চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্র ৩২৫৮ ভারতীয় নাগরিক ফেরত পাঠালো

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২৪ বার

প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র মোট ৩ হাজার ২৫৮ জন ভারতীয় নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। এটি এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক ফেরত পাঠানোর ঘটনা, যা ২০০৯ সালের পর থেকে এই রেকর্ড গড়েছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর রাজ্যসভায় এ তথ্য জানিয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোও বিষয়টি প্রকাশ করেছে।

২০০৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসনের শিকার হওয়া ভারতীয় নাগরিকদের মোট সংখ্যা এখন ১৮ হাজার ৮২২ জনে পৌঁছেছে। এসব ভারতীয় নাগরিক মূলত বিভিন্ন কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ নথিপত্র ছাড়াই অবস্থান করছিলেন, এবং প্রশাসনিক কারণে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এক প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ফেরত পাঠানো ৩ হাজার ২৫৮ জন ভারতীয় নাগরিকের মধ্যে ২ হাজার ৩২ জন সাধারণ বাণিজ্যিক ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন। বাকি ১ হাজার ২২৬ জনকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ বিশেষ চার্টার ফ্লাইটের মাধ্যমে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই চার্টার ফ্লাইটের মধ্যে প্রথমে ফেব্রুয়ারিতে একটি সামরিক বিমান ব্যবহার করা হয়েছিল, যেখানে শতাধিক ভারতীয় নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। এমনকি, সেই সময় কিছু ব্যক্তিকে নিরাপত্তার কারণে শিকল পরানোও হয়েছিল।

তুলনামূলকভাবে দেখা যায়, ২০২৪ সালে ফেরত পাঠানো ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৩৬৮ জন এবং ২০২৩ সালে মাত্র ৬১৭ জন। বর্তমান বছরের এই হঠাৎ বৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি ও কঠোর প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ফলাফলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় সাত লাখ ২৫ হাজার অবৈধ ভারতীয় অভিবাসী বসবাস করছে। এটি মেক্সিকো ও এল সালভাদরের পর তৃতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যা। অবৈধ বা নথিপত্রহীন অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে থাকা নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে মার্কিন প্রশাসন অতিসক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর নথিপত্রহীন ও অবৈধ অভিবাসীদের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেয়ার ঘোষণা দেন। তাঁর প্রশাসন থেকে প্রায় ১৮ হাজার ভারতীয়কে অবৈধভাবে প্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এরপর ফেব্রুয়ারিতে সেই নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়।

এই কার্যক্রমে ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষ সামরিক বিমানের পাশাপাশি চার্টার ফ্লাইট। নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কারণে কিছু ফেরত পাঠানো ব্যক্তির হাতে শিকল পরানো হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের নজরেও এসেছে। তবুও মার্কিন প্রশাসন এ পদক্ষেপকে ‘আইনগত ও নিরাপত্তা প্রয়োজনে’ অপরিহার্য বলে দাবি করেছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই ফেরত কার্যক্রমের সঙ্গে দেশীয় কনসুলেট ও দূতাবাস জড়িতভাবে কাজ করছে। ফেরত পাঠানো নাগরিকদের বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে নিরাপদে হস্তান্তর করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় ভারত সরকার প্রয়োজনে পুনর্বাসন ও সহায়তার ব্যবস্থা করছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বৈশ্বিক অভিবাসন নীতি ও সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ আগামী বছরেও অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠানো এই সংখ্যার বৃদ্ধি শুধু ভারতীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে না, বরং বৈশ্বিকভাবে অভিবাসন ও সীমান্ত নিরাপত্তা নীতির প্রভাবও ফুটিয়ে তুলছে। বিশেষত, ব্যবসায়িক, শিক্ষাগত বা পরিবারিক কারণে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে।

এদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় দূতাবাসগুলো ফেরত পাঠানো নাগরিকদের জন্য আইনগত সহায়তা, পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুতির কাজ করছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রত্যেক ফেরত প্রাপ্ত ভারতীয় নাগরিককে মানবিক ও সুরক্ষিত পরিবেশে দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সংস্থা, মানবাধিকার পর্যবেক্ষক এবং অভিবাসন বিশেষজ্ঞদেরও নজর কাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নীতি ও তার বাস্তবায়ন ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফলে, চলতি বছরে ৩২৫৮ ভারতীয় নাগরিককে ফেরত পাঠানোর ঘটনা শুধু সংখ্যা নয়, বরং বৈশ্বিক অভিবাসন নীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও মানুষের নিরাপত্তা বিষয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত