“হয়তো কিছু বিচ্ছেদেই শান্তি থাকে”: আবু ত্বহা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৭৪ বার

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ইসলামিক স্কলার ও জনপ্রিয় বক্তা আবু ত্বহা মুহাম্মদ আদনান সম্প্রতি তার ব্যক্তিগত জীবনের নানা বিতর্ক ও স্ত্রী কর্তৃক আনা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন। কয়েক সপ্তাহ ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সংসারজীবন নিয়ে নানা অভিযোগ, পাল্টা প্রতিক্রিয়া ও গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। সমালোচনার মুখে এবার নিজেই মুখ খুলেছেন তিনি। ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন—“হয়তো কিছু বিচ্ছেদেই শান্তি থাকে, আর নিশ্চয়ই কষ্টের পরেই স্বস্তি আসে।”

বক্তা আবু ত্বহা তার পোস্টে লেখেন, “স্বামী-স্ত্রী একে অপরের জন্য পবিত্র পোশাক, যার কাজ একে অন্যের সতর ঢেকে রাখা, যদিও সেই পোশাক ক্ষতবিক্ষত হয়। স্বামী হিসেবে আমি সেই দায়িত্ব আজীবন পালন করেছি, আজও করছি। কারণ আজও আমি তার স্বামী। আর আগামীকাল যদি আমি সেই পোশাক না থাকি, তবুও তার সম্পর্কে কোনো খারাপ মন্তব্য করব না। আমার দ্বীন আমাকে তাই শিক্ষা দিয়েছে।”

নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে তিনি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে বলেন, “আল্লাহর কসম, আমাকে একের পর এক মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে। কাবার প্রভুর শপথ, আমি ব্যভিচারী নই, কোনো পরনারীর সঙ্গে আমার কোনো হারাম সম্পর্ক নেই। যারা এ ধরনের অপবাদ দিচ্ছে, তারা যেন মনে রাখে—কারও প্রতি ভিত্তিহীনভাবে যিনার অভিযোগ তোলা ইসলামী শরিয়তে বড় গুনাহ এবং তার শাস্তি ৮০ বেত্রাঘাত।”

তিনি বলেন, “আমার দোষ একটাই—ভুল সত্ত্বায় অতিরিক্ত ভালোবাসা, পরিবারের মধ্যে ইনসাফ বজায় রাখার চেষ্টা এবং ক্ষমার পর ক্ষমা করা। আমি বছরের পর বছর ধরে নিজের প্রয়োজন ও মানসিক প্রশান্তির আশায় সমাধান খুঁজেছি, যা আমার প্রথম স্ত্রী, মা ও বোনদের জ্ঞাতেই ছিল। আমি যা করেছি, তা শরিয়তের মধ্যে থেকেই করেছি। অথচ আজ সেই সম্পর্কের অতীত টেনে এনে আমার সম্মান, সম্পর্ক ও দ্বীনকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে।”

আবু ত্বহা আরও লেখেন, “আমার বিরুদ্ধে যারা ক্রমাগত অপবাদ দিচ্ছে, তাদের ব্যাপারে এক আল্লাহই যথেষ্ট। আমি প্রতিটি অন্যায়ের জবাব দিতে সক্ষম, প্রমাণ দেখাতে সক্ষম, কিন্তু আমি তা করব না। কারণ আমি বিশ্বাস করি, আল্লাহই উত্তম বিচারক। হয়তো এই কষ্টই আমার তাক্বদিরের অংশ, হয়তো কিছু বিচ্ছেদেই মানুষের জন্য শান্তি লুকিয়ে আছে।”

তার বক্তব্যে ব্যক্তিগত জীবনের কষ্ট ও পিতৃত্বের গভীর অনুভূতিও উঠে এসেছে। তিনি লেখেন, “আমার দুই সন্তান—আমার হুরপরি আইশাহ, আমার ইউসুফ উসমান—তাদের মুখের দিকে তাকিয়েই আমি বছরের পর বছর সবর করেছি। আমি শুধু চাই তারা যেন তাদের বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত না হয়। তাদের ভালো থাকার জন্য আপনারা সবাই দোয়া করবেন।”

বক্তা আরও উল্লেখ করেন যে, তিনি দেশের বরেণ্য আলেম ও মুরব্বিদের উপস্থিতিতে শরিয়াসম্মতভাবে পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির পথে এগিয়ে যাচ্ছেন। “যারা আমার পাশে আছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই, আর যারা দূরে সরে গেছেন, তাদের প্রতি কোনো ক্ষোভ নেই। যদি ভবিষ্যতে মিথ্যা মামলা বা মানহানির শিকার হই, অন্তত ন্যায়বিচারের দরজা যেন আমার জন্য খোলা থাকে,”—বলেন তিনি।

আবু তোহা তার পোস্টের শেষে লেখেন, “আমার জীবনে যে ক্ষতি হয়েছে, তা অপূরণীয়। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি—আল্লাহ কখনো অন্যায়কারীর বিচার থেকে বিরত থাকেন না। নিশ্চয়ই তিনি জালেম ও মাজলুমের মাঝে উত্তম ফয়সালা করবেন। হয়তো এটাই তাক্বদিরের ফয়সালা, যেখানে বিচ্ছেদের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে প্রকৃত শান্তি।”

তার এই বক্তব্য প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ তার প্রতি সহানুভূতি দেখাচ্ছেন, কেউ আবার প্রশ্ন তুলছেন ব্যক্তিগত জীবনের ঘটনাগুলো প্রকাশ্যে আনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে। তবে স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে—আবু তোহা এখন তার জীবনের এক কঠিন অধ্যায় অতিক্রম করছেন, যেখানে ধর্ম, সম্পর্ক এবং সম্মানের ভারসাম্য রক্ষা করা তার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত