প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে স্থানীয় সমাজসেবা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মিলিতভাবে আয়োজিত এক চক্ষু স্বাস্থ্য ক্যাম্পে ছয় শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে মবশ্বির আলী চৌধুরী কল্যাণ ট্রাস্ট এবং মবশ্বির আলী চৌধুরী বালক উচ্চ বিদ্যালয়। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত ক্যাম্পে রোগীদের চোখের সমস্যার নিরীক্ষা, পরামর্শ এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে নির্বাচিত ৬০ জন রোগীকে বিনামূল্যে অপারেশনের জন্য মৌলভীবাজার বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া অন্য রোগীদের বিনামূল্যে চশমা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়। এই ধরনের উদ্যোগ এলাকার দরিদ্র ও আর্থিকভাবে সীমিত জনগোষ্ঠীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অনেকেরই চোখের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসার সুযোগ না পাওয়ায় জটিল হয়ে উঠেছে।
মবশ্বির আলী চৌধুরী কল্যাণ ট্রাস্টের সহসভাপতি ও মবশ্বির আলী চৌধুরী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শামসুজ্জামান চৌধুরী রাহেল সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলার জেলা প্রশাসক মো. ইসরাইল হোসেন। জেলা প্রশাসক এই উদ্যোগকে স্থানীয় জনগণের জন্য একটি মহৎ সেবামূলক কার্যক্রম হিসেবে উল্লেখ করে প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “স্বাস্থ্য সেবা প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। এই ধরনের উদ্যোগ সমাজে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দরিদ্র রোগীদের পাশে দাঁড়ানোর দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।”
উক্ত অনুষ্ঠানে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাখন চন্দ্র সূত্রধর, যুক্তরাজ্য প্রবাসী ও বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা নুরুজ্জামান চৌধুরী রাসেল, কমলগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সদস্য সচিব আহমেদুজ্জামান আলম, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গবেষক ও ট্রাস্টের সদস্য সচিব আহমদ সিরাজ, সহকারী প্রধান শিক্ষক মশিউর রহমান চৌধুরীসহ স্থানীয় রাজনৈতিক দল, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া চক্ষু চিকিৎসায় দায়িত্ব পালন করেন মৌলভীবাজার চক্ষু হাসপাতালের অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা—ইমরান আহমদ, রুহুল আমীন ও আব্দুল হান্নান।
মবশ্বির আলী চৌধুরী কল্যাণ ট্রাস্ট ও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতা নুরুজ্জামান চৌধুরী রাসেল বলেন, “বিদ্যালয় শুরু হওয়া থেকে আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে স্কুলড্রেস ও অন্যান্য শিক্ষাসামগ্রী প্রদান করেছি। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবায়ও আমরা অংশগ্রহণ করে আসছি। ভবিষ্যতেও এই ধরনের সামাজিক ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “সমাজে যেখানে স্বাস্থ্যসেবার অভাব রয়েছে, সেখানে আমাদের উদ্যোগ অনেকের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে সক্ষম হবে।”
উক্ত ক্যাম্পের মাধ্যমে এলাকার মানুষজন সচেতনতা লাভ করছে এবং প্রাথমিক পর্যায়ের চক্ষু রোগ সনাক্তকরণ ও চিকিৎসা সহজলভ্য হয়েছে। বিশেষভাবে চোখের সমস্যার প্রাথমিক সনাক্তকরণ অনেক ক্ষেত্রেই গুরুতর অসুখ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যারা অপারেশনের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন, তারা জেলার চক্ষু হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছে আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা পাবেন।
স্থানীয় জনগণ এই উদ্যোগকে অত্যন্ত প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেছেন। এলাকার প্রবীণ নাগরিকরা বলেন, “এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিলে অনেকেই সময়মতো চিকিৎসা পেয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে।” একইভাবে, শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বিদ্যালয় ও ট্রাস্টের এই ধরনের কার্যক্রম তাদের মধ্যে সমাজসেবার মানসিকতা জাগিয়ে তুলেছে।
এই উদ্যোগ শুধু স্বাস্থ্যসেবা প্রদানেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি স্থানীয় সমাজে মানবিক মূল্যবোধ, সমাজসচেতনতা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজসেবামূলক সংস্থার মধ্যে সংযোগ স্থাপনের সুযোগ তৈরি করেছে। কমলগঞ্জের মানুষের কাছে এটি একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে সমাজের সকল স্তরের মানুষ একত্রিত হয়ে দরিদ্র ও অসহায়দের সহায়তা করছে।
চক্ষু স্বাস্থ্য ক্যাম্পের আয়োজন কমলগঞ্জের বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানকে একত্রিত করার মাধ্যমে একটি সম্প্রদায় ভিত্তিক সেবামূলক কার্যক্রমের উদাহরণ স্থাপন করেছে। এই ধরনের উদ্যোগ সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণে সমাজে স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধি করতে সক্ষম।
পরিশেষে বলা যায়, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মবশ্বির আলী চৌধুরী কল্যাণ ট্রাস্ট ও বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই চক্ষু স্বাস্থ্য ক্যাম্প স্থানীয় জনগণের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য সহায়তা হিসেবে চিহ্নিত হবে। ছয় শতাধিক রোগী বিনামূল্যে চিকিৎসা পেয়েছেন, অনেকেই অপারেশন ও চশমা সহ প্রয়োজনীয় ওষুধে সেবা পেয়েছেন, যা তাদের জীবনমান উন্নত করবে এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাবে। এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকলে সমাজে স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।