বোরকা অসম্মান: অস্ট্রেলিয়ার সিনেটরকে এক সপ্তাহের জন্য বরখাস্ত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৯ বার

প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে ধর্মীয় পোশাক বিশেষ করে বোরকা নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা সিনেটর পলিন হ্যানসনকে এক সপ্তাহের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বরখাস্তের পেছনে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, হ্যানসনের কর্মকাণ্ড বোরকার প্রতি স্পষ্ট অসম্মান প্রদর্শন করে এবং এটি মুসলিম সম্প্রদায়কে উপহাসমূলক আচরণের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্য বহন করেছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এই খবর নিশ্চিত করেছে।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার, যখন অভিবাসনবিরোধী ওয়ান নেশন পার্টির কুইন্সল্যান্ড সিনেটর হ্যানসন সিনেটে বোরকা পরে প্রবেশ করেন এবং পুরো মুখ ঢেকে রাখার পোশাক নিষিদ্ধ করার দাবি তোলেন। প্রথমবারের মতো তিনি এই দাবিকে সামনে আনেন, তখন অন্যান্য আইনপ্রণেতারা তার বিল উত্থাপন বন্ধ করে দেন। কিন্তু হ্যানসন এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে আবার বোরকা পরে কক্ষে প্রবেশ করেন, যা সংসদে উপস্থিত অন্যান্য আইনপ্রণেতাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করে।

ঘটনায় উদ্বিগ্ন গ্রিনস পার্টির মুসলিম সিনেটর মেহরিন ফারুকী হ্যানসনের পদক্ষেপকে “স্পষ্ট বর্ণবাদ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। স্বাধীন সিনেটর ফাতিমা পেম্যান ঘটনাটিকে “অপমানজনক” বলে অভিহিত করেছেন। সংসদের সরকারের নেতা পেনি ওং নিন্দা প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং উল্লেখ করেন, হ্যানসনের এই আচরণ “কয়েক দশক ধরে প্রতিবাদ হিসেবে কুসংস্কার প্রচার” করার অনুরূপ।

সিনেটে ভোটাভুটিতে ৫৫–৫ ভোটে পাস হওয়া নিন্দা প্রস্তাবে বলা হয়েছে, হ্যানসনের কর্মকাণ্ড “ধর্মীয় ভিত্তিতে মানুষকে উপহাস ও অপমান করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত” হয়েছে এবং এটি “মুসলিম অস্ট্রেলিয়ানদের প্রতি গভীর অসম্মানজনক”। এমন পরিস্থিতি দেশের পার্লামেন্টে ধর্মনিরপেক্ষতা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত আইন ও নীতিমালার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে।

হ্যানসনের এ ধরনের কর্মকাণ্ড নতুন নয়। ২০১৭ সালে তিনি ইতিমধ্যেই সংসদে বোরকা পরে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার দাবি তোলেন। এছাড়া ২০১৬ সালে সিনেটে তার প্রথম বক্তৃতায় তিনি দাবি করেছিলেন যে অস্ট্রেলিয়া “মুসলমানদের দ্বারা জলাবদ্ধ” হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এ বক্তব্য তার ১৯৯৬ সালের বিতর্কিত মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি ছিল, যেখানে তিনি এশিয়ান সম্প্রদায়কে কেন্দ্র করে এমনই সতর্কবার্তা প্রদান করেছিলেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হ্যানসনের কার্যক্রম শুধু এক ব্যক্তির বিতর্ক নয়, এটি অস্ট্রেলিয়ার সংসদে ধর্মীয় সহনশীলতা ও সামাজিক সমন্বয়কে পুনঃমূল্যায়নের জন্য একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতা ও অধিবাসীরা মনে করছেন, এটি একটি শক্তিশালী বার্তা যে সংসদে ধর্মীয় পোশাক বা মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন সহ্য করা হবে না।

সমালোচকরা আরও উল্লেখ করেছেন, হ্যানসনের কর্মকাণ্ড অনেক সময় সঙ্গতিপূর্ণ নীতি না মেনে নিজের রাজনৈতিক স্বার্থে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বৈষম্যমূলক মন্তব্য এবং পদক্ষেপ গ্রহণ করে। অনলাইন এবং সামাজিক মাধ্যমগুলোতেও এ ঘটনার ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। বিশেষ করে তরুণরা এই ঘটনাকে ধর্মীয় সহনশীলতার উপর আঘাত হিসাবেই দেখেছে।

সংবাদটি পুনঃপ্রমাণ করেছে যে সংসদে নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব পালন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিনেটর হ্যানসনের বরখাস্ত দেশের আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী ধর্মীয় অধিকার ও মানুষের মর্যাদা রক্ষায় একটি দৃঢ় বার্তা হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত