প্রযুক্তি ও প্রতিযোগিতার চাপ বৃদ্ধির মাঝে কর্মীদের মানসিক সুস্থতা প্রধান চ্যালেঞ্জ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৩৪ বার
প্রযুক্তি ও প্রতিযোগিতার চাপ বৃদ্ধির মাঝে কর্মীদের মানসিক সুস্থতা প্রধান চ্যালেঞ্জ: এমপ্লয়ি বেনিফিট ট্রেন্ড
newsbangladesh.com

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

ঢাকা: ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, ডিজিটাল রূপান্তর এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার চাপের মধ্যে কর্মীদের মানসিক চাপ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই চাপ শুধু তাদের উৎপাদনশীলতাকেই প্রভাবিত করছে না, বরং দীর্ঘমেয়াদি কর্মজীবনের স্থায়িত্বকেও হুমকির মুখে ফেলছে। এই প্রেক্ষাপটে বেতন বা অন্যান্য আর্থিক সুবিধা ছাড়াও কর্মীদের মানসিক সুস্থতা, নেতৃত্বের বিকাশ এবং যত্নবান কর্মসংস্কৃতি প্রতিষ্ঠানের টিকে থাকার মূল কৌশল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে একটি পাঁচ তারকা হোটেলে মেটলাইফ বাংলাদেশ আয়োজন করেছে ‘এমপ্লয়ি বেনিফিট ট্রেন্ড স্টাডি ২০২৫’ শীর্ষক জরিপের ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠান। এতে বক্তব্য দেন সিপিডি (সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের সিইও নাসের এজাজ বিজয়, গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান, সিঙ্গার বাংলাদেশের এমডি এম এইচ এম ফাইরোজ এবং মেটলাইফ বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা আলা আহমদ।

সিপিডি নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, “বর্তমানে কর্মীদের ধরে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে তাদের সৃষ্টিশীলতা ও অনুপ্রেরণা বজায় রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হয়। বিশ্ববাজার এখন অত্যন্ত অনিশ্চিত। বাংলাদেশের মতো দেশে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত অনিশ্চয়তা বেড়েছে। এর ফলে চাকরির নিরাপত্তা কর্মীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই শুধুমাত্র কর্মী ধরে রাখার বিষয়টি নয়, বরং তাঁদের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করাও অপরিহার্য।”

ভারতে পালানোর পথে ‘আজিজুল ইসলাম আজিজ’ : শামীম ওসমানের সহযোগী গ্রেপ্তার

ফাহমিদা খাতুন আরও উল্লেখ করেন, “বর্তমানে শিল্প খাত নানা প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, ডিজিটাল রূপান্তর এবং জটিল প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে অনেক সময় কর্মীদের মানসিক চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সরাসরি তাদের উৎপাদনশীলতার ওপর প্রভাব ফেলছে।”

ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্ বলেন, “কর্মীদের দক্ষতা ও মূল্যবোধ—দুটোই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারণ করতে হবে কোন আচরণ গ্রহণযোগ্য আর কোনটি অগ্রহণযোগ্য। অতীতে মানুষ অনেক সময় মূল্যবোধ মুখস্থ করলেও তা সঠিকভাবে উপলব্ধি করত না। উদাহরণস্বরূপ, সততার কথা। অনেকেই ভাবতেন এটি কেবল আর্থিক সততার বিষয়, কিন্তু এর প্রকৃত অর্থ অনেক বিস্তৃত।”

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের সিইও নাসের এজাজ বিজয় জানান, “নিয়োগের সময় প্রায় ৫০ শতাংশ কর্মী নারী হলেও মিড লেভেলে এসে তাঁদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এর পেছনে সামাজিক কারণে—বিয়ে, সন্তান, পরিবার ইত্যাদি—সংক্রান্ত বিষয়গুলো প্রভাব ফেলে। আমরা অবশ্য চেষ্টা করি যাতে প্রতিষ্ঠানে সুযোগের অভাব বা পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের কারণে কেউ কর্মজীবন থেকে পিছিয়ে না পড়ে।”

নাসের এজাজ আরও বলেন, “আমার সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো নতুন প্রজন্মের মানসিকতা। সম্প্রতি লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে দেখা গেছে, তরুণ প্রজন্ম এখন সম্পত্তি কিনছে না, বিয়ে করছে না, সন্তান নিচ্ছে না। তারা স্বাধীনভাবে থাকতে চায়। তাই তাদের ধরে রাখা এখন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।”

মেটলাইফ বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা আলা আহমদ জানান, “আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে, আর্থিক চাপ এবং পর্যাপ্ত সুবিধার অভাব কর্মীদের উৎপাদনশীলতা ও মনোবল দুর্বল করে দেয়। বর্তমানে নিয়োগদাতাদের কাছে বড় সুযোগ রয়েছে। কর্মীদের ব্যাপক সুবিধা প্রদান, যত্নবান সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং যোগাযোগের উন্নয়ন ঘটানোর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো একটি শক্তিশালী উদাহরণ স্থাপন করতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগ শুধু বিশ্বস্ততা বৃদ্ধি করবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করবে।”

গ্রামীণফোনের সিইও ইয়াসির আজমান বলেন, “জরিপে দেখা গেছে, ৭৮ শতাংশ কর্মী নিজের কাজ বা দায়িত্ব নিয়ে সন্তুষ্ট। কিন্তু ৪২ শতাংশ কর্মী অন্যদের কাছে নিজের প্রতিষ্ঠানের সুপারিশ করবেন বলে জানিয়েছেন। এর মানে হচ্ছে, নিজের কাজে সন্তুষ্ট হলেও প্রতিষ্ঠান নিয়ে সম্পূর্ণ আশ্বাস দিতে পারছেন না। এটি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন।”

সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামি সামিরা ও ডনের খোঁজ মিলছে না

সিঙ্গার বাংলাদেশের এমডি এম এইচ এম ফাইরোজ বলেন, “মানসিক স্বাস্থ্য, কর্মক্ষেত্রের নমনীয়তা, আর্থিক চাপ প্রভৃতি বিষয়ে নতুন প্রজন্ম বেশি উদ্বিগ্ন। তাই আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য, চাপ এবং সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে আরও মনোযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি বুঝতে হবে, তারা কেন চাপ সামলাতে পারছে না এবং কীভাবে তাদের সহায়তা করা সম্ভব।”

উদ্যোক্তা ও বিশেষজ্ঞরা একমত, বর্তমানে কর্মক্ষেত্রে সফলতা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য শুধু আর্থিক সুবিধা নয়, বরং মানসিক সুস্থতা, নেতৃত্ব বিকাশ এবং সংহত কর্মসংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা আবশ্যক। প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং প্রতিযোগিতার চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই দিকগুলোতে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে, যাতে কর্মীরা উৎপাদনশীল, অনুপ্রাণিত এবং দীর্ঘমেয়াদিভাবে সংযুক্ত থাকতে পারেন।

এই জরিপের ফলাফল দেখায়, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মীদের যত্ন নেওয়া, মানসিক চাপ কমানো এবং তাদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করা শুধু কর্মক্ষেত্রের প্রয়োজন নয়, বরং এটি কোম্পানির টেকসই উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে প্রতিযোগিতার জন্যও অপরিহার্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত