লাঙ্কাউইয়ে বক্স জেলিফিশের কামড়ে দুই বছর বয়সী রুশ শিশুর মৃত্যু

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৫২ বার
লাঙ্কাউইয়ে বক্স জেলিফিশের কামড়ে দুই বছর বয়সী রুশ শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ২১ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

মালয়েশিয়ার পর্যটন দ্বীপ লাঙ্কাউইয়ের পান্তাই চেনাঙ্গ সৈকতে বক্স জেলিফিশের কামড়ে গুরুতর আহত হওয়া দুই বছর বয়সী রুশ শিশু ভ্লাদিমির ইয়াকুবানেটস বুধবার (১৯ নভেম্বর) সকালে মারা গেছেন। স্থানীয় সুলতানা বাহিয়াহ হাসপাতালের চিকিৎসকরা শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বক্স জেলিফিশের ছোবল থেকে সৃষ্ট জটিলতাই শিশুটির মৃত্যুর মূল কারণ।

ভ্লাদিমিরের বাবা নিকিতা, যিনি রাশিয়ার খাবারোভস্কের একজন আইটি ইঞ্জিনিয়ার, সংবাদমাধ্যমকে জানান, কোনো ব্যক্তির ওপর দোষ চাপানোর উদ্দেশ্য নেই। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, এই মর্মান্তিক ঘটনাটি বক্স জেলিফিশের বিপদ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে কাজ করবে।

নিকিতা বর্ণনা করেন, দুর্ঘটনার সময় ভ্লাদিমির সৈকতের তীরের কাছে অল্প পানিতে ছিল। হঠাৎ সে কেঁদে ওঠে, তখন তার মা তাকে পানি থেকে তুলে দেন এবং পা পরিষ্কার করার জন্য কাপড় আনতে গেলে শিশুর শ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। নিকিতা সিপিআর দিয়ে চেষ্টা করেছেন শিশুটিকে বাঁচানোর, এবং স্থানীয় পর্যটকরাও সাহায্যে এগিয়ে এসেছিলেন।

ভ্লাদিমিরের মৃত্যু নিয়ে নিকিতা জানিয়েছেন, তিনি কোনো আইনি পদক্ষেপ নেবেন না। তবে শিশুটির জীবনই এক সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে, যাতে ভবিষ্যতে সমুদ্রের এই বিপদ থেকে অন্যদের রক্ষা করা যায়। তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, এটাই তার জীবনের উদ্দেশ্য ছিল—অন্যদের রক্ষা করা এবং ভবিষ্যতের ট্র্যাজেডি প্রতিরোধ করা। ভ্লাদিমির খুব দয়ালু এবং বুদ্ধিমান ছিল।”

ভ্লাদিমিরের মা ওলগা বলেন, “আমরা চাই আমাদের ছেলের চলে যাওয়া যেন অর্থপূর্ণ হয়। অল্প বয়সেও অন্যদের সাহায্য করার প্রতি তার আগ্রহ ছিল। আমাদের ছেলে আমাদের নায়ক। সে আমাদের ছোট দেবদূত। প্রতিদিন আমরা তাকে বলতাম যে আমরা তাকে ভালোবাসি, এবং সে সবসময় বলত যে সে আমাদের ভালোবাসে।”

ভ্লাদিমির এবং তার পরিবার ১৪ নভেম্বর মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছিল। প্রাথমিকভাবে শিশুটিকে লাঙ্কাউইর সুলতানা মালিহা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর অবস্থায় তাকে স্থানান্তর করে সুলতানা বাহিয়াহ হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা দ্রুত সেবা দেওয়ার চেষ্টা করলেও, বক্স জেলিফিশের ছোবল থেকে সৃষ্ট জটিলতা থেকে শিশুটিকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

মালয়েশিয়ায় জেলিফিশের ছোবলে মৃত্যুর ঘটনা বিরল হলেও এই ঝুঁকি সুপরিচিত। এর আগে ২০১৮ সালে পেরাকের পুলাউ পাংকোরের তেলুক নিপাহে সাঁতার কাটার সময় বক্স জেলিফিশের কামড়ে পাঁচ বছর বয়সি এক ফরাসি শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, উষ্ণ তুষারময় ও সমুদ্রপ্রধান এলাকায় পর্যটকদের সতর্ক থাকা উচিত এবং ছোট শিশুদের প্রতি বিশেষ নজর রাখতে হবে।

ভ্লাদিমিরের পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সময় তারা জানিয়েছেন, শিশুটির দাহ শেষে তার চিতাভস্ম রাশিয়ায় ফিরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিবার আশা করছে, এই মর্মান্তিক ঘটনা অন্য পর্যটক ও শিশুর পক্ষে সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।

বক্স জেলিফিশের কামড় সাধারণত তীব্র বিষাক্ত হয়ে থাকে, যা দ্রুত চিকিৎসা না করলে শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি এবং তীব্র জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। লাঙ্কাউই এবং মালয়েশিয়ার অন্যান্য পর্যটন দ্বীপগুলোতে চিকিৎসকরা সতর্কতা হিসেবে পর্যটকদের সরাসরি সমুদ্রের পানিতে শিশুদের নিয়ে প্রবেশ না করার পরামর্শ দেন।

ভ্লাদিমিরের বাবা বলেন, “আমরা চাই এই ঘটনা শুধুমাত্র আমাদের পরিবারের দুঃখ না হয়ে অন্যদের শিক্ষণীয় দিক হিসেবে কাজ করুক। শিশুদের সুস্থতা এবং নিরাপত্তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।” পরিবার ভ্লাদিমিরকে মনে রাখবে তার উদারতা, বুদ্ধিমত্তা এবং অন্যদের সাহায্য করার আগ্রহের জন্য।

এভাবে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা শুধু একটি পরিবারকে শোকাহত করেছে না, বরং পর্যটন অঞ্চলে শিশু ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি জাগ্রত বার্তা হয়ে উঠেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com