প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে সোমবার দুপুরে ঢাকা ব্যাংকের একটি শাখা আগুনের জ্বলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেছে। আগুনের সূত্রপাত মূলত পাশের একটি তুলার দোকান থেকে হলেও তা দ্রুত ব্যাংক ভবনসহ আশপাশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে লেলিহান শিখা পুরো ব্যাংক ভবনকে গ্রাস করে এবং কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী সেখানে আটকা পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাদের নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
সৈয়দপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা হামিদুর রহমান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আগুনের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তিনি বলেন, “আগুন নিয়ন্ত্রণে তিনটি ইউনিট কাজ করছে। কয়েকজন ভেতরে আটকা পড়েছিলেন, তাদের সবার নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পুরোপুরি আগুন নিয়ন্ত্রণে এখনও আসেনি।” তিনি আরও জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে এলে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এবং আগুন লাগার কারণ বিস্তারিতভাবে জানা যাবে।
আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সৈয়দপুর থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছেন। পুলিশ সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দিচ্ছে যাতে উদ্ধারকার্য ও আগুন নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন না ঘটে। স্থানীয়রা বলছেন, আগুনের উচ্চ তাপমাত্রা এবং ধোঁয়ার কারণে পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিল। ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আতঙ্কিত হয়ে নিরাপদ স্থান খুঁজছিলেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণ হলো ব্যাংকের পাশে থাকা তুলার দোকানে প্রচুর দাহ্য পদার্থ। আগুনের লেলিহান শিখা ব্যাংক ও আশপাশের ভবনে দ্রুত সংক্রমিত হয়। ফায়ার সার্ভিসের প্রথম প্রতিক্রিয়ায় অব্যাহত প্রচেষ্টার ফলে আংশিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ব্যাংকের সকল মূল কক্ষ, অফিস ঘর এবং নগদ ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের ওপর আগুনের প্রভাব পরেছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা স্থানীয় সংবাদকর্মীরা জানিয়েছেন, আগুনের ধোঁয়া সমগ্র এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে এবং আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কিছু সময় আগুনের ধোঁয়া ও তাপমাত্রার কারণে আশেপাশের দোকানপাট বন্ধ রাখতে হয়েছে। স্থানীয়দের আতঙ্ক ও দুশ্চিন্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ব্যাংকের মূল ভবনের সঙ্গে সংযুক্ত আশেপাশের দুটি ছোট প্রতিষ্ঠানও আগুনের শিকার হয়েছে। উদ্ধারকার্যে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও পানি সরবরাহের জোগান ব্যবস্থা সঠিকভাবে কার্যকর হওয়ায় ধীরে ধীরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং ভবনের স্থায়িত্ব পরীক্ষা করার জন্য পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হতে হবে।
স্থানীয়দের অভিমত, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতা এবং স্থানীয়দের সচেতনতা উদ্ধার কার্যক্রমকে সহজ করেছে। তবে এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে প্রতিরোধের জন্য আগুন সুরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সঠিক নিরাপত্তা প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা আরও জোরালোভাবে প্রমাণিত হলো।
সামগ্রিকভাবে, সৈয়দপুরে ঢাকা ব্যাংকে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড স্থানীয় জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এছাড়া এটি এলাকার ব্যবসা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সাময়িক ব্যাঘাত ঘটিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং ফায়ার সার্ভিসের কঠোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, যাতে পুরোপুরি আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।