প্রকাশ: ০১ ডিসেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ‘সংকটাপন্ন’ অবস্থায় চিকিৎসাধীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন এই বরেণ্য নেত্রী। তার হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনির সমস্যা চিকিৎসকদের বিশেষ মনোযোগ দাবি করছে। গত ২৩ নভেম্বর হঠাৎ শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়ায় দ্রুত তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি করোনারি কেয়ার ইউনিটে আছেন এবং দেশের পাশাপাশি বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তাঁর চিকিৎসার তত্ত্বাবধান করছেন।
এই পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন মানুষ, রাজনৈতিক নেতারা, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতার জন্য দোয়া করছেন। এই কাতারে যোগ দিয়েছেন ঢালিউডের জনপ্রিয় খল-অভিনেতা এবং চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন, যিনি আরও বেশি পরিচিত ডিপজল নামে। সামাজিক মাধ্যমে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। পোস্টে তিনি লিখেছেন, “প্রিয় দেশবাসী, আমাদের প্রিয় দেশনেত্রীর দ্রুত সুস্থতার জন্য সবাই আন্তরিকভাবে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। আপনাদের প্রতিটি দোয়া হোক তার জন্য আরোগ্যের সৌরভ, শান্তির ছায়া এবং নতুন শক্তির প্রেরণা।”
ডিপজলের এই আহ্বান সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। নেটিজেনরা তার সঙ্গে একমত প্রকাশ করেছেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতা কামনা করেছেন। অনেকে সরাসরি আল্লাহর কাছে দোয়া জানিয়েছেন, আবার অনেকে পোস্টের মন্তব্য ঘরে তাদের আন্তরিক শুভকামনা জানিয়েছেন। এমন প্রার্থনা এবং সমর্থন কেবল সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত আরোগ্যের জন্য নয়, বরং সমাজের মানবিক মনোভাবের প্রতিফলন হিসেবেও দেখা যাচ্ছে।
অভিনেতা ডিপজলের দোয়া ও আহ্বান এমন সময়ে এসেছে যখন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নয়াপল্টনে একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। রিজভী বলেন, “খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে মেডিকেল বোর্ড এখনো কোনো পরামর্শ দেয়নি। বোর্ডের পরামর্শ ছাড়া এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।” তিনি আরও বলেন, সব ধরনের চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এখনো বোর্ডের তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং তাদের পরামর্শ অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
খালেদা জিয়ার বর্তমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতি দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি শারীরিক অসুস্থতার জটিলতায় তার জীবনধারণ অনেকটাই চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে। চিকিৎসা ব্যবস্থার জটিলতা এবং বিভিন্ন রোগের সমন্বয়জনিত সমস্যা সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে আপাতত সম্পূর্ণ বিশ্রাম ও বিশেষ তত্ত্বাবধানের প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করছে।
ডিপজলের আহ্বান শুধুমাত্র প্রার্থনা ও শুভকামনার প্রতিফলন নয়, এটি সমাজের সংহতি ও মানবিক মূল্যবোধেরও প্রকাশ। একজন শিল্পী ও জনসাধারণের পরিচিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি তাঁর প্রভাব ব্যবহার করে দেশের মানুষের মনে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন, যে রাজনৈতিক অবস্থান বা মতভেদের উপরে উঠে মানবিক মূল্যবোধ এবং রোগমুক্তির জন্য একত্রিত হওয়া সম্ভব।
রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে খালেদা জিয়ার অবস্থা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া থাকলেও, দেশের মানুষ এই মুহূর্তে তার সুস্থতার জন্য সমবেদনা প্রকাশ করছেন। মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলমান এবং দেশি-বিদেশি চিকিৎসকরা যৌথভাবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন যাতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দ্রুত আরোগ্য লাভ করেন।
ডিপজলের আহ্বান ও দেশের মানুষের প্রার্থনা এই মুহূর্তে এক ধরনের সমন্বিত মানবিক শক্তি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এটি শুধু রাজনৈতিকভাবে নয়, মানবিক ও সামাজিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। বিপদ, অসুস্থতা বা সংকটের সময়ে মানুষের আন্তরিক প্রার্থনা এবং ইতিবাচক সমর্থন প্রেরণার মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ প্রভাব ফেলে।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো এখনও মেডিকেল বোর্ডের হাতে, এবং বোর্ডের পরামর্শ ছাড়া বিদেশে নেওয়ার বা বিশেষ চিকিৎসার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। এমন পরিস্থিতিতে ডিপজল এবং সাধারণ মানুষের প্রার্থনা ও সহমর্মিতা চিকিৎসা প্রক্রিয়ার পাশাপাশি সামাজিক সমর্থনের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
সংক্ষিপ্তভাবে বলা যায়, ডিপজলের আহ্বান এবং দেশের মানুষের আন্তরিক প্রার্থনা প্রমাণ করে, বিপদ ও অসুস্থতার সময়ে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও একতার মূল্য অপরিসীম। খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য এবং সুস্থতা শুধুমাত্র তার নিজস্ব জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, এটি সমগ্র সমাজের জন্য এক আশার প্রতীকও বটে।










