বাংলাদেশ ব্যাংক শিথিল করবে মুদ্রানীতি, কমতে পারে সুদের হার

নিজস্ব সংবাদদাতা
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৯ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৪ বার
নির্বাচন পর্যন্ত ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিদেশযাত্রায় বিধিনিষেধ

প্রকাশ: ০৯ জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ধীরগতির প্রভাব মোকাবেলায় এবং শিল্প উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক শিগগিরই শিথিল মুদ্রানীতির ঘোষণা করতে যাচ্ছে। চলতি জুলাই মাসের শেষ নাগাদ প্রকাশিত হবে নতুন মুদ্রানীতি, যেখানে কড়াকড়ি থেকে কিছুটা সরে এসে একটি নমনীয় নীতি গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে।

এই নীতিমালা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে পরিকল্পিত। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর পরামর্শ অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিগত সুদের হারে সামান্য সমন্বয় আনতে প্রস্তুত বলে জানা গেছে। এর ফলে ঋণের সুদহার কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ব্যবসায়ী এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মনোভাব নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সুদের হার বাড়িয়ে সাড়ে আট শতাংশ থেকে দশ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছিল। যদিও এতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে, তবে এতে বেসরকারি বিনিয়োগের গতিকে বাধাগ্রস্ত করার আশঙ্কা প্রকাশ হয়েছে।

বাণিজ্যিক সংগঠনগুলোর নেতারা দীর্ঘদিন ধরে মুদ্রানীতির শিথিলকরণের দাবি জানিয়ে আসছেন। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা আশা করছি আসন্ন নীতিমালা বিনিয়োগবান্ধব হবে এবং ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে। সুদহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর মাধ্যমে বিনিয়োগে নতুন প্রাণ সঞ্চারিত হবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘যদি আমরা সংকোচনমূলক নীতি অব্যাহত রাখি, তাহলে বিনিয়োগবান্ধক পরিবেশ সৃষ্টি হবে না। আমরা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে কিছু সফলতা পেয়েছি, যদিও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়নি। তাই এবার আমরা একটু ভিন্ন পদ্ধতি গ্রহণ করব, যা হয়তো আগের মতো সংকোচনমূলক হবে না।’

অর্থনীতিবিদরা বলেন, মুদ্রাস্ফীতি শুধু সুদের হার বাড়িয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ বলেন, ‘মুদ্রাস্ফীতি মূলত সরবরাহ শৃঙ্খলের সমস্যা থেকে উদ্ভূত। তাই সুদের হার বাড়ালেই মুদ্রাস্ফীতি কমবে না। আমাদের সরবরাহ শৃঙ্খলকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে হবে।’

বিশ্লেষকরা একমত, সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি, যদিও তা বাস্তবায়ন করা কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। এছাড়া, বিনিময় হার, টাকার অবমূল্যায়ন ও ঋণের ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি গত কিছুদিনে ৮ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক।

অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, শিল্প উৎপাদন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ধীরগতি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংক শীঘ্রই একটি নমনীয় মুদ্রানীতি গ্রহণের পথে রয়েছে। নতুন নীতিমালায় মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ঝুঁকি মোকাবেলায় কতটা প্রস্তুত সেটিও প্রতিফলিত হবে।

নতুন মুদ্রানীতি দেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে কতটা ভূমিকা রাখতে পারে, তা দেখার জন্য আর্থিক ও ব্যবসায়িক মহলও অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত