আশুলিয়ায় ছয়জন পোড়ানোর মামলায় ১৭তম দিনের সাক্ষ্য

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩৫ বার
আশুলিয়ায় ৬ মরদেহ পোড়ানোসহ ৭ জন হত্যা মামলায় ১৭তম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ আজ

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর বুধবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আশুলিয়ায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী হত্যার মামলায় বুধবার ১৭তম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই মামলায় সাতজন নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ছয়জনের মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এদিন সাক্ষ্যগ্রহণের কথা রয়েছে। আদালতে দুইজন সাক্ষী নিজের বিবৃতি দিতে পারেন।

মামলাটি ২০২৫ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের পর আশুলিয়ায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সংক্রান্ত। রাষ্ট্র পক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, ৫ আগস্ট রাতে ছয়জনকে হত্যা করার পর তাদের মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়। তবে সেই সময়ও একজন ব্যক্তি জীবিত ছিলেন। এছাড়াও, ৪ আগস্ট আশুলিয়া থানার সামনের এলাকায় একজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনাও অভিযোগের অন্তর্ভুক্ত।

এর আগে, এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের সময় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীসহ মোট ২১ জন সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। মামলায় মোট ১৬ জন আসামি রয়েছে। এদের মধ্যে সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামও রয়েছেন। এই ১৬ জনের মধ্যে আটজন বর্তমানে পলাতক। আদালত তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচার কার্যক্রম প্রক্রিয়ায় রাখছে।

সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আদালতে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা তাদের অভিজ্ঞতা এবং হত্যাকাণ্ডের সময়কালের বিবরণ শোনান। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, নিহতদের হত্যা অত্যন্ত নির্মম এবং পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর মৃতদেহগুলো স্থানীয় জনগণের চোখে আড়াল করতে পুড়িয়ে ফেলা হয়। এ ধরনের ঘটনা সমাজে ভয়, দুঃখ এবং ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের আস্থা কমিয়ে দেয়।

বিচারিক প্যানেল সাক্ষীদের প্রশ্ন করেন হত্যাকাণ্ডের সময় এবং হত্যাকারীদের পরিচয় সম্পর্কিত। প্রত্যক্ষদর্শীরা বিস্তারিতভাবে তাদের দেখার এবং শোনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তাদের বর্ণনা অনুসারে, হত্যাকাণ্ডের সময় একজন শিশুও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন, যা মানবতাবিরোধী কার্যকলাপের মাত্রা আরও স্পষ্ট করে।

এই মামলায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং দেশের নাগরিক সমাজের নজরও রয়েছে। বিশেষ করে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের দিকে তাকিয়ে আছে। তারা আশা করছেন, সাক্ষ্যগ্রহণ ও প্রমাণাদি বিশ্লেষণের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী রায় প্রদান করা হবে।

আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার কার্যক্রম যত দ্রুত সম্ভব সম্পন্ন করার জন্য নিয়মিতভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ ও প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এছাড়াও পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের জন্য তদন্তকারীরা কাজ করছেন। আদালতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পলাতক আসামিদের অনুপস্থিতিতেও মামলার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে না এবং সুষ্ঠুভাবে বিচার চলবে।

মানবতাবিরোধী এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি দুঃখজনক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এতে প্রমাণিত হয় যে রাজনৈতিক সংঘর্ষ এবং সহিংসতা কখনও কখনও সাধারণ জনগণের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। এছাড়াও, এ ধরনের হত্যাকাণ্ড সামাজিক নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচারের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলমান থাকায় বিচারপ্রক্রিয়া এবং তথ্য সংগ্রহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আদালত নিশ্চিত করছে যে প্রত্যেক সাক্ষীর বক্তব্য যথাযথভাবে নথিভুক্ত হবে এবং প্রমাণের আলোকে সঠিক রায় প্রদান করা হবে। ভুক্তভোগী পরিবার এবং সমাজের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিচারপ্রক্রিয়া, যা ভবিষ্যতে মানবাধিকার রক্ষা ও ন্যায়বিচারের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

সাক্ষ্যগ্রহণের এই পর্যায়ে, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা এবং মামলার অন্যান্য প্রমাণাদি বিচারকের কাছে উপস্থাপন করা হবে। এ কার্যক্রমে দেশে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজর রাখা হচ্ছে, যাতে হত্যাকাণ্ডের সাথে যুক্ত প্রত্যেক আসামি তার অপরাধের জন্য দায়ী হয়।

আদালতের এই কার্যক্রম একটি শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে, যে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকে অবহেলা করা হবে না। পাশাপাশি এটি সমাজে ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে। আশুলিয়ার হত্যাকাণ্ডের এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে দেশের বিচারব্যবস্থা মানবাধিকারের প্রতি প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত