কম্বোডিয়ায় বাস দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত, ২৪ আহত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৮ বার
কম্বোডিয়ায় বাস দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত, ২৪ আহত

প্রকাশ: ২১ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

কম্বোডিয়ার কাম্পং থম প্রদেশে বৃহস্পতিবার রাত ৩টায় ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা ঘটে। একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতু থেকে নদীতে পড়ে ১৬ জন নিহত এবং ২৪ জনের বেশি আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার সময় বাসটি উত্তর ওদ্দার মিঞ্চে প্রদেশ থেকে রাজধানী নমপেনে যাচ্ছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চালক সম্ভবত ঘুমিয়ে ছিলেন। তবে নিহতদের মধ্যে চালক আছেন কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয়।

কাম্পং থম প্রদেশের ডেপুটি পুলিশ প্রধান সিভ সোভান্না অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, “বাসে থাকা সকল যাত্রীরাই কম্বোডিয়ার নাগরিক। প্রাথমিকভাবে আমরা অনুমান করছি বাসটিতে প্রায় ৪০ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার সময় চালক ঘুমিয়ে পড়ায় বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে এবং নদীতে পড়ে।”

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে আশপাশের হাসপাতালে পাঠানো শুরু করেন। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।

কম্বোডিয়ার গণপূর্ত ও পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে সড়ক দুর্ঘটনা মারাত্মক রূপ নিয়েছে। ২০২৪ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় এক হাজার ৫০৯ জন নিহত হয়েছেন। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক হাজার ৬২ জন। বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের সড়কে যানবাহনের অপ্রতুল নিয়ন্ত্রণ, দুর্ঘটনাজনিত অব্যবস্থা এবং চালকদের ক্লান্তি ও অসতর্কতা এ ধরনের দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

স্থানীয়রা জানান, বাসটি সিয়েম রিপ থেকে রাতের বেলায় রওনা হয়েছিল। রাতের ভোরে দুর্ঘটনার সময় চালকের ঘুমিয়ে পড়ার কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। নদীতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত পানি প্রবাহ শুরু হওয়ায় যাত্রীদের জীবন রক্ষা করা কঠিন হয়ে ওঠে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তুপ এবং পানির মধ্য থেকে আহতদের উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন, কিন্তু অনেকেই গুরুতরভাবে আহত।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ দুর্ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা ও উদ্ধার কাজ ত্বরান্বিত করেছে। তারা আরও জানিয়েছে যে দুর্ঘটনার পূর্ণ কারণ উদঘাটন করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই ধরনের দুর্ঘটনা দেশের সড়ক নিরাপত্তার মারাত্মক ব্যর্থতার প্রতিফলন। দীর্ঘদিন ধরে বাসের যাত্রী সংখ্যা অযথাযথভাবে বৃদ্ধি এবং যানবাহনের অপ্রতুল নিরাপত্তা ব্যবস্থা এ ধরনের বিপর্যয় ঘটাচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “রাতের অন্ধকারে হঠাৎ একটি বিশাল শব্দ শুনেছি। এরপর দেখলাম বাসটি নদীতে পড়েছে। মানুষ আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার করছিল। অনেককে উদ্ধার করা হয়েছে, কিন্তু অনেকের মৃত্যু হয়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক।”

দুর্ঘটনার প্রভাব শুধু কাম্পং থম প্রদেশেই সীমাবদ্ধ নয়। কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনেও নিরাপত্তা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সরকার বাস পরিবহন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে নির্দেশ দিয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কম্বোডিয়ার সড়ক দুর্ঘটনা প্রায়শই চালকের ক্লান্তি, যানবাহনের অতিরিক্ত যাত্রী বহন, সড়কের অব্যবস্থা ও নিরাপত্তা মান না মানার কারণে ঘটে। ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে এক হাজার ৬২ জন নিহত হওয়া এটিকে চূড়ান্ত উদ্বেগের বিষয় হিসেবে তুলে ধরে।

দেশীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে বাস চালকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, নির্দিষ্ট আরাম সময় এবং যানবাহনের প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা উচিত। এছাড়া সেতু, সড়ক ও পরিবহন অবকাঠামোর উন্নয়ন জরুরি।

কম্বোডিয়ার এই দুর্ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর কাড়ছে। উদ্ধারকাজ এবং আহতদের চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে। কম্বোডিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করছে।

দুর্ঘটনার পর পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছেন, এই ধরনের দুর্ঘটনা পুনরায় না ঘটে তার জন্য পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশার আলো দেখছেন, কিন্তু যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত উদ্বেগ কাটবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত