রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ১২ ঘণ্টায় সাত যানবাহনে আগুন

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৪ বার
মানিকগঞ্জে স্কুলবাসে আগুন, দগ্ধ ঘুমন্ত চালক

প্রকাশ: ১৩ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে অন্তত সাতটি যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনা ঘটেছে তখন, যখন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণার আগের রাত। রাতের অন্ধকারে শুরু হওয়া এই আগুনে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কের ছাপ পড়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতায় দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও ঘটনাগুলো দেশজুড়ে চিন্তার উদ্রেক করেছে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মো. তালহা বিন জসিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং জানান, রাত পৌনে তিনটার দিকে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনের সামনের স্থানে দাঁড়িয়ে থাকা একটি হিউম্যান হলার-লেগুনা অগ্নিসংযোগের শিকার হয়। তিনি আরও বলেন, আগুন দ্রুত ছড়ানোর কারণে প্রাথমিকভাবে গাড়িটি সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে ফায়ার সার্ভিসের সময়মতো পৌঁছানোর ফলে আশেপাশের অন্যান্য যানবাহন অক্ষত থাকে।

ঘটনার আগে রাত সোয়া ১২টার দিকে মিরপুর ১২ নম্বর ডিওএইচএস এলাকার পল্লবী থানার কাছে একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপে বাসটি পুরোপুরি ভস্মীভূত হওয়ার হাত থেকে বেঁচে যায়, তবে এতে গাড়ির বহিরাগত অংশে ক্ষতি হয়।

রাত আড়াইটার দিকে তাঙ্গাইলের রাওয়াইলে একটি বাস আগুনে পুড়ে যায়। স্থানীয়রা জানান, আগুনের সূত্রপাত অজানা, তবে তা অগ্নিসংযোগের মতো নির্দেশ করে। ফায়ার সার্ভিসের বাহিনী গাড়িটি নিরাপদে নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আশেপাশের এলাকার মানুষদের সতর্ক করে।

এরপর রাত সাড়ে তিনটার পর মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় আকিজ পেপার মিলের সামনের একটি ট্রাকে আগুন দেওয়া হয়। আগুনের সূত্রপাতের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, যানবাহনগুলো সাধারণত রাস্তার পাশে পার্কিং করেছিল এবং কোনো প্রাকৃতিক কারণ ছাড়াই হঠাৎ করে আগুন লেগেছে।

সকালে পৌনে পাঁচটার দিকে গোপালগঞ্জে ঘটনাটি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। সেখানে গণপূর্ত কার্যালয়ের সামনে একটি পিকআপ, একটি পাঁজারো এবং শরীয়তপুর নাউডোবা গোলচত্ত্বরে একটি ট্রাকে অগ্নিসংযোগ হয়। স্থানীয়দের ধারণা, এটি পরিকল্পিত ঘটনা এবং একাধিক স্থান জুড়ে সংঘটিত হওয়ায় তা নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

এমন পরিস্থিতি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান অগ্নিসংযোগকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত। গাড়ির মালিক এবং পার্কিং এলাকায় অবস্থানরতদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত পৌঁছানোর কারণে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা সম্ভব হয়েছে। তবে এই ধরনের ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

স্থানীয়রা বলছেন, রাতে হঠাৎ ঘটে যাওয়া আগুনের ঘটনাগুলো মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাসহ আশেপাশের এলাকা যেমন মিরপুর, কমলাপুর, মুন্সিগঞ্জ ও গোপালগঞ্জে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। গাড়ি মালিকদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষতির সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এই ধরনের অগ্নিসংযোগকে কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে সচেষ্ট। পুলিশের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসন নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। গাড়ি পার্কিং এলাকায় তল্লাশি ও সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যদিও আতঙ্ক এখনও পুরোপুরি কমেনি, তবে প্রশাসনের সতর্ক পদক্ষেপে পরিস্থিতি আংশিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এই ঘটনাগুলো দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি ও বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে এই ধরনের অগ্নিসংযোগকে পরিকল্পিতভাবে সংগঠিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার জন্য তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মো. তালহা বিন জসিম বলেছেন, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণে তা নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে দেরিতে না পৌঁছানোর কারণে আশেপাশের আরও যানবাহন বা স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত। তার মতে, সাধারণ মানুষের সহযোগিতা এবং দ্রুত পদক্ষেপে বড় ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব হয়েছে।

এই ঘটনা দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলেছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা, অগ্নিসংযোগ এবং জনসাধারণের নিরাপত্তার উদ্বেগ এই মুহূর্তে প্রধান আলোচনার বিষয়। দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য এটি বড় ধরনের সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক কমাতে প্রশাসনের সতর্ক পদক্ষেপ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।

মোটের উপর, মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে সাতটি যানবাহনে আগুন দেওয়ার ঘটনা দেশের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা এবং জনসাধারণের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয়। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দ্রুত আগুন লাগানো, পরিকল্পিতভাবে ঘটতে পারে এমন সম্ভাব্য ঘটনা দেশের নিরাপত্তা সংস্থার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের সতর্ক পদক্ষেপই আপাতত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সাহায্য করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত