বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই গুরুতর রূপ নিচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৪৩০ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ২৯ হাজার ৯৪৪ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ১১৮ জনের মৃত্যু ঘটেছে।
আগস্ট মাসেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮ হাজার ৯৬৪ জন এবং এ মাসে ইতিমধ্যেই ৩৫ জন মারা গেছেন। বর্তমানে দেশে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ১ হাজার ৪২৬ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এদের মধ্যে ঢাকায় ভর্তি ৪৭৮ জন এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন বিভাগে ৯৪৮ জন চিকিৎসাধীন।
বছরের আগে মাসগুলোতে রোগীর সংখ্যা অনুযায়ী দেখা যায়, জানুয়ারিতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১৬১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩৭৪ জন, মার্চে ৩৩৬ জন, এপ্রিলে ৭০১ জন, মে’তে ১ হাজার ৭৭৩ জন, জুনে ৫ হাজার ৯৫১ জন এবং জুলাইয়ে ১০ হাজার ৬৮৪ জন। মৃত্যুর হিসাবও ক্রমবর্ধমান; জানুয়ারিতে ১০ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩ জন, এপ্রিলে ৭ জন, মে’তে ৩ জন, জুনে ১৯ জন এবং জুলাইয়ে ৪১ জন ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সতর্ক করেছে, ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা এবং মৃত্যুর হার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, standing পানি দূরীকরণ এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও কঠোরভাবে পালন করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যদি সচেতনতা বৃদ্ধি না পায় এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার না করা হয়, তবে আগামি মাসগুলোতে রোগী সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এই পরিস্থিতি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে এবং সময়মতো চিকিৎসা সুবিধা পৌঁছে দেওয়ায় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্যকর্মী ও জনসাধারণকে একযোগে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে এবং গ্রামীণ এলাকায় সতর্কতা জরুরি, কারণ সেখানে চিকিৎসা সুবিধা সীমিত এবং রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সঠিক রেকর্ড রাখা, আক্রান্ত এলাকা নিয়মিত স্প্রে করা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধমূলক শিক্ষামূলক প্রচারণা চালানো প্রয়োজন।