নকল ঔষধ কারখানা ধ্বংস, মালিক জরিমানা ৫০ হাজার টাকা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬৫ বার

প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলায় একটি নকল ঔষধ ও খাদ্য কারখানার সন্ধান পাওয়া যাওয়ার পর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর তৎপরভাবে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল ঔষধ ও খাদ্য সামগ্রী উদ্ধার করেছে। এই অভিযানে শুধু নকল মালামালই বাজেয়াপ্ত হয়নি, বরং কারখানা মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং উদ্ধারকৃত নকল সামগ্রী ভস্মীভূত করা হয়েছে, যা স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অভিযান পরিচালনা করা হয় নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাজেডুমরিয়া সরকারপাড়া গ্রামে। কারখানার মালিক গোলাম রব্বানী, যিনি স্থানীয়দের মধ্যে পরিচিত ছিলেন, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তিনি নকল ঔষধ ও খাদ্য সামগ্রী প্রস্তুত ও বাজারজাত করার ব্যবসা চালাচ্ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তার কারখানায় ক্যালসিয়াম ও ওমেপ্রাজল গ্রুপের নকল ঔষধ তৈরি করা হতো, যা সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শামসুল আলম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা নকল ঔষধ ও খাদ্য কারখানার অবস্থান শনাক্ত করেন। সোমবার দুপুরে জেলা ঔষধ তত্ত্বাবধায়ক মিতা রায়ের নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান শেষে বিপুল পরিমাণ নকল ঔষধ এবং খাদ্য সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় তিন লক্ষ টাকা।

অভিযানকালে দেখা যায়, কারখানার ভেতরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্যাকেটজাত নকল ঔষধ তৈরি হতো। যেসব ঔষধ বাজারে ছড়িয়ে দিতো, তা মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলত। এছাড়া নকল খাদ্য সামগ্রীও সেখানে তৈরি হতো, যা খাদ্য নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘন করত। এই ধরনের কার্যক্রম শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবন এবং স্বাস্থ্যকে সরাসরি হুমকিতে ফেলে।

গোলাম রব্বানীর বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। উদ্ধারকৃত নকল ঔষধ এবং খাদ্য সামগ্রী ভস্মীভূত করা হয় যাতে এগুলি পুনরায় বাজারে প্রবেশ করতে না পারে। একই সঙ্গে মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এই জরিমানা ও ভস্মীভূত পদক্ষেপই সমাজে সতর্কবার্তা প্রদান করে যে, নকল ও ভেজালজাত কার্যক্রম গ্রহণযোগ্য নয়।

জেলা ঔষধ তত্ত্বাবধায়ক মিতা রায় জানান, “নকল ঔষধ ও খাদ্য সামগ্রী মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক। তাই এর উৎপাদন ও বাজারজাত রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কারখানার মালিককে আইন অনুযায়ী দায়িত্বের আওতায় আনা হয়েছে। এমন অভিযান ভবিষ্যতে নকল ঔষধ নির্মূল ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে নকল ঔষধ ও খাদ্য সামগ্রী বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছিল, কিন্তু সাধারণ মানুষ কখনও ভাবতেও পারেনি যে এর পেছনে এমন অবৈধ ও বিপজ্জনক উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে। কারখানা ধ্বংস ও মালিকের জরিমানা আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নকল ঔষধ ও খাদ্য সামগ্রী শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, বরং মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। তাই সরকারের সংস্থা, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, জেলা ঔষধ তত্ত্বাবধায়ক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একযোগে পদক্ষেপ নেয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতে অন্যান্য অবৈধ ও নকল কারখানাকে সতর্ক করবে।

গোলাম রব্বানীর কারখানা ধ্বংসের ঘটনাটি সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকেও শিক্ষণীয়। এটি প্রমাণ করে যে, স্বল্প পরিমাণ দণ্ড বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়িক লাভের জন্য কেউ মানুষ এবং সমাজের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। তবে এই ধরনের আইনগত পদক্ষেপ ও নজরদারি সমাজে সতর্কতার সংস্কৃতি গড়ে তোলে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এই অভিযান কেবল নীলফামারীতে নয়, সারাদেশে নকল ঔষধ ও খাদ্য সামগ্রী উৎপাদন ও বাজারজাতের বিরুদ্ধে একটি মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে। সাধারণ মানুষও এখন আরও সচেতন হচ্ছে যে, বাজারে ক্রয়কৃত ঔষধ ও খাদ্য সামগ্রী নিয়ন্ত্রণ ও অনুমোদিত সংস্থা দ্বারা যাচাই করা হয়েছে কি না।

অভিযানের সময় স্থানীয়রা উপস্থিত থেকে দেখেছেন, কতটা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নকল সামগ্রী তৈরি হচ্ছিল। এই দৃশ্য একদিকে যেমন চমকপ্রদ ছিল, অন্যদিকে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা বলছেন, সরকার ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সতর্ক পদক্ষেপই সাধারণ মানুষকে নিরাপদ রাখতে পারে।

এই ধরনের অভিযান আরও বড় পরিসরে চালানো প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নকল ঔষধ ও খাদ্য উৎপাদন বন্ধ করতে জেলা পর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিং, আইন প্রয়োগ এবং শিক্ষামূলক প্রচারণা অত্যন্ত জরুরি। এটি শুধু জনস্বাস্থ্য রক্ষা করবে না, বরং বৈধ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্যও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করবে।

এই অভিযানের ফলাফল স্বরূপ, নকল ঔষধ কারখানার মালিককে আইনের আওতায় আনা ও জরিমানা করা হলো, যা অন্যান্য সম্ভাব্য অপরাধীদের সতর্ক করবে। এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং নকল ও ভেজালজাত উৎপাদন প্রতিরোধে সমাজে ইতিবাচক বার্তা প্রদান হবে।

নকল ঔষধ কারখানার ধ্বংস ও মালিকের জরিমানা শুধু একটি স্থানীয় ঘটনা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় উদাহরণ যে, আইন প্রয়োগ ও সরকারি তদারকি জনস্বাস্থ্য রক্ষায় কতটা কার্যকর হতে পারে। এটি ভবিষ্যতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত