প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেছেন, ডিজিটাল যুগে ডাক বিভাগকে আধুনিক, দ্রুতগামী এবং জনগণের সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে নবীন কর্মকর্তাদের সততা, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী মানসিকতা অপরিহার্য। তিনি জানান, শুধুমাত্র প্রযুক্তি ব্যবহার করলেই কার্যক্রমের মান বৃদ্ধি পাবে না; কর্মকর্তাদের নৈতিকতা, দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান ছাড়া আধুনিক ডাক ব্যবস্থা কার্যকর হওয়া সম্ভব নয়।
আজ বুধবার বাংলাদেশ পোস্টাল একাডেমিতে চলমান চার সপ্তাহব্যাপী ইন্ডাকশন কোর্সের সান্ধ্যকালীন সেশনে অনলাইনে (জুম প্ল্যাটফর্ম) যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফয়েজ আহমদ এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের কর্মকর্তাদের উদ্ভাবনী মানসিকতা ডাক ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের মূল চাবিকাঠি। প্রতিটি কর্মকর্তার দায়িত্বশীলতা, সময়ানুবর্তিতা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা নিশ্চিত করবে সেবার গুণগত মান বৃদ্ধি ও জনগণের সন্তুষ্টি।
বিশেষ সহকারী আরও বলেন, ডিজিটালাইজড অ্যাড্রেস ম্যানেজমেন্ট, লাস্ট-মাইল ডেলিভারি, ট্র্যাকিংয়ের নির্ভুলতা এবং সার্বিক লজিস্টিক্স ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বহুগুণে বাড়াবে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডাক বিভাগের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। তিনি উদাহরণ হিসেবে সিএলটিপি (CLTP) সিস্টেমের উল্লেখ করেন, যা দেশের পার্সেল মুভমেন্টকে রিয়েল-টাইমে ট্র্যাক করার মাধ্যমে সাপ্লাই চেইন, সরকারি আর্থিক কার্যক্রম এবং পার্সেল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিয়ে আসবে।
ফয়েজ আহমদ বলেন, “ডিজিটাল পার্সেল ব্যবস্থাপনা, অনলাইন ট্র্যাকিং, ই-কমার্স লজিস্টিক্স, ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, রেমিট্যান্স এবং সরকারি ভাতা বিতরণ—এসব ক্ষেত্রেই ডাক বিভাগের ভূমিকা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভবিষ্যতে আমাদের লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে সময়মতো, নির্ভুল এবং নিরাপদ সেবা পৌঁছে দেওয়া।” তিনি আরও জানান, স্মার্ট ডাকঘর গড়তে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার, আর্থিক শৃঙ্খলা, সাইবার নিরাপত্তা, সময়ানুবর্তিতা ও অভিযোগ নিষ্পত্তিতে কর্মকর্তাদের দক্ষতা অপরিহার্য।
বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ বলেন, নবীন কর্মকর্তাদের জন্য এই ইন্ডাকশন কোর্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধুমাত্র শিখন নয়, বরং কর্মকর্তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা এবং উদ্ভাবনী মনোভাব বিকাশের একটি সুযোগ। তিনি বলেন, “যদি একজন কর্মকর্তা সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে এবং প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারে, তবে সে শুধু নিজ দায়িত্বই সম্পন্ন করবে না, বরং পুরো প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নেবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ডিজিটালাইজেশন শুধু প্রশাসনিক কাজ সহজ করবে না, বরং সাধারণ নাগরিকরা ডাক বিভাগের সেবার মানও অনুভব করবে। ফয়েজ আহমদ বলেন, “একটি আধুনিক ডাক ব্যবস্থা হবে দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম এবং জনসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রযুক্তি এবং দক্ষ কর্মকর্তার সমন্বয়ে এটি জনগণের জন্য আরও বিশ্বাসযোগ্য এবং ফলপ্রসূ হবে।”
অনুষ্ঠানে ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পোস্টাল একাডেমির অধ্যক্ষ, প্রশিক্ষকবৃন্দ এবং রাজশাহীস্থ ডাক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই একমত পোষণ করেন যে, আধুনিক ডাক বিভাগ গড়ে তোলার জন্য সততা, দক্ষতা ও প্রযুক্তি-জ্ঞান মূল ভিত্তি। এছাড়া উপস্থিত কর্মকর্তারা কর্মকর্তাদের উদ্ভাবনী মানসিকতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং নতুন প্রজন্মের আগ্রহকে প্রশংসা করেন।
ফয়েজ আহমদ আরও বলেন, “ডাক বিভাগের কার্যক্রমে প্রযুক্তি ব্যবহার শুধুমাত্র সময় বাঁচাবে না, বরং দেশের আর্থিক লেনদেন ও সেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। প্রত্যেক কর্মকর্তা যদি নিজের দায়িত্বের প্রতি সততা ও নিষ্ঠা প্রদর্শন করেন, তবে ডাক বিভাগ হবে দেশের সবচেয়ে দ্রুত, আধুনিক এবং বিশ্বাসযোগ্য প্রতিষ্ঠান।”
বাংলাদেশ পোস্টাল একাডেমির এই চার সপ্তাহব্যাপী ইন্ডাকশন কোর্সে নবীন কর্মকর্তারা বিভিন্ন দিক থেকে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। এতে ডিজিটাল লজিস্টিক্স, আধুনিক পার্সেল ব্যবস্থাপনা, ই-কমার্স লজিস্টিক্স, রেমিট্যান্স কার্যক্রম এবং সরকারি ভাতা বিতরণের কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া কর্মকর্তারা সাইবার নিরাপত্তা, সময়ানুবর্তিতা, গ্রাহক সেবা ও অভিযোগ নিষ্পত্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন।
ফয়েজ আহমদ সবশেষে বলেন, “আমরা চাই, প্রতিটি কর্মকর্তা শুধু কাজের দক্ষতা দেখাবে না, বরং উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা ও সততার মাধ্যমে ডাক বিভাগের সেবার মান উন্নত করবে। ডিজিটাল যুগে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার, দক্ষতা ও সততার সমন্বয়ে ডাক বিভাগ হবে দেশের জন্য একটি শক্তিশালী এবং নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান।”
এবারের ইন্ডাকশন কোর্সের উদ্দেশ্য হলো নবীন কর্মকর্তাদের আধুনিক ডাক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে পরিচিত করা, তাদের দক্ষতা ও উদ্ভাবনী মানসিকতা বৃদ্ধি করা এবং সেবা বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। ডিজিটালাইজড ডাক ব্যবস্থা দেশব্যাপী নাগরিকদের কাছে নিরাপদ, দ্রুত এবং বিশ্বাসযোগ্য সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।