অ্যাতলেটিকোকে হারিয়ে রিয়ালকে পেছনে ফেলে শীর্ষে বার্সা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৪৯ বার
তলেটিকোকে হারিয়ে লা লিগায় শীর্ষে বার্সেলোনা

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

লা লিগার চলতি মৌসুমে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রমেই জমে উঠছে। রিয়াল মাদ্রিদের সাম্প্রতিক ব্যর্থতায় যেই সুযোগ তৈরি হয়েছিল, ঠিক সেই সুযোগটিকেই নিখুঁতভাবে কাজে লাগিয়ে আবারও লিগের শীর্ষে উঠে এসেছে বার্সেলোনা। ক্যাম্প ন্যুয়ের পরিচিত সবুজ ঘাসে মঙ্গলবার রাতে দর্শনীয় ও ছন্দময় ফুটবলের প্রদর্শনীতে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদকে ৩–১ গোলে হারিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নেয় হ্যান্সি ফ্লিকের তরুণ দল। এই জয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে বার্সার ব্যবধান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ পয়েন্টে, যদিও এক ম্যাচ বেশি খেলেছে কাতালানরা।

ম্যাচ শুরুর প্রথম দিক থেকে দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। বার্সেলোনা বল দখলে আধিপত্য বজায় রাখলেও অ্যাতলেটিকো ছিল পাল্টা আক্রমণে প্রাণবন্ত। শুরুতে রাফিনিয়া, লামিনে ইয়ামাল ও ফেরান তরেসদের কয়েকটি প্রচেষ্টা প্রতিপক্ষ ডিফেন্স ও গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় ব্যর্থ হয়। কিন্তু বার্সার প্রথম দিকের আক্রমণগুলো গোলের দেখাই পায়নি। বরং ম্যাচের প্রথম গোলটি আসে অতিথি অ্যাতলেটিকোর পক্ষে।

১৯ মিনিটে রক্ষণভাগ থেকে নাহুয়েল মলিনার লম্বা পাস ধরে অফসাইড ট্র্যাপ ভেঙে এগিয়ে যান অ্যালেক্স বায়েনা। বক্সের ভেতরে ঢুকে ঠাণ্ডা মাথায় গোলরক্ষককে পরাস্ত করে জালে বল পাঠান তিনি। রেফারি প্রথমে অফসাইড ধরলেও ভিএআরের সাহায্যে সিদ্ধান্ত বদলে গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয়। বার্সার সমর্থকদের মধ্যে হতাশার সুর নেমে এলেও দল দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ায়।

গোল হজমের সাত মিনিট পরই বার্সেলোনাকে সমতায় ফেরান রাফিনিয়া। চোট কাটিয়ে ফেরা এই ব্রাজিলিয়ান তার আগের ছন্দের কথাই যেন স্মরণ করিয়ে দেন। পেদ্রির চমৎকার থ্রুবল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে পাশ কাটিয়ে দারুণ দক্ষতায় বল জালে পাঠান তিনি। সেই মুহূর্তে ক্যাম্প ন্যু যেন উল্লাসে কেঁপে ওঠে। সমতার পর বার্সার খেলায় গতি আরও বেড়ে যায়। একের পর এক আক্রমণ সাজাতে থাকেন ইয়ামাল, পেদ্রি ও লেভানদোভস্কি।

২৯ মিনিটে পেনাল্টির সুযোগও পায় স্বাগতিকরা। কিন্তু এই বড় সুযোগ নষ্ট করেন অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড রবার্ট লেভানদোভস্কি। স্পট কিক থেকে তার নেওয়া শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে বাইরে চলে যায়। ফলে লিড নেওয়ার সম্ভাবনা হাতছাড়া হয় বার্সার। তবে বিরতির পর মাঠে নেমে আরও সংগঠিত ও দৃঢ়চেতা বার্সেলোনা দেখা যায়।

দ্বিতীয়ার্ধে ৬৫ মিনিটে অবশেষে গোল পায় বার্সেলোনা। অসাধারণ সমন্বয় ও সৃজনশীলতায় গড়া এই গোলটি আসে দানি ওলমোর পা থেকে। লেভানদোভস্কিকে বল দিয়ে নিজেই বক্সে ঢুকে পড়েন ওলমো। জটলার ভেতর থেকে ফিরতি বল পেয়ে বাঁ পায়ের কোনাকুনি শটে বল পাঠান জালের ভেতর। এই গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের পক্ষে নিয়ে নেয় বার্সেলোনা। অ্যাতলেটিকো চেষ্টা করলেও বার্সার ডিফেন্স আর ডি জং–কুন্দে জুটির শক্ত শৃঙ্খলার সামনে তারা খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।

যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে বার্সার হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন ফেরান তরেস। ডানদিক থেকে আলেহান্দ্রো বালদের নিখুঁত পাস ছয় গজ বক্সের বাইরে পেয়ে কোন ভুল না করে বল জালে জড়ান তিনি। এই গোল নিশ্চিত করে বার্সার বড় জয়ের আনন্দ। ম্যাচের বাকি সময় আর কোনো গোল না হওয়ায় ৩–১ ব্যবধানেই মাঠ ছাড়ে দুই দল।

এই জয়ে ১৫ ম্যাচে ৩৭ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করে বার্সেলোনা। দলটি এখন পর্যন্ত জিতেছে ১২টি ম্যাচ, ড্র করেছে একটি এবং হারেছে মাত্র দুইটি। অন্যদিকে, ১৪ ম্যাচে ৩৩ পয়েন্ট নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ আছে দ্বিতীয় স্থানে। আজ অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে জিততে পারলে শাবি আলনসোর দল ব্যবধান কমিয়ে আবারও এক পয়েন্টে আনতে পারবে।

অ্যাতলেটিকোর জন্য এটি ছিল হতাশাজনক রাত। টানা ছয় ম্যাচ জয়ের দুর্দান্ত ধারায় থাকা দলটি ক্যাম্প ন্যুয়ে এসে একপ্রকার থমকে গেল। এই হারেও তারা ৩১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চার নম্বরে রয়েছে। মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই হার তাদের আত্মবিশ্বাসে কিছুটা আঘাত করলেও সামনে সুযোগ আছে ঘুরে দাঁড়ানোর।

ম্যাচ শেষে বার্সা সমর্থকদের চোখে মুখে ছিল স্বস্তি ও আত্মবিশ্বাস। তরুণদের উন্নতি, কোচ ফ্লিকের কৌশলগত পরিকল্পনা এবং আক্রমণভাগের ধার—সবকিছু মিলিয়ে দলটি এই মৌসুমে ঘুরে দাঁড়ানোর স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে ইয়ামাল, রাফিনিয়া ও পেদ্রি—এই তরুণ ত্রয়ীর সমন্বয় বার্সেলোনা আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

লা লিগার মৌসুম এখনো অনেকটাই বাকি। কিন্তু রিয়ালের টানা পয়েন্ট হারানো, বার্সার ধারাবাহিকতা ও অ্যাতলেটিকোর মাঝে মাঝে দুর্বল হয়ে পড়া—সব মিলিয়ে শিরোপার দৌড় বেশ জমে উঠেছে। সমর্থকরাও তাই আশা করছেন—এ মৌসুমের শেষভাগে কঠিন লড়াই দেখতে পাবেন তাঁরা, যেখানে বার্সেলোনা আবারও শিরোপা দৌড়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান বজায় রাখতে চাইবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত