প্রি-ডায়াবেটিকদের জন্য জরুরি জীবনযাত্রার পরামর্শ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৮১ বার
প্রি-ডায়াবেটিকদের জন্য জরুরি জীবনযাত্রার পরামর্শ

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

প্রি-ডায়াবেটিস এমন একটি সতর্কতামূলক অবস্থা যা আমাদের শরীরের সঙ্গে সতর্কভাবে আচরণ না করলে দ্রুত টাইপ ২ ডায়াবেটিসে রূপ নিতে পারে। এই অবস্থায় রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকলেও তা এখনও পূর্ণ ডায়াবেটিসের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রি-ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য জীবনযাত্রার সঠিক নিয়ন্ত্রণ, খাদ্যাভ্যাসের সমন্বয় এবং দৈনন্দিন অভ্যাস পরিবর্তনই হলো রোগের অগ্রগতি রোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

প্রথমেই বলা যায়, তরল ক্যালরির ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। চিনি মেশানো পানীয় যেমন সোডা, জুস বা অন্যান্য সফট ড্রিংক রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি করে। প্রি-ডায়াবেটিকদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পানীয় হলো পানি, ব্ল্যাক কফি বা চিনি ছাড়া চা। এই ধরনের পানীয় রক্তে শর্করার হঠাৎ ওঠা-নামাকে নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং শরীরকে স্থিতিশীল রাখে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এই অভ্যাস মেনে চলা হয়, তবে রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণে আশ্চর্যজনক সুবিধা পাওয়া যায়।

দ্বিতীয়ত, নিয়মিত হাঁটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবার খাবারের পর ১০–১৫ মিনিট হালকা হাঁটা করলে রক্তে শর্করার মাত্রা ৩০–৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে। খাবারের পর পেশি কাজ করতে শুরু করলে রক্ত থেকে অতিরিক্ত শর্করা টেনে নিয়ে যায়, ফলে কোষে ক্ষতি কমে এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। এই প্রক্রিয়ায় শরীরের শর্করা ব্যবহার হয় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা পায়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রতিদিন খাবারের পর সংক্ষিপ্ত হাঁটা অভ্যাসটি প্রি-ডায়াবেটিকদের জন্য জীবনধারার অপরিহার্য অংশ হওয়া উচিত।

প্রতি খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণও অত্যন্ত জরুরি। প্রি-ডায়াবেটিক রোগীদের প্রতিটি খাবারে কমপক্ষে ৪০ গ্রাম প্রোটিন রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রোটিন শরীরের রক্তে গ্লুকোজ ধীরে শোষণ করতে সাহায্য করে, দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে এবং রক্তে শর্করার ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে রাখে। এটি ইনসুলিন সেনসিটিভিটিকে বাড়িয়ে দেয় এবং শরীরের অগ্ন্যাশয়কে কম চাপের মধ্যে রাখে। প্রোটিনের অভাব হলে খাবারের পর রক্তে শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি হতে পারে যা প্রি-ডায়াবেটিক অবস্থাকে আরও জটিল করে তোলে।

চতুর্থ পরামর্শ হলো নিয়মিত ইনসুলিন টেস্ট করানো। শুধুমাত্র রক্তে গ্লুকোজ দেখলেই সব বোঝা যায় না। ফাস্টিং ইনসুলিন টেস্ট করা প্রয়োজন, যা দেখায় অগ্ন্যাশয় কতটা কার্যকরভাবে ইনসুলিন তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফাস্টিং ইনসুলিন মান যদি ৫–৭ µIU/mL-এর বেশি হয়, তবে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স শুরু হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে, যদিও রক্তের গ্লুকোজ স্বাভাবিক দেখায়, তবুও প্রি-ডায়াবেটিক রোগীর শরীরের চিহ্নগুলি সতর্কতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংকেত দেয়।

পঞ্চম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ঘুমের আগে খাওয়া বন্ধ রাখা। রাতে খাওয়া হলে শরীরের ইনসুলিন মাত্রা বেশি থাকে এবং তখন শরীর ফ্যাট বার্ন করতে পারে না, বরং এটি জমা হয়। তাই ঘুমানোর কমপক্ষে তিন ঘণ্টা আগে খাবার শেষ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি রাতের সময় শরীরকে বিশ্রাম নিতে সাহায্য করে এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা ঠিক রাখে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, প্রি-ডায়াবেটিক রোগীদের জীবনধারার পরিবর্তন কেবল শারীরিক নয়, মানসিকভাবে ও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ কমানো, সঠিক খাদ্যাভ্যাস—all এইগুলি প্রি-ডায়াবেটিসের অগ্রগতি রোধে সাহায্য করে। এছাড়া, নিয়মিত রক্তের শর্করা পরীক্ষা করাও অপরিহার্য। প্রতিটি রোগীকে তার শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী খাদ্য ও জীবনধারা সমন্বয় করতে হবে।

প্রি-ডায়াবেটিক অবস্থায় সময়মতো সচেতন হলে টাইপ ২ ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব। তরল ক্যালরির ব্যবহার বন্ধ রাখা, প্রতিদিন হাঁটাহাঁটি, পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ, ইনসুলিনের নিয়মিত পরীক্ষা এবং রাতে খাওয়া থেকে বিরত থাকা—এই পাঁচটি পরামর্শ মেনে চললেই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন সম্ভব।

অতএব, যারা প্রি-ডায়াবেটিক অবস্থায় রয়েছেন, তাদের জন্য এটি সতর্কতার ঘণ্টা। এই ছোট পরিবর্তনগুলো আজকের প্রি-ডায়াবেটিক রোগীর জন্য আগামী দিনের সুস্থ জীবন নিশ্চিত করবে। নিজস্ব যত্ন ও সচেতনতার মাধ্যমে প্রতিটি মানুষ তার রক্তে শর্করার মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে এবং স্বাস্থ্যবান, শক্তিশালী জীবন গড়ে তুলতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত