বিশ্বফুটবলে মুসলিম তারকারা: ১৫ কিংবদন্তির গল্প

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১০৪ বার
বিশ্বফুটবলে মুসলিম তারকারা: ১৫ কিংবদন্তির গল্প

প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৫ বুধবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ফুটবল ইতিহাসে মুসলিম তারকাদের অবদান অনস্বীকার্য। মাঠে তাদের দক্ষতা, কৌশল এবং অসাধারণ পারফরম্যান্স ভক্তদের হৃদয় জয় করেছে, আর মাঠের বাইরেও তারা মানবিকতা, বিনয় ও ইসলামি মূল্যবোধের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ইউরোপ, আফ্রিকা, এশিয়া বা আরব উপদ্বীপ—বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এমন অনেক মুসলিম ফুটবলার রয়েছেন, যারা খেলার মধ্য দিয়ে অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছেন।

ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান তারকা মুসলিম ফুটবলারদের মধ্যে অন্যতম, এবং বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসেও তিনি অন্যতম শ্রেষ্ঠ। আলজেরীয় বংশোদ্ভূত এই খেলোয়াড় বিশ্বকাপ, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগ এবং ব্যালন ডি’অর জয় করেছেন। পরবর্তীতে তিনি সফল কোচ হিসেবেও নিজের পরিচয় তৈরি করেছেন।

বিশ্বকাপজয়ী ফরাসি মিডফিল্ডার পল পগবা তার ফ্যাশন ও হেয়ারস্টাইলের জন্য যেমন পরিচিত, তেমনি তিনি একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম হিসেবেও পরিচিত। বহুবার তাকে মক্কায় হজ পালন করতে দেখা গেছে, যা তার বিশ্বাসের গভীরতা প্রমাণ করে।

মালি বংশোদ্ভূত এন’গোলো কান্তে প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়নস লিগ এবং বিশ্বকাপ জয় করেছেন। তার নম্র স্বভাব, কঠোর পরিশ্রম এবং ধারাবাহিক সাফল্য বিশ্বব্যাপী সম্মান অর্জন করেছে। বর্তমানে তিনি সৌদি ক্লাব আল-ইতিহাসে খেলছেন।

মেসুত ওজিল, তুর্কি বংশোদ্ভূত জার্মান মিডফিল্ডার, মাঠে নামার আগে দোয়া পড়তেন এবং দাতব্য কাজে সক্রিয় ছিলেন। তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা প্লেমেকার হিসেবে স্বীকৃত।

করিম বেনজেমা রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চারবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী এবং ২০২১ সালে ব্যালন ডি’অর জয়ী। ধর্মপরায়ণ বেনজেমা রমজানে রোজা রাখেন এবং বর্তমানে আল-ইতিহাসে খেলছেন।

আলজেরীয় উইঙ্গার রিয়াদ মাহরেজ তার ড্রিবলিং দক্ষতা এবং গোল করার ক্ষমতার জন্য বিখ্যাত। মাহরেজ গোল করার পর অনেক সময় সেজদায় যান। বর্তমানে তিনি আল-আহলি সৌদিতে খেলছেন।

কোত দিভোয়ারের কিংবদন্তি মিডফিল্ডার ইয়ায়া তুরে বার্সেলোনা ও ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে খেলেছেন। তিনি দৃঢ় বিশ্বাসী মুসলিম এবং ২০১৫ সালে আফ্রিকা কাপ অব নেশনস জিতিয়েছিলেন।

লিভারপুল তারকা এবং মিশরের জাতীয় দলের অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ গোল উদযাপনে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি রমজান মাসেও রোজা রেখে খেলেন।

সেনেগালের তারকা উইঙ্গার সাদিও মানে কঠোর পরিশ্রমী ও ধর্মভীরু। তিনি গোল করার পর সেজদায় যান এবং দানশীলতার জন্যও পরিচিত। বর্তমানে তিনি আল-নাসরে খেলছেন।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

ফরাসি ফরোয়ার্ড ফ্র্যাঙ্ক রিবেরি ইসলাম গ্রহণ করে নাম রেখেছেন বিলাল ইউসুফ মুহাম্মদ। বায়ার্ন মিউনিখে খেলার সময় তিনি অন্যতম সফল খেলোয়াড় ছিলেন।

ইরানের সাবেক তারকা আলি দাই একসময় আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বাধিক গোলদাতা ছিলেন। তিনি ধর্মীয় নীতিতে অটল ছিলেন এবং বিয়ার কোম্পানির বিজ্ঞাপন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।

মিশরের সাবেক মিডফিল্ডার মোহাম্মদ আবু ত্রিকা ইসলামি মূল্যবোধের প্রতি অনুগত এবং দাতব্য কাজে সক্রিয় ছিলেন। তিনি আফ্রিকার অন্যতম সফল ফুটবলার হিসেবে পরিচিত।

ফ্রান্সের সাবেক ডিফেন্ডার এরিক আবিদাল খ্রিষ্টান পরিবারে জন্ম নিয়েছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি বার্সেলোনার হয়ে দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগ জয় করেন।

তুর্কি বংশোদ্ভূত জার্মান মিডফিল্ডার ইলকাই গুনদোগান ম্যানচেস্টার সিটি ও বার্সেলোনার হয়ে সফলতা অর্জন করেছেন এবং বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার হিসেবে পরিচিত।

তিউনিসীয় বংশোদ্ভূত জার্মান ফুটবলার সামি খেদিরা ২০১৪ সালে বিশ্বকাপ জয় করেন এবং রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস লিগও জিতেছেন।

মোটকথা, এই ১৫ মুসলিম ফুটবলার শুধু খেলার ক্ষেত্রেই নয়, ধর্মীয় নৈতিকতা, মানবিকতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতাতেও অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাদের জীবনী ও কর্মকাণ্ড বিশ্ববাসীর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। তারা প্রমাণ করেছেন, ফুটবল শুধুই একটি খেলা নয়, বরং এটি এক শক্তিশালী মাধ্যম যা মানুষের চরিত্র, নৈতিকতা এবং সংস্কৃতিকে প্রভাবিত করতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com