামাতে ইমামতি ও খুতবা প্রদান এবং বায়তুল আমান ইসলামিক সেন্টারের ওয়াজ মাহফিলে প্রধান মেহমান হিসেবে আধ্যাত্মিক নসিহত পেশ করেছেন। এর পাশাপাশি ব্রঙ্কস মুসলিম সেন্টার, বাংলাদেশ মুসলিম সেন্টার জামে মসজিদ, ব্রুকলিনের ঐতিহাসিক মসজিদ আল-আমান ইনক, জ্যাকসন হাইটসের ব্যস্ততম সানাই পার্টি হল, বাফেলো সিটি এবং ঐতিহ্যবাহী ‘মসজিদে কুবায়’ আয়োজিত বিভিন্ন ইসলাহি বয়ান ও বিশ্বশান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিলে লাখো প্রবাসীর উদ্দেশ্যে হেদায়াতি বক্তব্য প্রদান করেছেন। সফরসূচির শেষভাগে মিশিগানের বিখ্যাত মাসজিদুন নূর ও আন নূর কালচারাল সেন্টারের বর্ণাঢ্য ইসলামিক সম্মেলনে অংশ নিয়ে সুফি দর্শনের সুমহান মানবতাবাদী বাণী বিশ্বদরবারে ছড়িয়ে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করছেন তিনি। এই সফল মার্কিন সফরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করে দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের আমির।

সফরসূচি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে চরমোনাই পীর ইতোমধ্যে আমেরিকান মুসলিম সেন্টার, পোর্ট ওয়াশিংটন মসজিদ, নিউ জার্সির জালালাবাদ জামে মসজিদ, বায়তুল আমান ইসলামিক সেন্টার, ব্রঙ্কস মুসলিম সেন্টার, বাংলাদেশ মুসলিম সেন্টার জামে মসজিদ এবং বাফেলোর বিভিন্ন ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলে গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক বয়ান পেশ করেছেন। এছাড়াও মিশিগানের মাসজিদুন নূর ও আন নূর কালচারাল সেন্টারের বিভিন্ন বর্ণাঢ্য আয়োজনে অংশ নিয়ে প্রবাসীদের মাঝে ইসলামের সুমহান শিক্ষা ও ভ্রাতৃত্ববোধ ছড়িয়ে দিচ্ছেন তিনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দলটিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এই সফর এক গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন দলটির নীতি নির্ধারকরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com