অক্সফোর্ড ইউনিয়নের প্রথম ফিলিস্তিনি নারী প্রেসিডেন্ট

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫৩ বার
ফিলিস্তিনি নারী আরওয়া হানিন এলরাইশ

প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক স্থাপন করেছেন ফিলিস্তিনি নারী আরওয়া হানিন এলরায়েস। তিনি নির্বাচিত হয়েছেন অক্সফোর্ড ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট হিসেবে, যা ব্রিটেনের অন্যতম প্রাচীন এবং বিশ্বখ্যাত শিক্ষার্থীদের ডিবেটিং সোসাইটি। এই নির্বাচনের মাধ্যমে আরওয়া অক্সফোর্ড ইউনিয়নের ইতিহাসে প্রথম ফিলিস্তিনি হিসেবে শীর্ষ নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করছেন।

অক্সফোর্ড ইউনিয়ন, যা ১৮২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত, বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষার্থী সংগঠন। এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাজনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক বিতর্কের মাধ্যমে চিন্তাভাবনা ও নেতৃত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া মানে শুধু একটি শিক্ষার্থী সংগঠনের শীর্ষ পদে থাকা নয়, বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নেতৃত্ব প্রদর্শনের সুযোগ পাওয়া।

গত মঙ্গলবার, ২৮ নভেম্বর, সকাল সাড়ে ৯টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ইউনিয়নের গুডম্যান লাইব্রেরিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আরওয়া হানিন এলরায়েস ৭৫৭টি ভোট লাভ করেন, যা তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লিজা বারকোভার চেয়ে প্রায় ১৫০টি বেশি। মোট ভোটদানের হার ছিল ১৫২৮ জন, যা আগের টার্মের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ও প্রতিদ্বন্দ্বী উভয়ই দ্বিতীয় বর্ষের পিপিই (দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতি) বিষয়ভুক্ত শিক্ষার্থী এবং বর্তমানে ইউনিয়নের স্ট্যান্ডিং কমিটিতে দায়িত্ব পালন করছেন।

এটি একটি সময়কালে ঘটে যখন অক্সফোর্ড ইউনিয়ন সমালোচনা ও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। চলতি বছর ইউনিয়নে পরপর দুটি অনাস্থা ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথমে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জর্জ আবারানির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়। বিষয়টি গৃহীত হয় যখন জর্জ সামাজিকমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র, ডানপন্থি রাজনৈতিক কর্মী ও ভাষ্যকার চার্লি কার্ক আততায়ীর হত্যার পর উল্লাস প্রকাশ করেন। এই ঘটনায় শিক্ষার্থী সমাজে ব্যাপক নিন্দা ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। অনাস্থা ভোটে জর্জ পরাজিত হন এবং ২৪ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে দাঁড়ান।

জর্জের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে দায়িত্ব নেন মুসা হাররাজ। তবে মুসা হাররাজের বিরুদ্ধেও অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়, কিন্তু তিনি সেই ভোটে টিকে যান। এই অবস্থা একটি অস্থির রাজনৈতিক পরিবেশের জন্ম দেয়, যা অক্সফোর্ড ইউনিয়নের ইতিহাসে বিরল।

একের পর এক বিতর্ক ও নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে আরওয়া হানিন এলরায়েসের বিজয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন আশা ও অনুপ্রেরণা সৃষ্টির প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার নেতৃত্বে ইউনিয়ন কেবল যুক্তি-তর্কের ক্ষেত্রেই নয়, সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখতেও গুরুত্ব দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এলরায়েসের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে সমাজ ও মিডিয়ায় ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তার বিজয় শুধুমাত্র একটি শিক্ষার্থী সংগঠনের জন্য নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্য ও ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের জন্যও একটি অনুপ্রেরণার প্রতীক। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে, যারা শিক্ষাক্ষেত্রে নেতৃত্বের উচ্চ শিখরে পৌঁছানোর জন্য সংগ্রাম করছেন, তার এই সফলতা এক নতুন পথ উন্মুক্ত করছে।

এলরায়েস নির্বাচিত হওয়ার পর নিজের বক্তব্যে বলেন, “এটি শুধু আমার জন্য নয়, পুরো ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমি ইউনিয়নের সকল শিক্ষার্থীকে একত্রিত করে এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে যুক্তি, সহমর্মিতা এবং মানবিক মূল্যবোধকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে।”

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে প্রতিবারই একটি উচ্চ মাত্রার বিতর্ক ও বিশ্লেষণের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখেন। এই নির্বাচন প্রমাণ করে, শিক্ষার্থীরা কেবল একাডেমিক উৎকর্ষতায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং নেতৃত্ব ও নৈতিক দিকনির্দেশনায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

এভাবে, অক্সফোর্ড ইউনিয়নের ইতিহাসে আরওয়া হানিন এলরায়েসের নাম স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার বিজয় প্রমাণ করে যে, আন্তঃসংস্কৃতির ও আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রে নারীরা পুরুষদের সমানভাবে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। ভবিষ্যতে তার নেতৃত্ব শিক্ষার্থীদের মধ্যে অংশগ্রহণ, নৈতিক মূল্যবোধ এবং মানবিক চিন্তাভাবনার নতুন দিকনির্দেশনা প্রদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত