প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ভারতের মুম্বাই পুলিশের ‘অ্যান্টি নারকোটিকস’ বিভাগ বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সকালেই জনপ্রিয় নেটপ্রভাবক অরিকে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছে। তবে এই মুহূর্তে অরি ভারতে নেই। মুম্বাই পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন যে তিনি আগামী ২৫ নভেম্বরের আগে দেশে ফিরতে পারবেন না। তাই জবাব প্রদানের জন্য ২৫ নভেম্বরের পর সময় চেয়েছেন।
অরির নাম জড়ানো মামলাটি ২০২৪ সালের মার্চে সংঘটিত একটি বৃহৎ মাদক ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। ওই সময় মহারাষ্ট্রের সাংলি এলাকা থেকে পুলিশ ১২৫.১৪ কেজি ‘এমডি’ নামের মাদক বাজেয়াপ্ত করে। মাদকটির বাজারমূল্য কমপক্ষে ২৫২ কোটি টাকা ধরা হয়েছিল। এ ঘটনায় এক বিশাল মাদকচক্রের সক্রিয়তার তথ্য উঠে এসেছে।
মামলার তদন্তে গত মাসে দুবাই থেকে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের নাম মোহাম্মদ সেলিম শেখ ও মোহাম্মদ সুহেল শেখ। জেরায় তারা জানিয়েছে, মুম্বাইতে একাধিক মাদক পার্টি আয়োজন করা হতো, যেখানে যাতায়াত ছিল অরি ও মুম্বাইয়ের বিভিন্ন খ্যাতনামা তারকাদের। তাদের কথায়, এই পার্টিগুলোতে উচ্চপর্যায়ের সামাজিক ও বিনোদন ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি থাকত।
ধৃত মোহাম্মদ সেলিম শেখের আরও দাবি, মাদক চক্রের সঙ্গে অরির সম্পর্ক ছিল খুব ঘনিষ্ঠ। সেলিম জানিয়েছে, অপরাধমূলক নেটওয়ার্কে অরি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। এ ছাড়া, তিনি বলেছে যে অরির দাউদ নামে পরিচিত এক প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। সেলিমের বক্তব্য অনুযায়ী, দাউদের বোনঝি আলিশা পার্কারকেও এই নেটপ্রভাবকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত দেখানো হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, মুম্বাই পুলিশের তদন্ত এখনো চলমান। অরির দেশে না থাকায় পুলিশ তার থেকে সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারছে না। তবে ২৫ নভেম্বরের পর তিনি দেশে ফিরে আসলে তাকে হাজির করার প্রস্তুতি রয়েছে। মুম্বাই পুলিশের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তদন্তে অরির প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য প্রয়োজন, কারণ ধৃতদের দাবি অনুযায়ী তিনি মাদক চক্রের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগকারী হিসেবে পরিচিত।
মাদকচক্রের এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশের ধারণা, মুম্বাই ও অন্যান্য শহরে এই ধরনের পার্টি এবং মাদকবিনিময় দীর্ঘদিন ধরে চলছে। ধৃতরা জেরায় জানিয়েছে, এসব পার্টিতে কেবল মাদক সেবনই হয়নি, বরং নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ এবং নতুন সদস্য যোগের মাধ্যমে চক্রটি কার্যক্রম চালাচ্ছিল। পুলিশের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অরির সংযুক্তি এই চক্রের কার্যক্রমকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
অরির কর্মকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন বিতর্ক চলছে। নেটিজেনরা এ ঘটনা নিয়ে নানা মন্তব্য করছেন। কেউ বলেছেন, এই ধরনের বিষয় শুধুমাত্র আইনগত নয়, সামাজিকভাবে ও নেট সম্প্রদায়কে সতর্কতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা প্রয়োজন। অন্যদিকে অনেকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোকে আরও দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে প্রভাবশালী নেটব্যক্তিরা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত না হতে পারে।
মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, অরির দেশ ফেরা নিশ্চিত হলে তাকে তৎক্ষণাৎ হাজির করার ব্যবস্থা করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পুলিশের লক্ষ্য চক্রের সম্পূর্ণ কৌশল ও অপরাধমূলক সংযোগ চিহ্নিত করা। এই তদন্ত থেকে প্রাপ্ত তথ্য ভবিষ্যতে মাদক প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে অরির বিদেশে অবস্থান এবং তার সাথে যুক্ত নেটওয়ার্কের খোঁজ মাদকচক্রের কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। তবে পুলিশ জানাচ্ছে, তদন্ত কার্যক্রম থেমে থাকবে না। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং স্থানীয় আইনগত কাঠামোর মাধ্যমে মাদক চক্রের সব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা চালানো হবে।
এই ঘটনায় মুম্বাইয়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা সতর্ক করেছে যে, প্রভাবশালী ব্যক্তি বা নেটপ্রভাবকরা আইন থেকে অব্যাহতি পাবেন না। এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত যে কোনো ব্যক্তিকে আইন অনুযায়ী দায়িত্বের আওতায় আনা হবে।
তবে ধৃতদের দাবি এবং পুলিশি তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। অরির জিজ্ঞাসাবাদ এবং অন্যান্য সাক্ষীদের বিবৃতি সংগ্রহের পর আরও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসবে। মুম্বাই পুলিশ আশা করছে, এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বপ্রাপ্ত করা হবে এবং বড় ধরনের মাদক চক্রের ভাঙন ঘটানো সম্ভব হবে।