গাজায় ইসরায়েলের হামলায় নিহত ৬৩, শিশুদের সংখ্যা ২৪

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১৮ বার
গাজায় ইসরায়েলের হামলায় নিহত ৬৩, শিশুদের সংখ্যা ২৪

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

গাজার দক্ষিণ রাফাহ অঞ্চলে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৬৩ জন। এদের মধ্যে ২৪ জন শিশু রয়েছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নির্দেশে দেশটির সেনাবাহিনী সোমবার রাতে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালায়। রাফাহের সংঘর্ষে এক ইসরায়েলি সেনাও আহত হয়। হামলাটি গাজার স্থায়ী শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় প্রবর্তিত যুদ্ধবিরতির পর সবচেয়ে মারাত্মক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাফাহে সংঘটিত এই হামলায় বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে এবং নাগরিকরা আতঙ্কে ভুগছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘরে থাকা শিশু এবং বয়স্করা নিরাপদ স্থানে পালাতে পারেনি। হামলায় নিহতদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক মাত্রা ছুঁয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ঘটনাকে গভীরভাবে মনোযোগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এক ইসরায়েলি সেনার আহত হওয়ার পর ইসরায়েল পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। তবে এর মানে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ হবে না।” ট্রাম্প আরও বলেন, “হামাসকে সঠিকভাবে আচরণ করতে হবে এবং পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনা করতে হবে।”

হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাফাহের ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। হামাস একটি বিবৃতিতে সতর্ক করেছেন যে, ইসরায়েলি হামলা চলতে থাকলে মৃতদের লাশ উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হবে এবং গাজার বাকি বন্দিদের লাশ উদ্ধারে দেরি হবে। তারা এই ধরনের অব্যাহত আগ্রাসন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, উভয় পক্ষের সংঘর্ষের অভিযোগ থাকলেও যুদ্ধবিরতি এখনও কার্যকর রয়েছে। কংগ্রেস হিলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “ছোটখাটো সংঘর্ষ তো ঘটতেই পারে। হামাস বা গাজার কেউ একজন যদি ইসরায়েলি সেনাকে আক্রমণ করে, তবে ইসরায়েলের জবাব দেওয়াটা স্বাভাবিক। তবে প্রেসিডেন্টের প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত শান্তি টিকে থাকবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর তৎপরতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং গাজার রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত রাখার লক্ষ্যে পরিকল্পিত। সামরিক বাহিনী যখন যেকোনও সম্ভাব্য হুমকির প্রতিক্রিয়া দেখায়, তখন তা প্রায়শই বেসামরিক নাগরিকদের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে।

স্থানীয় প্রশাসন এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এই ধরনের সংঘর্ষ মানবিক বিপর্যয় তৈরি করে। শিশু ও বয়স্কদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে, এবং তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়। গাজার হাসপাতালগুলো ইতিমধ্যেই আহতদের চিকিৎসায় চাপের মুখে।

জাতিসংঘের কিছু কর্মকর্তা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যদি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা না যায়, তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে শিশুদের উপর প্রভাব খুবই গুরুতর এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। মানবিক সহায়তা প্রদান এবং নিরাপদ এলাকা নিশ্চিত করা এখন খুব জরুরি।

এই হামলার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিভিন্ন দেশের নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইসরায়েলি হামলা এবং গাজার প্রতিক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং মানবাধিকার সংস্থা সতর্কবার্তা দিয়েছে, যাতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত না হয়। মার্কিন প্রশাসনও জোর দিয়েছে যে, যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে উভয় পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।

গাজার সাধারণ জনগণ এই হামলার মধ্য দিয়ে নতুন করে শোক এবং আতঙ্কের মুখে পড়েছে। তারা জানিয়েছে, ঘরবাড়ি ধ্বংস হওয়া এবং ব্যক্তিগত ক্ষতির কারণে বহু পরিবার বসবাসযোগ্য স্থানের অভাবে ভুগছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, রাফাহ এলাকার বহু শিশু ও পরিবার নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছে।

এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, ইসরায়েলের সামরিক হস্তক্ষেপের কারণে গাজার শান্তি প্রক্রিয়ায় বড় ব্যাঘাত ঘটেছে। তারা উভয় পক্ষকেই শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছে এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য চাপ দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করছে। এটি শুধু গাজার মানবিক বিপর্যয়কে তুলে ধরছে না, বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতি, মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক শান্তি প্রক্রিয়ার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।

গাজার পরিস্থিতি এখনও অস্থিতিশীল এবং নিহত ও আহতদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মহল পর্যবেক্ষণ করছে যে, ভবিষ্যতে এই সংঘাত কিভাবে শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে অগ্রসর হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা এবং যুদ্ধবিরতির অগ্রগতিও এখন নজরদারির কেন্দ্রে।

জকসু নির্বাচনে ৫ সদস্যের কমিশন গঠন

গাজার মানবিক পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষিতে স্পষ্ট, এই হামলা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, সংঘাতকালীন সময়ে মানবিক ও শান্তিপূর্ণ সমাধান বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত