মৌলভীবাজারে স্বাস্থ্যসেবার মানহানির বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কঠোর অভিযান”

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৫৬ বার
মৌলভীবাজারে স্বাস্থ্যসেবার মানহানির বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কঠোর অভিযান”

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যসেবার শৃঙ্খলা পুনঃস্থাপনের জন্য জেলা প্রশাসক মো. ইসরাইল হোসেন এক কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। হাসপাতালের আকস্মিক পরিদর্শনে উদ্ভূত চরম অনিয়ম এবং অসামঞ্জস্যের চিত্র প্রশাসনকে সতর্ক করেছে। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, যেখানে রোগীরা নিরাপদ ও সুষ্ঠু সেবা আশা করে, সেখানে যদি অনিয়মই নিয়ম হয়ে যায়, তবে সাধারণ জনগণ কোথায় যাবে—এমন উদ্বেগজনক প্রশ্ন উঠেছে।

সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসক হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। সঙ্গে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচও)। পরিদর্শনের সময় দেখা যায়, রোগীদের জন্য নির্ধারিত খাবারের তালিকায় উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে স্বাস্থ্যসম্মত সবজি সরবরাহ করা হয়নি। তদুপরি, দন্ত চিকিৎসকের চেম্বারে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি অপরিষ্কার অবস্থায় রাখা হয়েছে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি করছে।

পোস্ট-অপারেটিভ কক্ষে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা অনুপস্থিত ছিল। সংক্রমণ প্রতিরোধে দরজা বন্ধ রাখার নিয়ম মানা হয়নি। হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন প্রশাসনকে তৎপর হওয়ার প্রমাণ দেয়। এই অনিয়মগুলো চিহ্নিত করার পর জেলা প্রশাসক মো. ইসরাইল হোসেন তাৎক্ষণিক এবং কঠোর নির্দেশনা জারি করেন।

প্রথমে, তিন দিনের মধ্যে হাসপাতালের ঠিকাদারকে খাবারের মেনুতে সবজি না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হয়। স্বাস্থ্যসেবা মান উন্নয়নে খাবারের গুণগত মান নিশ্চিত করা প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হিসেবে ধরা হয়েছে। এছাড়া, সাত দিনের মধ্যে হাসপাতালের ভবন ও ক্যাম্পাস পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করে লিখিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসক ও নার্সদের রোগীদের সঙ্গে উত্তম ব্যবহার, সেবার গুণগত মান উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে প্রশাসন বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেছে। পোস্ট-অপারেটিভ কক্ষে সংক্রমণ প্রতিরোধে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এয়ারকন্ডিশন (এসি) স্থাপনের সুপারিশও করা হয়েছে।

পরিদর্শনের পরে জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের জানান, “জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এখানে যে অনিয়মগুলো পাওয়া গেছে, তা অগ্রহণযোগ্য। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত হাসপাতালে যদি সেবার মানহানি ঘটে, তবে তার দায় কেউ এড়াতে পারবে না।” তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং দ্রুত পরিবর্তনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

এই উদ্যোগ স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং রোগীদের নিরাপদ, সুষ্ঠু ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রশাসন মনে করিয়ে দিয়েছে যে, রোগীদের জীবন ও স্বাস্থ্যের সঙ্গে আপস করা কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়। হাসপাতালের আভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা এবং সেবার মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও উন্নয়ন অপরিহার্য।

কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই পরিদর্শন প্রমাণ করে, স্থানীয় প্রশাসন রোগীদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সেবার মান নিশ্চিত করতে সরাসরি নজরদারি করছে। জেলা প্রশাসকের পদক্ষেপ স্বাস্থ্যসেবার মানহানির বিরুদ্ধে কঠোর নীতি এবং দায়িত্বশীল প্রশাসন প্রদর্শনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে এই ধরনের তৎপরতা শুধুমাত্র কমলগঞ্জে সীমাবদ্ধ নয়; এটি দেশের অন্যান্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে। জেলার প্রশাসন হাসপাতালের প্রতিটি স্তরে নিয়মিত পরিদর্শন চালিয়ে সেবার মান উন্নয়নে জোর দিচ্ছে।

পরিশেষে বলা যায়, স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা শুধুমাত্র হাসপাতালের দায়িত্ব নয়; এটি একটি সমাজিক দায়বদ্ধতার অংশ। জেলা প্রশাসকের এই কার্যক্রম স্থানীয় জনগণকে সচেতন করে এবং হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপ সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত