প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
হার্ট বা হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখা জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য শুধু খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম বা মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং ঘুমও এর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। আধুনিক গবেষণা দেখাচ্ছে, নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম না হলে হার্টে চাপ বৃদ্ধি পায়, যা উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা এবং এমনকি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক ঘুমের অভ্যাস হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমই স্বাস্থ্যকর হিসেবে ধরা হয়। এটি হার্টের ধমনী ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে, শরীরের প্রদাহজনিত উপাদান হ্রাস করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ঘুমের অভাবে শরীরের হরমোনজনিত ভারসাম্য নষ্ট হয়, যার ফলে কোলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারাইড এবং শর্করা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দেয়।
বয়স্কদের ক্ষেত্রে ঘুমের প্রয়োজন কিছুটা কমে আসে। ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম যথেষ্ট মনে করা হয়। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে ঘুমের চক্র স্বাভাবিকভাবে পরিবর্তিত হয়, তবে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ ও মারাত্মক প্রভাব দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে দীর্ঘকালীন ঘুমের অভাব হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
প্রতিদিন ৬ ঘণ্টার কম ঘুম হৃদরোগের সম্ভাবনা মাত্রাতিরিক্তভাবে বৃদ্ধি করে। গবেষণা অনুযায়ী, যারা নিয়মিত ৬ ঘণ্টার কম ঘুমান তাদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগজনিত সমস্যা দেখা দেয়ার সম্ভাবনা বেশি। অপরদিকে, দৈনিক ১০ ঘণ্টার বেশি ঘুমও স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। এটি সাধারণত অন্য কোনো রোগ বা শারীরিক দুর্বলতার সঙ্গে যুক্ত থাকে এবং দীর্ঘমেয়াদে হৃদযন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
ঘুমের মানও অন্তত ঘুমের পরিমাণের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। অল্প ঘুম নয়, ঘুমের গুণগত মান নিশ্চিত করাও জরুরি। রাতের অপ্রতিবন্ধক, শান্ত এবং পরিমিত তাপমাত্রার পরিবেশে ঘুম হৃদযন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করে। নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস হৃদযন্ত্রের নানামুখী কার্যকারিতা উন্নত করে, যেমন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, হৃদস্পন্দন স্থিতিশীল রাখা এবং ধমনী সুস্থ রাখা।
পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে শরীরের হরমোন, বিশেষ করে কর্টিসল ও ইনসুলিনের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। এটি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ায়। পাশাপাশি ঘুমের অভাব মানসিক চাপ বৃদ্ধি করে, যা হৃদযন্ত্রের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করে। তাই ঘুমের অভ্যাসকে স্বাস্থ্যকর রাখা হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখার জন্য অপরিহার্য।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমের মাধ্যমে শরীরের অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি প্রক্রিয়া সক্রিয় থাকে, রক্তচাপ কম থাকে এবং হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণে থাকে। এছাড়া ঘুমের সময় শরীরের কোষ পুনরুজ্জীবিত হয়, হৃদযন্ত্রের ধমনী ও স্নায়ুতন্ত্রের সুরক্ষা বৃদ্ধি পায়। ঘুমের সময় শরীরের অক্সিজেনের চাহিদা ও রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে, যা হৃদযন্ত্রের সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ ছাড়া পর্যাপ্ত ঘুম মানসিক সুস্থতার জন্যও অপরিহার্য। মানসিক চাপ কম থাকলে হৃদযন্ত্রের ওপর চাপও কম থাকে। গবেষণা বলছে, যারা নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমান তাদের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেক কম থাকে। আর যারা রাতে অনিয়মিত বা অল্প ঘুমান, তাদের মধ্যে হৃদযন্ত্রের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক এবং হূদরোগজনিত মৃত্যুর হার বেশি।
হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষা করতে ঘুমের পাশাপাশি জীবনযাত্রার অন্যান্য দিকও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং ধূমপান বা অ্যালকোহল থেকে বিরত থাকা জরুরি। তবে ঘুম এই সকলের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত, এবং সঠিক ঘুম ছাড়া অন্য পদক্ষেপের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।
অতএব, হার্ট সুস্থ রাখতে প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের অভাবে হরমোনজনিত সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, ডায়াবেটিস এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুমকে জীবনের অপরিহার্য অঙ্গ হিসেবে গ্রহণ করা এবং নিয়মিত ও গুণগত মানসম্পন্ন ঘুম নিশ্চিত করা উচিত।
সংক্ষেপে, হার্ট সুস্থ রাখতে ঘুমকে অবহেলা করা যাবে না। প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা, শান্ত ও প্রতিবন্ধকহীন পরিবেশে ঘুমানো এবং রাতে ঘুমের ব্যাঘাত এড়িয়ে চলা হার্টের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়ক। ঘুমের অভ্যাসকে জীবনধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গ্রহণ করলে হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা বজায় থাকে এবং জীবনের মান উন্নত হয়।