প্রকাশ: ২১ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
পাকিস্তানের ফয়সালাবাদের মালিকপুর এলাকায় শুক্রবার ভোরে একটি আঠা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন এবং স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ফয়সালাবাদ কমিশনারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের কারণ হিসেবে গ্যাস লিকেজের কারণে বয়লার বিস্ফোরণ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তবে পরে অফিসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই কারখানায় কোনো বয়লার ছিল না। মালিকপুর এলাকায় মোট চারটি কারখানা কার্যক্রম চালাচ্ছিল। একটি কারখানায় গ্যাস লিকেজের ফলে আগুন লেগেছে এবং বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর আগুন আশেপাশের অন্যান্য কারখানায় ছড়িয়ে পড়েছে।
বিস্ফোরণের তীব্রতায় কারখানার ভবনের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। বিশেষ করে রাসায়নিক গুদামের ভিতরে বিস্ফোরণ ঘটায় ছাদ ও প্রাঙ্গণের কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আশেপাশের সাত থেকে আটটি বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি শ্রমিকরাও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে। উদ্ধারকারী দল এবং পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেছে।
স্থানীয়রা জানান, বিস্ফোরণের সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকা পড়ে। ধ্বংসাবশেষ অপসারণের কাজ অব্যাহত রয়েছে এবং উদ্ধারকারীরা মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চেষ্টা করছেন। সরকারিভাবে আহতদের চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বিস্ফোরণের সময় আশেপাশের এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কারখানার ছাদসহ বড় অংশ ধসে পড়ায় ধ্বংসক্ষতির পরিধি ব্যাপক হয়েছে। স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছেন। তবে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে বড় ধরনের আর্তনাদ ও ক্ষতি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।
ফয়সালাবাদ কমিশনার জানিয়েছেন, “বিস্ফোরণ এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ার ফলে আশেপাশের এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। আমরা জরুরি পদক্ষেপ নিয়ে আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করছি এবং উদ্ধারকাজ ত্বরান্বিত করছি।”
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বিস্ফোরণের ফলে কয়েকজন শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন। উদ্ধারকারীরা তাদের নিরাপদে বের করতে চেষ্টা চালাচ্ছেন। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস এবং পুলিশ একযোগে কাজ করছে।
স্থানীয়রা জানান, বিস্ফোরণের শব্দ অনেক দূর থেকে শোনা গেছে এবং আশেপাশের এলাকায় কাচের জানালা ও ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারখানার প্রাঙ্গণ ও আশেপাশের বাড়িগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এমন বিস্ফোরণের পর আংশিক ক্ষতি বা আরও ছোট বিস্ফোরণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
এ ধরনের ঘটনায় ভবিষ্যতে পুনরাবৃত্তি রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও কারখানা কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাসায়নিক কারখানা এবং গ্যাস সংযুক্ত শিল্পকেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত নিরাপত্তা পরীক্ষা করা জরুরি।
বিস্ফোরণে আহতদের চিকিৎসা ও নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য বিভাগ একযোগে পালন করছে। উদ্ধারকাজের পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপ থেকে বাকি মানুষ বের করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, ফয়সালাবাদে গত কয়েক বছরে শিল্পাঞ্চলে গ্যাস লিকেজ বা রাসায়নিক কারখানার দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা বারবার নিরাপত্তা বিধি মেনে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন। এই ভয়াবহ বিস্ফোরণও তাই একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।