প্রকাশ: ২১ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ইন্দোনেশিয়ার মধ্য জাভায় প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে ভূমিধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩০ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ শুক্রবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। পাশাপাশি, প্রায় ২১ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকারীরা তাদের সন্ধানে তৎপরভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
গত সপ্তাহে সিলাকাপ শহর এবং বানজারনেগারা অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে ভূমিধস ঘটে। সিলাকাপের উদ্ধারকারীরা এই সপ্তাহে আরও চারটি লাশ উদ্ধার করেছেন। এতে সিলাকাপে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২০ জনে পৌঁছেছে। এখানে এখনো তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র আব্দুল মুহারি বৃহস্পতিবার রাতে এক বিবৃতিতে বলেন, বানজারনেগারায় উদ্ধারকারীরা আরও সাতটি লাশ খুঁজে পেয়েছেন। এতে সেখানে মৃতের সংখ্যা ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। ভূমিধসের ফলে কয়েক ডজন বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া সাতজন আহত হয়েছেন এবং ৯০০-এর বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
মুহারি জানান, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর সদস্যসহ কমপক্ষে ৭০০ উদ্ধারকারী নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ করছেন। তিনি সতর্ক করেছেন যে, বৃষ্টিপাতের কারণে নতুনভাবে ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে। তাই উদ্ধারকাজে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
সিলাকাপ ও বানজারনেগারার স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভূমিধসের সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকা পড়ে। স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল সতর্কভাবে তাদের উদ্ধার করছে। বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী প্রায় ২৪ ঘণ্টা কাজ চালাচ্ছে।
ভূমিধসের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এখনও ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন স্থানীয়দের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি জরুরি সহায়তা প্রদান করছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করছে এবং তাদের পরিবারের পাশে রয়েছে।
এ ধরনের প্রকৃতিক বিপর্যয় সাধারণত বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ক্ষতি ঘটায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে সঠিক সময়ে সতর্কতা গ্রহণ না করলে প্রাণহানি এবং আর্থিক ক্ষতি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে।
উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধার করা তাদের মূল অগ্রাধিকার। এছাড়া ধ্বংসস্তূপ অপসারণের জন্য বিশেষ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। বানজারনেগারা ও সিলাকাপে বহু বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত অবস্থায় আশেপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছেন। তবে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে বড় ধরনের আর্তনাদ এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়জনিত ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব হয়েছে।
বুধবার পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, উদ্ধারকাজের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় মানুষদের জন্য খাদ্য, পানি এবং চিকিৎসা সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া ভবিষ্যতে আরও ভূমিধস রোধে সতর্কতা অবলম্বনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, মধ্য জাভায় প্রতি বর্ষায় বৃষ্টিপাতের কারণে ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। তবে এবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা আগের চেয়ে বেশি হওয়ায় প্রায় ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন ২১ জন। প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল দুর্গতদের সহায়তার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।