অবৈধ ফোন বন্ধ নয়, বিভ্রান্তি কাটালেন ফয়েজ তৈয়্যব

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৭ বার
অবৈধ ফোন বন্ধ নয়, বিভ্রান্তি কাটালেন ফয়েজ তৈয়্যব

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

অবৈধ মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানি রোধে নতুন ব্যবস্থা চালুর ঘোষণার পর কয়েকদিন ধরে সাধারণ ব্যবহারকারীদের মাঝে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল নানা ধরনের গুজব, বিশেষ করে দেশের ভেতরে বর্তমানে ব্যবহৃত অবৈধ বা বিদেশ থেকে আনা ফোন বন্ধ হয়ে যাবে—এমন ভুল তথ্য মানুষের মনে আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছিল। তবে এই বিভ্রান্তি কাটাতে এগিয়ে এসেছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। তিনি খুব স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের ভেতরে বর্তমানে ব্যবহৃত কোনো মোবাইল ফোনই বন্ধ হবে না, তা যতভাবেই কেনা হোক না কেন।

বুধবার দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে ফয়েজ তৈয়্যব লিখেছেন, জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া ভুল ধারণা দূর করা জরুরি হয়ে উঠেছিল, কারণ অনেকে হঠাৎ করেই উদ্বেগে ভুগছেন, কেউ কেউ আবার ভবিষ্যতের প্রস্তুতি হিসেবে নতুন করে ফোন কেনার পরিকল্পনা করছেন। তিনি জানান, এনইআইআর বা ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রার সিস্টেম চালুর লক্ষ্য হচ্ছে অবৈধ আমদানি রোধ, ক্লোনিং বন্ধ করা এবং নেটওয়ার্ক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এর ফলে যে ফোন ইতোমধ্যেই ব্যবহার হচ্ছে, তা কোনোভাবেই প্রভাবিত হবে না।

ফয়েজ তৈয়্যব তার পোস্টে আরও লিখেছেন, বর্তমানে যে যেকোনো মোবাইল ফোন মানুষ ব্যবহার করছেন, তা বৈধ দোকান থেকে কেনা হোক বা বিদেশ ভ্রমণে কেনা হোক কিংবা দেশে অবৈধ আমদানিকারকদের মাধ্যমে আসুক—কোনো ফোনই বন্ধ হবে না। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, এনইআইআর সিস্টেম চালুর ফলে কেবল নতুন আমদানিকৃত অবৈধ ফোনগুলো নেটওয়ার্কে কাজ করতে পারবে না। এর বাইরে ব্যক্তিমালিকানাধীন এবং পূর্বে ব্যবহৃত কোনো ফোনের ক্ষেত্রে নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিধান নেই।

তার এই বার্তা ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে সেইসব মানুষ, যারা বিদেশ থেকে ফোন এনে ব্যবহার করেন, কিংবা ছুটিতে থাকা প্রবাসীরা যারা পরিবারের জন্য একটি অতিরিক্ত ফোন আনেন, তারা জানেন যে ভবিষ্যতেও তারা সমস্যা ছাড়াই ফোন আনতে পারবেন। ফয়েজ তৈয়্যব জানিয়েছিলেন, বিদেশ ভ্রমণে একজন যাত্রী নিজের ব্যবহারের ফোন ছাড়াও একটি অতিরিক্ত হ্যান্ডসেট আনতে পারবেন—এটি বিদ্যমান নীতিমালার অংশ এবং এতে কোনো পরিবর্তন আসছে না।

এনইআইআর সিস্টেম নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে জল্পনা-কল্পনা থেমে ছিল না। সাধারণ ব্যবহারকারী ছাড়াও অনেক দোকানদার, বিশেষ করে যারা বিদেশ থেকে ফোন এনে বিক্রি করেন, তারাও বিভ্রান্তিতে ছিলেন। কিছু ব্যবসায়ী মনে করছিলেন, ১৬ ডিসেম্বরের পর নেটওয়ার্ক নেবে এমন ফোন বিক্রি করা তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে। অথচ এনইআইআর সিস্টেমের উদ্দেশ্য নতুন করে অবৈধ পথে আসা ফোন বন্ধ করা—চলমান ফোন নিষিদ্ধ করা নয়। বিষয়টি পরিষ্কার না হওয়ায় বিভিন্ন জায়গায় নানা ধরনের ভুল তথ্য ছড়িয়েছে।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এর আগে জানিয়েছিল, এনইআইআর চালু করা হচ্ছে মূলত অবৈধ আমদানিকে নিরুৎসাহিত করতে এবং মোবাইল ফোনের নিরাপত্তা ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে। ফোন ক্লোনিং দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় সমস্যা। অপরাধীরা চুরি করা ফোনের আইএমইআই নম্বর ক্লোন করে অপরাধে ব্যবহার করত, যার ফলে প্রকৃত মালিকরা বিপাকে পড়তেন। নতুন ব্যবস্থা চালু হলে এই ধরনের অপকর্ম করা কঠিন হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও দক্ষতার সঙ্গে ফোন ট্র্যাক করতে পারবে।

তবে সবকিছুর মাঝেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল—মানুষের মনে থাকা আতঙ্ক দূর করা। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিচ্ছিলেন যে তাদের বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়রা ফোন বন্ধ হয়ে যাবে ভেবে রাতারাতি সিম খুলে রেখেছেন, কেউ কেউ আবার নতুন করে বৈধ ফোন কিনতে দোকানে ছুটে গিয়েছেন। ফলে গুজবের পাশাপাশি বাজারেও এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। এই অবস্থায় সরকারের একজন দায়িত্বশীল প্রতিনিধির সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পরিস্থিতি শান্ত করতে সহায়ক হয়েছে।

ফয়েজ তৈয়্যব তার বক্তব্যে ব্যবহারকারীদের আরও সচেতন হতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যেসব ফোন শোরুম থেকে কেনা হয়, তার বৈধতা যাচাই করা খুব সহজ। ফোন কেনার পর একটি এসএমএস পাঠালেই জানা যায় সেটি বৈধ কিনা। তিনি পরামর্শ দেন, নতুন ফোন কেনার আগে সবাই যেন নিশ্চিত হন যে সেটি বৈধ চ্যানেলে এসেছে। এতে ক্রেতারা প্রতারণা থেকে যেমন বাঁচবেন, তেমনি সরকারও অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে আরও সুবিধা পাবে।

এনইআইআর চালুর ঠিক আগমুহূর্তে এই ব্যাখ্যা সরকার ও ব্যবহারকারী উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এখন প্রায় পুরোপুরি মোবাইল নির্ভর। যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন, শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র—সবকিছুতেই মোবাইল ফোন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। তাই ফোন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আতঙ্কে মানুষের মধ্যে যে অসহায়তা তৈরি হয়েছিল, তা খুব দ্রুতই জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারত। ফয়েজ তৈয়্যবের পোস্ট সেই দুশ্চিন্তা অনেকটাই দূর করেছে।

এখন সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মূল চিত্র স্পষ্ট—আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে কোনো নতুন অবৈধ ফোন নেটওয়ার্কে চালু করা যাবে না, তবে বর্তমানে ব্যবহৃত সব ফোন স্বাভাবিকভাবেই চলবে। সরকারও জনস্বার্থের জায়গা থেকে বিষয়টি নিয়ে সক্রিয়। ফলে আশা করা যায়, দেশের মোবাইল ফোন বাজার আরও স্বচ্ছ হবে এবং ব্যবহারকারীরা ভবিষ্যতে আরও নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশে ফোন ব্যবহার করতে পারবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত