সকালে ঘুম ভাঙতেই কোমর ব্যথা? বিশেষজ্ঞরা বলছেন সমাধানের পথ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৬৯ বার
সকালে ঘুম ভাঙতেই কোমর ব্যথা? বিশেষজ্ঞরা বলছেন সমাধানের পথ

 প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সকালে ঘুম ভাঙার পর কোমরে তীব্র ব্যথা অনুভব করা এখন অনেকের জন্য নিত্যদিনের সমস্যায় পরিণত হয়েছে। ঘুম থেকে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ব্যথায় নড়াচড়া কষ্টকর হয়ে ওঠায় দিন শুরুতে ভোগান্তির মুখে পড়ছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি অবহেলা করার মতো সাধারণ বিষয় নয়। সঠিক অভ্যাস পরিবর্তন, সঠিক গদি ও বালিশ নির্বাচন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে এ সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে কোমর ব্যথার প্রধান চারটি কারণ হলো—ভুল ভঙ্গিতে ঘুমানো, রাতভর একই ভঙ্গিতে শুয়ে থাকা, অস্বস্তিকর গদি বা বালিশ ব্যবহার করা এবং কিছু শারীরিক অসুস্থতা।

ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, অনেক রোগী প্রতিদিন সকালে কোমর ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে আসছেন। তাদের মধ্যে অধিকাংশই দীর্ঘদিন পুরোনো গদি ব্যবহার করছেন বা সঠিক ভঙ্গিতে ঘুমাচ্ছেন না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাশ ফিরে হালকা বাঁকা হয়ে ঘুমানো সবচেয়ে ভালো ভঙ্গি। অন্যদিকে পেটের ওপর শোয়ার অভ্যাস থাকলে ঘাড় ও মেরুদণ্ডে বাড়তি চাপ পড়ে, যা ব্যথার ঝুঁকি বাড়ায়।

গদি ও বালিশের মান নিয়েও সতর্ক থাকতে বলছেন চিকিৎসকরা। অত্যন্ত নরম বা শক্ত গদি দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে মেরুদণ্ডে চাপ পড়ে। মাঝারি শক্তি ও সাপোর্টিভ গদি এবং উপযুক্ত বালিশ ব্যবহার করলে সকালে ব্যথার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, ৬ থেকে ৮ বছর পর গদি পরিবর্তন করা উচিত।

অন্যদিকে, কিছু দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক সমস্যা থেকেও সকালে কোমর ব্যথা হতে পারে। যেমন—সায়াটিকা, ডিস্ক স্লিপ, আর্থ্রাইটিস বা ফাইব্রোমায়ালজিয়া। গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রেও ওজন ও শরীরের ভারসাম্যের পরিবর্তনের কারণে কোমর ব্যথা তীব্র হতে দেখা যায়।

চিকিৎসকরা বলছেন, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর শরীর ধীরে ধীরে সচল করা এবং হালকা স্ট্রেচিং ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ঘুম ভাঙার পর বিছানায় শুয়েই পায়ের হালকা স্ট্রেচ করা বা হাঁটু বুকে টেনে আনার মতো ব্যায়াম পেশি সচল করে এবং ব্যথা কমায়। এছাড়া পেশিতে শক্তভাব থাকলে হিটিং প্যাড ব্যবহার করাও কার্যকর।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানাচ্ছেন, যদি কোমর ব্যথা প্রতিদিনই হয় এবং কয়েক সপ্তাহ পরেও না কমে, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন অবহেলা করলে সমস্যা আরও জটিল হয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে শল্যচিকিৎসার প্রয়োজনও হতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, কর্মজীবী মানুষের প্রায় ৩০ শতাংশ নিয়মিত কোমর ব্যথায় ভোগেন, আর তাদের বড় অংশই সকালে ঘুম ভাঙার পর ব্যথা অনুভব করেন। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ বলছে, বিশ্বের অন্যতম সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্যে কোমর ব্যথা একটি। তবে সময়মতো সচেতনতা, সঠিক জীবনধারা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিলে এ সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।

চিকিৎসকরা বলেন, প্রতিদিনের ছোট কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে এই সমস্যাকে অনেকটাই এড়ানো যায়। নিয়মিত ব্যায়াম, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে বসে না থাকা—এসব বিষয় মেনে চললে কোমর ব্যথা থেকে রক্ষা পাওয়া সহজ হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত