ট্রাম্পের নির্দেশনায় যুক্তরাষ্ট্রে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা শুরু

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৩৮ বার
ট্রাম্পের নির্দেশনায় যুক্তরাষ্ট্রে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা শুরু

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রে পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানিয়ে জানান। তাঁর এ পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। মার্কিন গণমাধ্যমগুলোও দ্রুত খবরটি নিশ্চিত করেছে।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষার এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যান্য পরাশক্তি যেমন রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে পাল্লা দিতে সক্ষম হয়। তিনি মন্তব্য করেছেন, “আমাদের পারমাণবিক ভাণ্ডার বর্তমানে সবচেয়ে শক্তিশালী। কিন্তু অন্যান্য দেশগুলো পরীক্ষা চালিয়ে আমাদের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রকেও পিছিয়ে থাকা চলবে না।” ট্রাম্পের কথায়, যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক শক্তি রাশিয়ার তুলনায় সামান্য এগিয়ে রয়েছে, এবং চীনের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে বিশাল ব্যবধান বজায় রাখার প্রয়োজন রয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা অনুযায়ী, বর্তমানে পৃথিবীর মোট পারমাণবিক অস্ত্রের প্রায় ৮৭ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার দখলে রয়েছে। মস্কোতে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার এবং ওয়াশিংটনে প্রায় পাঁচ হাজার একশ’টি নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড স্থাপিত রয়েছে। চীনের পারমাণবিক ভাণ্ডার তুলনামূলকভাবে কম, তবে তা দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। অন্যান্য দেশ যেমন ভারত, পাকিস্তান, ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্যের পারমাণবিক ক্ষমতা সীমিত হলেও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য তা যথেষ্ট প্রভাব ফেলে।

ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুসারে পেন্টাগন এখন প্রস্তুতি শুরু করবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতরের উঁচু পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, পরীক্ষা চালানো হলে নতুন প্রযুক্তি ও অস্ত্রের কার্যকারিতা যাচাই করা হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু অস্ত্রের ক্ষমতা যাচাই নয়, বরং প্রতিরক্ষা কৌশল ও যুদ্ধ পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এদিকে, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ পারমাণবিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। বিশেষ করে, রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে। অনেক দেশই এই উদ্যোগকে হুমকিস্বরূপ দেখছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থা ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে, যাতে এ ধরনের পরীক্ষার ফলে আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিপন্ন না হয়।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানাচ্ছেন, পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা শুরু হলে তা আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন পরিবর্তন আনবে। যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন পরীক্ষায় সক্ষম হয়, তাহলে অন্যান্য পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোও তাদের অস্ত্রভাণ্ডার সম্প্রসারণে তৎপর হবে। এটি একটি পারমাণবিক হাইপার প্রতিযোগিতা বা “nuclear arms race” শুরু করতে পারে। এর প্রভাব সরাসরি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর পড়বে।

ট্রাম্পের এ ঘোষণার সামাজিক প্রতিক্রিয়াও ব্যাপক। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অঙ্গনে এর সমর্থকরা মনে করছেন, এটি দেশকে নিরাপত্তার দিক থেকে শক্তিশালী করবে। তবে বিরোধীরা এই পদক্ষেপকে বিপজ্জনক এবং অনিরাপদ বলে অভিহিত করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সঙ্গে আন্তর্জাতিক উত্তেজনার এই সংমিশ্রণ ভবিষ্যতে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র অন্য কোন দেশের পারমাণবিক পরীক্ষা শুরু হলে বা অস্ত্রভাণ্ডার সম্প্রসারিত হলে তা প্রতিহত করার জন্য প্রস্তুত থাকবে। তিনি জানিয়েছেন, “আমাদের প্রতিরক্ষা সর্বোচ্চ সক্ষমতায় থাকতে হবে। পারমাণবিক শক্তি শুধুমাত্র প্রতিরক্ষা নয়, আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও আমাদের প্রভাব বৃদ্ধির প্রধান হাতিয়ার।”

এ বিষয়ে পেন্টাগনের মুখপাত্ররা জানিয়েছেন, পরীক্ষা শুরু করার আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্থান নির্বাচন এবং পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা করা হবে। তারা বলেছে, “এটি অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে করা হবে, যাতে কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা না ঘটে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলা হয়।”

বিশ্বজুড়ে এই ঘোষণা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ইউরোপীয় দেশগুলো সতর্কতা প্রকাশ করেছে এবং শান্তিপ্রিয় কূটনীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়া এবং চীন তাদের কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের পর ভবিষ্যতে পারমাণবিক আলোচনার জন্য নতুন দরজা খোলা হতে পারে, তবে তা সময়ের সঙ্গে স্পষ্ট হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এ পদক্ষেপ কেবল সামরিক বা প্রতিরক্ষা দিক নয়, বরং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক কৌশল ও প্রভাব বৃদ্ধির অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগ অন্যান্য দেশকে একটি বার্তা দেয় যে, তারা পারমাণবিক শক্তিতে শীর্ষে থাকতে চায় এবং তা রক্ষা করবে। তবে এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্বও বেড়ে যায়, যাতে বিশ্বের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

সংক্ষেপে বলা যায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনায় পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক মুহূর্ত। এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে না, বরং বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমীকরণকেও নতুন দিকনির্দেশনা দেবে। তবে এর সঙ্গে আসে বড় ধরনের দায়দায়িত্ব ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া মোকাবেলার চাপ। বিশ্ব এখন নজর রাখছে, এই পরীক্ষার ফলাফল কী প্রভাব ফেলবে এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা কতটা প্রভাবিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত