প্রকাশ: ১৩ নভেম্বর ২০২৫ বৃহস্পতিবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শুরু হয়েছে আসন্ন কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন ২০২৫-এর মনোনয়নপত্র বিতরণ কার্যক্রম। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়। মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা যাবে তিন দিন—১৩, ১৬ ও ১৭ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার, রোববার ও সোমবার)।
বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের মনোনয়নপত্র শহিদ সাজিদ ভবনের নিচতলায় অবস্থিত জকসু নির্বাচন কমিশন কার্যালয় থেকে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত সংগ্রহ করা যাবে। প্রতিটি মনোনয়নপত্রের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০০ টাকা।
অপরদিকে, হল শিক্ষার্থী সংসদের মনোনয়নপত্র নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলের অফিস কক্ষ থেকে সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত পাওয়া যাবে। এর মূল্য ২৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, নির্ধারিত সময়সীমার পর কোনো মনোনয়নপত্র আর বিতরণ করা হবে না।
নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, গত ৬ নভেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। এরপর ৯ থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত ভোটার তালিকা সংক্রান্ত আপত্তি গ্রহণ ও নিষ্পত্তি সম্পন্ন হয়। আজ (১৩ নভেম্বর) থেকে প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।
মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭ ও ১৮ নভেম্বর। এরপর ১৯ ও ২০ নভেম্বর বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। ২৩ নভেম্বর প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর ২৪, ২৫ ও ২৬ নভেম্বর প্রার্থীদের আপত্তি গ্রহণ ও নিষ্পত্তি হবে।
প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে ২৭ ও ৩০ নভেম্বর। এরপর ৩ ডিসেম্বর প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৪, ৭ ও ৮ ডিসেম্বর, এবং প্রত্যাহারকৃত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে ৯ ডিসেম্বর।
নির্বাচনী প্রচারণা চলবে ৯ ডিসেম্বর থেকে ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। মূল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২২ ডিসেম্বর। নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শেষে তাৎক্ষণিকভাবে গণনা শুরু হবে এবং ২২ থেকে ২৩ ডিসেম্বরের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। ছাত্র সংগঠনগুলো তাদের প্রার্থীদের মনোনয়নপ্রক্রিয়া, প্রচারণা ও ভোটার যোগাযোগ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, এবারকার নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান বলেন, “আমরা চাই শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। এজন্য সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে।”
নির্বাচনের দিন ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি এবং ভোটের দিনই ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়া জকসু নির্বাচনে নতুন উদ্দীপনা যোগ করেছে। শিক্ষার্থীদের মতে, এ নির্বাচন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠবে।